তিন বছরেও শেষ হয়নি রায়পুর-হায়দারগঞ্জ সড়ক সংস্কারকাজ

লক্ষ্মীপুর জেলার গুরুত্বপূর্ণ রায়পুর-হায়দারগঞ্জ সড়কের প্রায় ১১ কিলোমিটার নির্মাণের কার্যাদেশ এক বছর মেয়াদের কাজ তিন বছরেও শেষ হয়নি। প্রায় দেড় বছরের বেশি সময় ধরে ওই সড়কের কাজ বন্ধ রেখেছেন ঠিকাদার। এ কারণে পথচারী ও গাড়ি চালকদের চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। পৌর শহরের গুরুত্বপূর্ণ প্রায় দেড় কিলোমিটার সড়ক দীর্ঘদিন ধরে সংস্কারহীন।

রায়পুর এলজিইডি কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, আরটিআইপি-২ প্রকল্পের অধীনে রায়পুর-হায়দরগঞ্জ পর্যন্ত ভাঙা সড়কটি সংস্কার ও মেরামতের জন্য স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের ২০১৫-১৬ অর্থবছরে টেন্ডার আহ্বান করে লক্ষ্মীপুর এলজিইডি।

প্রায় চার কোটি ১৭ লাখ ৫৫ হাজার ৫৮৯ টাকায় নোয়াখালীর মেসার্স হাছান রুপালী জেবি নামের ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান কাজটি পায়।

২০১৬ সালের ১ সেপ্টেম্বর ঠিকাদারকে কার্যাদেশ দেওয়া হয় এবং ২০১৭ সালের ৭ সেপ্টেম্বরের মধ্যে কাজ শেষ হওয়ার কথা। একই বছরের ৩০ ডিসেম্বর কাজের উদ্বোধন করেন রায়পুর আসনের সাবেক এমপি মোহাম্মদ নোমান।

কার্যাদেশের এক বছরের মেয়র শেষ হয়ে প্রায় তিন প্রায় দুই বছর পার হলেও এখন পর্যন্ত পুরো সড়কের কাজও শেষ করতে পারেনি ঠিকাদার প্রতিষ্ঠানটি।

রায়পুর ১০ নম্বর ইউপির চেয়ারম্যান শফিউল আজম সুমন চৌধুরীসহ কয়েকজন জনপ্রতিনিধি জানান, দেশে উৎপাদিত সয়াবিনের ৯০ শতাংশের বিক্রি হয় হায়দারগঞ্জ বাজারে। এ বাজারেই গড়ে উঠেছে সয়াবিনের আটটি চাতাল।

দেশের খ্যাতনামা সয়াবিন তেল ও পোলট্রি খাদ্য প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠানগুলো এখান থেকে সয়াবিন সংগ্রহ করেন। অথচ ঠিকাদার গুরুত্বপূর্ণ সড়কটি সংস্কার কাজে চরম গাফিলতি করছেন। নতুন করে সংস্কার করা কাজও এখন নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। তবুও সংশ্লিষ্ট ঠিকাদার কাজ শেষ করছেন না।

রায়পুর পৌরসভার মেয়র ইসমাইল খোকন বলেন, পৌর শহরের অংশটুকু সংস্কার না করে ফেলে রাখায় পৌরবাসী সড়কে চলাচল করতে গিয়ে প্রতিদিন নাজেহাল হচ্ছেন। পৌরবাসীর জনদুর্ভোগের কথা চিন্তা করে ঠিকাদারকে শতাধিক বার বলা হয়েছে দ্রুত কাজ শেষ করতে। কিন্তু ঠিকাদার নিজের ইচ্ছামতো কাজ করবেন বলে তা বন্ধ করে রেখেছেন।

ঠিকাদার মো. ফরহাদ হোসেন মুঠোফোনে একাধিকবার ফোন করেও তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তা আরমান হোসেন বলেন, সড়কের সব কাজই শেষ। অল্প একটু কাজ বাকি রয়েছে। সামান্য এ কাজের জন্য বিভিন্ন যন্ত্রপাতি আনলে বড় অঙ্কের লোকসান গুনতে হবে। এ ছাড়া সড়কটি শুরু থেকে আমাদের বড় অঙ্কের লোকসান হয়েছে। তবে অল্প কাজের জন্য মানুষের কোনো ভোগান্তি হচ্ছে না বলে তিনি দাবি করেন।

রায়পুর উপজেলা প্রকৌশলী মো. আক্তার হোসেন ভূঁইয়া বলেন, চলতি গত বছরের মধ্যে কাজ শেষ করার জন্য ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে একাধিক চিঠি দেওয়া হয়েছে। এর আগে সময় বৃদ্ধি করে আরও একাধিক বার চিঠি দেওয়া হয়েছিল। তবুও ঠিকাদার কাজ শেষ করছে না। এখন প্রতিদিনই তাদের জরিমানার পর্যায় সময় চলছে। তবে আশা করি খুব অল্প সময়ের মধ্যে কাজটি সম্পন্ন করা হবে।