‘আমার জামাই চলে গেলে আমার দুনিয়া অন্ধকার’

ছেলে মেয়েদের জন্য বিরিয়ানি কিনতে বুধবার রাতে ইসলামবাগের বাসা থেকে বের হন মো. জাকির হোসেন। কিন্তু সেই বিরিয়ানি নিয়ে আর ফেরা হয়নি জাকিরের।

চকবাজারের ওয়াহিদ মেনশনের সামনে অগ্নিকাণ্ডে গুরুতর দগ্ধ হয়ে ঢাকা মেডিকেলের বার্ন ইউনিটের আইসিইউতে ভর্তি আছেন। তার শরীরের ৩৫ ভাগ পুড়ে গেছে। মৃত্যুর সঙ্গে পাঞ্জা লড়ছেন।

শনিবার দুপুরে ঢামেক বার্ন ইউনিটে গিয়ে দেখা যায়, সাড়ে  তিন বছরের মেয়ে নুরজাহানকে কোলে নিয়ে বার্ন উইনিটের  সামনে দাঁড়িয়ে আছেন খাদিজা বেগম। পাশেই দাঁড়িয়ে আছে ১১ বছরের ছেলে মো. নাজির হোসেন। খাদিজার দু’চোখে একরাশ হতাশা। নেই কোন গোসল খাওয়া দাওয়া।

তিনি দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘ঘটনার দিন রাতে ছেলে মেয়েদের জন্য বিরিয়ানি কিনতে বের হন। কিন্তু রাতে আর ফিরে আসেনি। পরে বুধবার দিবাগত রাত দুইটার দিকে খবর পেয়ে তখনই ঢাকা মেডিকেলে চলে আসি।

তিনি কথা বলতে গিয়ে কান্নায় ভেঙে পরেন। বলেন, ‘আমার জামাই চলে গেলে আমার দুনিয়া অন্ধকার হয়ে যাবে। আমি দুই ছেলে মেয়ে নিয়ে কোথায় যাব। কীভাবে চলবে আমার সংসার।’

তিনি জানান, তাদের গ্রামের বাড়ি টাঙ্গাইল। থাকেন পুরান ঢাকার ইসলামাবাগ। তার স্বামী একটি এক্সপোর্ট ইমপোর্ট প্রতিষ্ঠানে চাকরি করত। ছেলে মো. নাজির হোসেন পড়েন তৃতীয় শ্রেণিতে। বাবার এই দগ্ধ শরীর দেখে তার চোখে মুখে কষ্টের ছাপ লেগে আছে।

তিনি বলেন, আব্বু মাঝে মধ্যেই আমাদের জন্য বিরিয়ানি নিয়ে আসত। সেদিনও আনতে গিয়েছিল। পরে আর ফিরে আসেনি।’