উপজেলা নির্বাচন

সভাপতি-সম্পাদক দ্বন্দ্বে বিভক্ত হোমনা উপজেলা আ’লীগ

কুমিল্লার হোমনায় উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে চেয়ারম্যান প্রার্থীর মনোনয়ন নিয়ে বিভক্ত হয়ে পড়েছে উপজেলা আওয়ামী লীগ। পরিস্থিতি সামলাতে একাধিক বর্ধিত সভা করেও সমঝোতায় পৌঁছাতে পারেননি দলের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকসহ দলের শীর্ষ নেতাকর্মীরা।

ফলে, মনোনয়নকে কেন্দ্র করে উপজেলা আওয়ামী লীগ দুই পক্ষে বিভক্ত হয়ে পড়ায় নেতাকর্মীদের মধ্যে উদ্বেগ উৎকণ্ঠা বিরাজ করছে। অন্যদিকে, একক প্রার্থী বাছাইয়ে সিদ্ধান্তহীনতায় রয়েছেন শীর্ষ নেতৃবৃন্দ।

দলীয় সূত্রে জানা যায়, কেন্দ্রীয় সিদ্ধান্ত মোতাবেক দলীয় প্রার্থী বাছাইয়ে গত ৩১ জানুয়ারি অনুষ্ঠিত বর্ধিত সভায় সম্ভাব্য প্রার্থীরা তাদের প্রার্থিতা ঘোষণা দিলেও উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি অধ্যক্ষ আবদুল মজিদ একক স্বাক্ষরে তার স্ত্রী রেহানা বেগমকে ১নং ক্রমিকে রেখে, রোস্তম আলম স্বপন ও মো. নজরুল ইসলাম খন্দকারের নাম জেলায় প্রেরণ করেন। অপরদিকে বর্তমান উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক একেএম সিদ্দিকুর রহমান আবুল বর্ধিত সভার কার্যবিবরণীসহ দলীয় নেতাকর্মীদের স্বাক্ষর সংবলিত প্যাডে ১নং ক্রমিকে নিজেকে রেখে মো. হাবিবুর রহমান ও মো. শহিদুল্লাহ এর নামের আরেকটি তালিকা জেলায় প্রেরণ করেন।

উপজেলা আ’লীগের সভাপতি অধ্যক্ষ আবদুল মজিদ এর স্ত্রী রেহানা বেগম বলেন, আমি এবং আমার স্বামী প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছি। সংসদ নির্বাচনে আমার স্বামী (মজিদ সাহেব) মনোনয়ন পায়নি তাই উপজেলা চেয়ারম্যান পদে আমার জন্য মনোনয়নের আবদার করেছি। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী বলেছেন বিষয়টি ভেবে দেখবেন। আশা করছি দলীয় মনোনয়ন আমিই পাব।

চেয়ারম্যান প্রার্থী উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক একেএম সিদ্দিকুর রহমান আবুল দেশ রূপান্তরকে বলেন, দলীয় বর্ধিত সভায় সকলের উপস্থিতিতে মৌখিক ভাবে ৩ জনের নামের তালিকা জেলায় প্রেরণের সিদ্ধান্ত হয়েছিল । কিন্তু সভাপতি আমার নাম বাদ দিয়ে তালিকা করেন। পরে আমি দলীয় কার্যবিবরণীসহ ৩ জনের নামের তালিকা প্রেরণ করেছি। রেহানা বেগম সম্পর্কে আবুল বলেন, সাংগঠনিক ক্ষেত্রে সভাপতি ও তার স্ত্রী এক কথা নয়। সভাপতি মজিদ স্যার প্রার্থী হলে আমি প্রার্থিতাই দাবি করতাম না। রাজনীতির ক্ষেত্রে বদলি হয় না।

উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি অধ্যক্ষ আবদুল মজিদ বলেন, দলীয় বর্ধিত সভায় আমাদের সংসদ সদস্য সিআইপি সেলিমা আহমাদ মেরী’র উপস্থিতিতে সকলের সিদ্ধান্ত নিয়েই তালিকা পাঠানো হয়েছে। 

জেলা আওয়ামী লীগ সভাপতি আব্দুল আউয়াল সরকার এ প্রসঙ্গে দেশ রূপান্তরকে জানান, প্রার্থী বাছাইয়ে সভাপতি-সাধারণ সম্পাদকের মধ্যে মত বিরোধ থাকায় একক প্রার্থী নির্বাচন সম্ভব হয়নি। যে কেউ দলীয় মনোনয়ন চাইতেই পারেন। মনোনয়ন দেওয়ার মালিক কেন্দ্রীয় মনোনয়ন বোর্ড।