দিনাজপুরের চিরিরবন্দর উপজেলার কারেন্টের হাট ডিগ্রি কলেজের এক আয়াকে শ্লীলতাহানির অভিযোগে গত শুক্রবার কলেজের অধ্যক্ষ জালাল উদ্দিনকে জিজ্ঞাসাবাদ করেছে চিরিরবন্দর থানার পুলিশ। অভিযোগকারী ওই নারী জানান, শ্লীলতাহানির বিষয়টি স্থানীয় সাংসদ আবুল হাসান মাহমুদ আলীকে জানালে তিনি থানায় অভিযোগ করার পরামর্শ দেন। তারপর তিনি থানায় লিখিত অভিযোগ দেন। তিনি বলেন, অধ্যক্ষ দীর্ঘদিন ধরে তাকে নানা প্রলোভন দেখিয়ে কলেজ বন্ধের দিনেও ডেকে নিয়ে নানা রকম খোশগল্পসহ অশালীন কথাবার্তা বলেন। গত বছরের অক্টোবরের কোনো এক শুক্রবার তাকে শ্লীলতাহানির চেষ্টা করেন। শ্লীলতাহানির অভিযোগ সম্পর্কে তথ্য সংগ্রহের জন্য গেলে ওই কলেজের অধ্যক্ষের বিরুদ্ধে নিয়োগ-বাণিজ্যের অভিযোগ করেন কয়েকজন শিক্ষক। কলেজটিতে ২০১৫ সালে ১০ জন শিক্ষক নিয়োগে প্রায় কোটি টাকার বাণিজ্য হয়েছে বলে অভিযোগ করেন নিয়োগপ্রাপ্ত শিক্ষকদের কয়েকজন। দর্শনের শিক্ষক হিসেবে ২০১৫ সালে নিয়োগ পাওয়া নীল কমল বলেন, পরীক্ষায় প্রথম হওয়ার পরও নিয়োগের সময় তার কাছ থেকে ১৩ লাখ ৫০ হাজার টাকা নিয়েছেন অধ্যক্ষ জালাল উদ্দিন। উচ্চ মাধ্যমিক শাখার শিক্ষক খাইরুল ইসলাম অভিযোগ করেন নিয়োগের সময় তার কাছ থেকে ১০ লাখ ৫০ হাজার টাকা হাতিয়ে নেন অধ্যক্ষ। তবে অধ্যক্ষ জালাল উদ্দিন দাবি করেন তার বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করে এসব বানোয়াট অভিযোগ করা হয়েছে। শ্লীলতাহানির অভিযোগ অস্বীকার করে তিনি বলেন, অভিযোগটি সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন। ওইদিন তিনি রোভার স্কাউটের জরুরি সভায় জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে ছিলেন। তিনি আরও বলেন, শিক্ষকরা সময়মতো কলেজে উপস্থিত না হওয়ায় তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার চেষ্টা করলে তারা ষড়যন্ত্রে লিপ্ত হন। শ্লীলতাহানির অভিযোগে ওই অধ্যক্ষকে জিজ্ঞাসাবাদ করার সত্যতা নিশ্চিত করে চিরিরবন্দর থানার ওসি হারেসুল ইসলাম বলেন, প্রাথমিক তদন্তে অধ্যক্ষের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ অসত্য প্রমাণিত হয়েছে। তিনি জানান, ওই শিক্ষকের সঙ্গে অভিযোগকারীর জমিসংক্রান্ত বিরোধ রয়েছে। তবে বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে বলে জানান ওসি। অভিযোগকারী ওই নারী জানান, শ্লীলতাহানির অভিযোগের সঙ্গে জমিসংক্রান্ত বিরোধের সম্পর্ক নেই।