সিলেটের কোম্পানীগঞ্জ উপজেলায় পরিষদ নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদে স্বতন্ত্র প্রার্থী হয়েছেন স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতা শামীম আহমেদ। কেবল শামীম নয়, তার বাবা উপজেলা আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা ও উপজেলা পরিষদের বর্তমান চেয়ারম্যান আবদুল বাছির এবং শামীমের স্ত্রী জরিনা বেগমও চেয়ারম্যান পদে মনোনয়নপত্র জমা দেন। গত বুধবার মনোনয়নপত্র বাছাইকালে তাদের তিনজনেরই মনোনয়নপত্র বৈধ ঘোষণা করেন জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তা ও জেলা প্রশাসক কাজি এমদাদুল হক।
এদিকে পিতা, পুত্র ও পুত্রবধূÑ এই প্রার্থিতা নিয়ে সিলেটে বেশ আলোচনার সৃষ্টি হয়েছে। অনেকেই এটিকে বিতর্কিত ও ধনাঢ্য শামীমের একটি নির্বাচনী কৌশল হিসেবে দেখছেন। কারণ শামীম আওয়ামী লীগের মনোনয়ন চেয়ে পাননি। তাই দল মনোনীত প্রার্থী জাহাঙ্গীর আলমের বিরুদ্ধে একই পরিবারের তিনজন প্রার্থী হয়েছেন। যাতে শেষ পর্যন্ত পরিবারের কেউ না কেউ ভোটের মাঠে টিকে থাকতে পারেন।
বিষয়টি অকপটে স্বীকার করেছেন শামীম আহমদও। গত বৃহস্পতিবার তিনি দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘একটি মহল আমার বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করছে, তারা আমার মনোনয়নপত্র বাতিল করাতে তৎপর। তাই আমি, আমার বাবা ও আমার স্ত্রী তিনজনই চেয়ারম্যান পদে মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছি। অন্তত একজন যাতে শেষ পর্যন্ত টিকতে পারি, এ জন্য এই সিদ্ধান্ত।’ তিনি জানান, তার বাবা ও স্ত্রী নির্বাচনে ডামি প্রার্থী হিসেবে থাকবেন। আর মূল প্রার্থী হলেন শামীম।
এদিকে শামীম একাধিক মামলায় অভিযুক্ত। তার বিরুদ্ধে হত্যা, চাঁদাবাজিসহ বিভিন্ন অভিযোগে ৮-১০টি মামলা রয়েছে বলে জানান কোম্পানীগঞ্জ থানার ওসি তাজুল ইসলাম। মামলা প্রসঙ্গে শামীম আহমদ বলেন, ‘সবই সাজানো মামলা। এর মধ্যে একাধিক মামলা তদন্তে মিথ্যা প্রমাণিত হয়েছে।’ শামীম ইসলামপুর ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক দলীয় সূত্র জানান, সিলেট আওয়ামী লীগের প্রভাবশালী একাধিক নেতা তলে তলে শামীমের পক্ষে। শামীমের সঙ্গে তাদের ব্যবসায়িক সম্পর্ক। এ কারণে উপজেলা আওয়ামী লীগের বর্ধিত সভা পণ্ড হওয়ার পর শামীমের বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা নেওয়া না হলেও উপজেলা আওয়ামী লীগের সম্পাদক আপ্তাব আলী ও সাংগঠনিক সম্পাদক জাহাঙ্গীর আলমকে বহিষ্কার করা হয়। তবে শেষ পর্যন্ত জাহাঙ্গীরকেই নৌকা প্রতীক দেওয়া হয়।