চকবাজারের অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় সরকারের পদত্যাগ দাবি রিজভীর

চকবাজারে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় ব্যর্থতার অভিযোগ এনে সরকারের পদত্যাগ দাবি করেছেন বিএনপির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী।

রোববার নয়াপল্টনে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ দাবি করেন।

সরকার চকবাজার ট্র্যাজেডির দায় এড়াতে পারে না বলে সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদেরের বক্তব্যের জবাবে বিএনপির এই যুগ্ম মহাসচিব বলেন, এ ঘটনার দায় যেহেতু স্বীকার করেছেন, এখন পদত্যাগ করুন।

পৃথিবীর কোনো গণতান্ত্রিক সভ্য দেশে এই বিভীষিকাময় ঘটনা ঘটলে দায় স্বীকার করে সরকার পদত্যাগ করত বলে উল্লেখ করে রিজভী অভিযোগ করেন, ২০ ফেব্রুয়ারি রাষ্ট্রপতি এবং প্রধানমন্ত্রী শহীদ মিনারে যাওয়া উপলক্ষে রাত ১০টা থেকে আশপাশের রাস্তাঘাট সব বন্ধ করে দেওয়ার কারণে পুরান ঢাকার উর্দু রোড, চানখারপুল, নাজিমউদ্দিন রোডে প্রচণ্ড যানজট সৃষ্টি হয়েছিল। ভয়াবহ যানজটের কারণে ফায়ার সার্ভিসের গাড়ির প্রবেশ বাধাগ্রস্ত হয়। ফলে চুড়িহাট্টার আগুন ছড়িয়ে পড়ে চারদিকে এবং ক্ষয়ক্ষতি বাড়তে থাকে। তাদের এহেন দায়িত্বহীন আচরণের কারণে মানুষের মূল্যবান জীবন ঝরে গেছে।

রিজভী বলেন, চকবাজারের অগ্নিকাণ্ডের রাতে অল্প দূরত্বে নাজিম উদ্দিন রোডের পুরাতন কেন্দ্রীয় কারাগারে খালেদা জিয়া নির্ঘুম কাটিয়েছেন। কারণ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় সারা রাত চারদিকে বিকট শব্দ, মানুষের আর্তচিৎকার, রাসায়নিক বিস্ফোরণের বিকট শব্দ গ্রাস করেছিল আশপাশের এলাকা। তার সারা রাত উৎকণ্ঠায় কেটেছে। আর বিএনপির নেতাকর্মীরা আল্লাহর কাছে তার নিরাপত্তার জন্য দোয়া করেছেন।

তিনি বলেন, চকবাজারের অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় বিএনপির নেতাকর্মীরা গভীর উদ্বেগ-উৎকণ্ঠার মধ্যে রয়েছে। কারণ খালেদা জিয়াকে যে পরিত্যক্ত কারাগারে অবরুদ্ধ রাখা হয়েছে তার চারপাশে রাসায়নিক বিস্ফোরকের ডিপো। যে কোনো সময়ে দুর্ঘটনা ঘটতে পারে। কারাবন্দী খালেদার জীবন হুমকির মধ্যে পড়তে পারে।

সংবাদ সম্মেলনে বিএনপি নেতাদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন অ্যাডভোকেট আহমেদ আজম, শওকত মাহমুদ, এবিএম মোশাররফ হোসেন, আব্দুস সালাম আজাদ, আব্দুল আউয়াল খান, মীর নেওয়াজ আলী, আমিরুল ইসলাম খান আলিম প্রমুখ।