ছোট চাচা দিপুর ভক্ত ছিল তিন বছরের শিশু আরাফাত। বুধবার সন্ধ্যায় বাবা মো. আলীর সঙ্গে যায় চকবাজারের কামাল টাওয়ারের অপু স্টোরে চাচার কাপড়ের দোকানে। দোকান বন্ধ করে বুধবার রাতে ভাতিজা, দুই ভাই মোহাম্মদ আলী ও অপুর সঙ্গে বাড়ি ফিরছিলেন দিপু। পুরান ঢাকার চকবাজারের ওয়াহেদ মেনশনে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে তিন বছরের শিশু আরাফাত, মো. আলী ও অপুর। তাদের থেকে একটু সামনে থাকায় প্রাণে বেঁচে যান দিপু।
অগ্নিদগ্ধ হওয়ার পর আহত আলী রাত ১০টা ১০ মিনিটে ছোট ভাই দিপুকে ফোন করেন। কিন্তু ফোন রিসিভ করতে পারেননি দিপু। পরে ফিরতি ফোন করলে রিসিভ করেননি বড় ভাই আলী। ততক্ষণে লাশ হয়ে গেছেন আলী, অপু ও আরাফাত। ঢাকা মেডিকেল মর্গের সামনে বিলাপ করতে করতে দিপু বলেন, ‘ভাইয়ের শেষ ফোন ধরা হলো না আমার। আর কোনোদিন ভাই ফোন করবে না।’ তিনি আরও বলেন, ‘আরাফাত আমার সঙ্গে দেখা করতে দোকানে যায়।’
দিপু জানান, বড় ভাই মোহাম্মদ আলীর স্ত্রী সাত মাসের গর্ভবতী। নিহত অন্য ভাই অপুর তিন মাসের একটি বাচ্চা রয়েছে। রহমতগঞ্জ ছাড়া মসজিদ এলাকায় তিন ভাই একসঙ্গে থাকেন। গতকাল সকাল থেকে ঢামেকে লাশের জন্য অপেক্ষা করছিলেন পরিবারের সদস্যরা। দিপুর দুলাভাই মনির হোসেন দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘মেয়েদের হোসিয়ারির দোকান ছিল আমাদের। আমরা রাতে দোকানের হিসাব শেষ করে বের হই। আমি বাসায় গিয়ে অগ্নিকা-ের খবর পাই। দ্রুত ঘটনাস্থলে গেলেও আর তাদের কোনো খবর পাইনি। পরে রাতেই ঢামেকে এসে লাশ শনাক্ত করেছি।’ তিনি আরও বলেন, ‘দুপুর হয়ে গেল তবুও লাশ নিতে পারলাম না।’ গতকাল ঢাকা মেডিকেলের মর্গে চকবাজারের অগ্নিকা-ের ঘটনায় নিহতদের লাশ চিহ্নিত ও বিতরণ করতে হিমশিম খেতে দেখা গেছে কর্তৃপক্ষকে।