মার্কিন ত্রাণবাহী ট্রাকে ভেনেজুয়েলার সেনাদের আগুন

ভেনেজুয়েলার চলমান রাজনৈতিক সংকট আর ঘনীভূত হয়েছে। দেশে ত্রাণ প্রবেশ করতে দেওয়া নিয়ে সংঘাতে ব্রাজিল সীমান্তে দুজন নিহত হয়েছেন। কলম্বিয়া সীমান্তে মার্কিন ত্রাণবাহী দুটি ট্রাকে অগ্নিসংযোগ করেছে ভেনেজুয়েলার নিরাপত্তা বাহিনী।

এদিকে চলমান সংকটে প্রতিবেশী কলম্বিয়ার সঙ্গে কূটনৈতিক সম্পর্ক তলানিতে ঠেকেছে প্রেসিডেন্ট নিকোলোস মাদুরোর প্রশাসনের।

আলজাজিরা জানায়, পরবর্তী ২৪ ঘণ্টার মধ্যে কলম্বিয়ার কূটনীতিকদের ভেনেজুয়েলা ত্যাগ করতে শনিবার নির্দেশ দিয়েছেন মাদুরো।

এই সিদ্ধান্তের প্রতিক্রিয়ায় কলম্বিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী কার্লোস হোমেস ত্রুজিয়ো বলেন, বোগোটা ভেনেজুয়ালার নেতাকে (মাদুরো) ‘বৈধতা’ দেবে না। কিন্তু কূটনীতিক কর্মকর্তাদের ‘জীবন’ রক্ষায় যত দ্রুত সম্ভব তাদেরকে কারাকাস থেকে প্রত্যাহার করে নেওয়া হবে।

দেশে মার্কিন ত্রাণ প্রবেশ করতে দেওয়া নিয়ে কলম্বিয়া সীমান্তে বিরোধীদলীয় নেতা স্বঘোষিত অন্তর্বর্তীকালীন প্রেসিডেন্ট হুয়ান গুয়াইদোর সমর্থক এবং নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যদের মধ্যে শনিবার দিনভর সংঘর্ষ হয়।

বিরোধী সমর্থকরা সীমান্তের ব্রিজে দেওয়া ব্যারিকেড সরাতে গেলে নিরাপত্তা বাহিনী টিয়ারশেল নিক্ষেপ করে। এর আগে ১২টি গাড়ির ত্রাণবহরের একটিতে গুয়াইদো ওঠে বসেন এবং ত্রাণবহরকে ভেনেজুয়েলায় নিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দেন।

বিরোধীদের পরিকল্পনা ছিল তারা মানববন্ধন তৈরি করে ত্রাণবহরকে দেশে নিয়ে আসবে। কিন্তু নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যরা দুটি ট্রাকে অগ্নিসংযোগ করলে সেই চেষ্টা ভণ্ডুল হয়ে যায়। বাকি ট্রাকগুলো কলম্বিয়ায় ভূখণ্ডে ফিরে যায়।

এদিকে দেশে ত্রাণ প্রবেশ করতে দেওয়া নিয়ে সংঘর্ষে ব্রাজিল সীমান্তে দুজন নিহত হয়েছেন। ভেনেজুয়েলা ভিত্তিক মানবাধিকার সংগঠন ‘ফোরো পেনাল’র বরাত দিয়ে এএফপি এতথ্য জানিয়েছে।

গত বছরের শেষের দিকে বিতর্কিত নির্বাচনের মধ্যে দিয়ে দ্বিতীয় মেয়াদে ক্ষমতা গ্রহণ করেন মাদুরো। বিরোধী দল তাকে মেনে নিতে অস্বীকৃতি জানালে দেশটিতে রাজনৈতিক সংকট সৃষ্টি হয়। অধিকাংশ দেশ এ নির্বাচনকে স্বীকৃতি না দিলে পরিস্থিতি আরও ঘনীভূত হয়।

নিজেকে অন্তর্বর্তীকালীন প্রেসিডেন্ট ঘোষণা দিয়ে ভেনেজুয়েলার ন্যাশনাল অ্যাসেম্বলির নেতা গুয়াইদো দাবি করেছেন, যখন প্রেসিডেন্ট ‘অবৈধ’ হবেন, তখন সংবিধান অনুযায়ী তার ক্ষমতা গ্রহণের বিধান রয়েছে।

গুয়াইদোকে যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপীয় ইউনিয়নসহ প্রায় ৪০ দেশ সমর্থন দিয়েছে। অন্যদিকে মাদুরোর পাশে দাঁড়িয়েছে রাশিয়া, চীন ও তুরস্কসহ কয়েকটি দেশ।