শুক্রবার সরকারবিরোধী জোট জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের প্রার্থীরা গণশুনানিতে অভিযোগ করে বলেন, ৩০ ডিসেম্বর অনুষ্ঠিত নির্বাচনে অনেক কেন্দ্রে শতভাগ ভোট পড়ার প্রমাণ রয়েছে। তারা বলেন, মৃত মানুষ কবর থেকে উঠে এসে ভোট দিয়েছেন। বেশ কিছু কেন্দ্রে সকাল ১০টার মধ্যে ব্যালট পেপার শেষ হয়ে গিয়েছিলে।
বিএনপির প্রার্থীরা দলের নির্বাচন পরিচালনা কমিটির নেতাদেরও সমালোচনা করে বলেছেন, তারা যথাযথ ভূমিকা রাখতে পারেননি।
গণশুনানি পরিচালনা করেন বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা মণ্ডলীর সদস্য আব্দুস সালাম। প্রথম বক্তা ছিলেন লালমনিরহাট-৩ আসনের প্রার্থী আসাদুল হাবিব দুলু। শেষ বক্তা ছিলেন গণফোরামের সুব্রত চৌধুরী।
আসাদুল হাবিব দুলু তার বক্তব্যে বলেন, ৩০ ডিসেম্বর কোনো নির্বাচন হয়নি, ভোট ডাকাতি হয়েছে। আমার এলাকায় ৭টি কেন্দ্রে শতভাগ ভোট পড়েছে বলে বলা হয়েছে। দেখা যায় সেখানে অনেক মৃত মানুষও ভোট দিয়েছে।
সিরাজগঞ্জের ঐক্যফ্রন্টের প্রার্থী রুমানা মাহমুদ অভিযোগ করেন, তার প্রচার মিছিলে পুলিশ গুলি চালিয়েছিল। গুলিতে তার কর্মী মেরী বেগমের দুই চোখ ক্ষতিগ্রস্ত হয়।
এ সময় মেরী বলেন, তাকে ভোট দেওয়ার অধিকার ফিরিয়ে দিতে হবে, নয়তো চোখ ফেরত দিতে হবে।
যশোর-৩ আসনের প্রার্থী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত বলেন, ভোটের দিন সকাল ১০টার মধ্যে সব ব্যালট শেষ হয়ে যায়। এটা কীসের ভোট হয়েছে। প্রশাসনের সহযোগিতায় ভোট ডাকাতি হয়েছে। জেলায় জেলায় গণ আদালত বসিয়ে জনগণকে ঐক্যবদ্ধ করতে হবে।
গণফোরামের নির্বাহী সভাপতি, সুব্রত চৌধুরী বলেন, আমার কেন্দ্রে ইভিএম সকাল থেকে নষ্ট ছিল। ভোট বন্ধ ছিল।
তার এজেন্ট সোনিয়া বলেন, আমি ভোটকেন্দ্রে গেলে আমাকে ঢুকতে দেওয়া হয়নি। আমি যখন বলি ঐক্যফ্রন্টের এজেন্ট। তখন আমাকে মহিলা লীগ, যুবলীগের ছেলেরা শূন্যে উঠিয়ে ফেলে দেয়। এতে আমার গর্ভে থাকা সন্তান মারা যায়।
মনিরুল হক চৌধুরী, জয়নুল আবদিন ফারুক তাদের বক্তব্যে দলের নেতাদের সমালোচনা করেন। দায়িত্বপ্রাপ্ত নেতারা যথাযথ ভূমিকা পালন না করায় তাদের সমালোচনা করেন।