মাতৃভাষার টানে কাঁটাতারের বেড়া পেরিয়ে মিলনমেলা

মহান শহীদ দিবস ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসে মাতৃভাষার টানে মানুষের মিলনমেলায় একাকার হয়ে যায় ভারত-বাংলাদেশ সীমান্ত। গতকাল বৃহস্পতিবার সকালে বেনাপোল ও হিলিসহ বিভিন্ন সীমান্তের শূন্যরেখায় দুই বাংলার হাজার হাজার মানুষের সমাগম হয়। অস্থায়ী শহীদ বেদিতে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানান দুই বাংলার সরকারের প্রতিনিধি, রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বসহ সামাজিক, ব্যবসায়ী ও
 সাংস্কৃতিক সংগঠন। বিজিবি-বিএসএফ জাতীয় পতাকা ও ফুল দিয়ে শুভেচ্ছা বিনিময় করে। জাতীয় পতাকা উড়িয়ে হাজার হাজার মানুষ ভাষার টানে বাঁধনহারা আবেগের কাছে মিলেমিশে একাকার হয়ে যান। নানা রঙের ফেস্টুন, ব্যানার, প্ল্যাকার্ড, আর ফুল দিয়ে বর্ণিল সাজে সাজানো হয় নো ম্যান্স ল্যান্ড এলাকা। নিরাপত্তা বেষ্টনী পেরিয়ে প্রাণের টানে ছুটে এসে একে অপরকে বুকে জড়িয়ে ধরেন দুই বাংলার মানুষ। ফুলের পাপড়ি ছিটিয়ে মিষ্টি বিতরণ করে উভয় পক্ষ পরস্পরকে বরণ করে নেয়। দেশ রূপান্তরের প্রতিনিধিদের পাঠানো খবরে বিস্তারিত প্রতিবেদন। বেনাপোল (যশোর) : গতকাল সকালে বেনাপোল-পেট্রাপোল চেকপোস্টে ঢল নামে হাজার হাজার মানুষের; ক্ষণিকের জন্য হলেও স্তব্ধ হয়ে যায় আন্তর্জাতিক সীমারেখা। সকাল সাড়ে ৯টায় বাংলাদেশের স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী স্বপন ভট্টাচার্য্য, সংসদ সদস্য শেখ আফিল উদ্দিন, কাস্টমস কমিশনার বেলাল হোসেন চৌধুরী, যশোরের জেলা প্রশাসক আবদুল আওয়াল, পুলিশ সুপার মঈনুল হক, ৪৯ বিজিবির অধিনায়ক মেজর নজরুল ইসলাম এবং ভারতের পশ্চিমবঙ্গ সরকারের খাদ্য ও সরবরাহমন্ত্রী শ্রী জ্যোতিপ্রিয় মল্লিক, লোকসভার সদস্য মমতা ঠাকুর, উত্তর ২৪ পরগনা জেলা পরিষদের সভাধিপতি শ্রীমতী বীণা মণ্ডল, বিধানসভার সদস্য বিশ্বজিৎ দাস, বনগাঁ পৌরসভার মেয়র শংকর আঢ্য নোমান্সল্যান্ডে নির্মিত অস্থায়ী শহীদ বেদিতে যৌথভাবে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানান। বেনাপোল ও বনগাঁও পৌরসভা যৌথভাবে এই মিলনমেলার আয়োজন করে। অনুষ্ঠানে পশ্চিমবঙ্গের মন্ত্রী জ্যোতিপ্রিয় বলেন, ‘আমি বাঙালি, এটা আমার অহংকার, কাঁটাতারের বেড়া আমাদের বন্ধনকে আটকাতে পারবে না, আগামী ২০ বছরের মধ্যে দুই বাংলা এক হয়ে যাবে। কাঁটাতারের বেড়া আর থাকবে না।’