পিলখানা ও চকবাজারের মধ্যে যোগসূত্র আছে: ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরী

জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের নেতা ও গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রের ট্রাস্টি ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরী দাবি করে বলেছেন, পিলখানায় ৫৭ সামরিক কর্মকর্তা হত্যা ও চকবাজারের অগ্নিকাণ্ডে প্রায় ৭০জন নিহতের ঘটনার মধ্যে যোগসূত্র আছে।

রোববার পুরানা পল্টনের মুক্তিভবনের মৈত্রী মিলনায়তনে ২০০৯ সালের ২৫ ফেব্রুয়ারি পিলখানা ট্র্যাজেডি স্মরণে বাংলাদেশ কল্যাণ পার্টির উদ্যোগে আয়োজিত আলোচনা সভায় তিনি এ দাবি করেন।

জাফরুল্লাহ চৌধুরী তার দাবির প্রসঙ্গে যুক্তি দিয়ে বলেন, ‘ভারতীয় নকল পণ্যের এবং তাদের একমাত্র অর্থনীতির অগ্রযাত্রায় প্রতিবন্ধকতা ছিল কেরানীগঞ্জ ও চকবাজার। তিনি মনে করেন, ২০ ফেব্রুয়ারি এবং পিলখানা গণহত্যায় সমন্বয় ঘটিয়েছে ভারতের গোয়েন্দা সংস্থা ‘র’ এবং তাদের সঙ্গে যুক্ত হয়েছে আরেক গোয়েন্দা বাহিনী।

পিলখানা হত্যায় সেনাবাহিনীর পক্ষ থেকে করা তদন্ত প্রতিবেদন প্রকাশের দাবি জানিয়েছেন বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান হাফিজ উদ্দিন আহমেদ। একই সঙ্গে তিনি প্রতিবেদন অনুযায়ী দোষীদের দ্রুত শাস্তি এবং ২৫ ফেব্রুয়ারি জাতীয় শোক দিবস ঘোষণার দাবি জানান।

তিনি বলেন, পিলখানা গণহত্যায় আন্তর্জাতিকভাবে ষড়যন্ত্র হয়েছে। সে সময় পত্রপত্রিকায় যে সংবাদ প্রকাশিত হয়েছে তাতে দেখা গেছে, যার সিগন্যালে ঘটনাটি শুরু হবে তিনি স্টেইজে অজ্ঞান হয়ে পড়েন। পিলখানা হত্যায় জড়িত একটি দলের সঙ্গে হত্যাকাণ্ডের পূর্বে আলাপ আলোচনাও হয়েছে। হয়তো তাদের সম্মতিতে এ ঘটনা ঘটেছে।

বিএনপির এই নেতা বলেন, ঘটনাটি অতি সহজে এড়ানো যেত শুরুতে যদি বিদ্রোহীদের একটি সতর্কবাণী দেওয়া হতো। এ ছাড়া সেনাবাহিনীর কোনো কিতাবে কোথাও নেই, বিদ্রোহ শুরু হলে এমপি-মন্ত্রীর সহায়তা চাওয়া। এ সময় সেনাবাহিনীর কাজ হবে বিদ্রোহ দমনের প্রচেষ্টা করা।

পিলখানা হত্যাকাণ্ডের দ্রুত বিচার দাবি করেন বাংলাদেশ কল্যাণ পার্টির চেয়ারম্যান মেজর জেনারেল (অব.) সৈয়দ মুহাম্মদ ইবরাহিম।

তিনি বলেন, ২৫ ফেব্রুয়ারি শহীদ সেনা দিবস ঘোষণার জন্য বারবার আবেদন করা হলেও সরকার তা করেনি। তাই এই সভা থেকে ২৫ ফেব্রুয়ারি শহীদ সেনা দিবস ঘোষণা করা হলো। সারা দেশে এই দিন জাতীয় পতাকা অর্ধনমিত করার আহ্বানও জানান তিনি।

সভায় আরও বক্তব্য রাখেন বিএনপির যুগ্ম-মহাসচিব সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল, কল্যাণ পার্টির মহাসচিব এম. আমিনুর রহমান, সাবেক সেনা কর্মকর্তা কামরুজ্জামান খান, এম সারোয়ার হোসেন, মো. হানিফ, সাইদুল ইসলাম, আহম্মেদ ফেরদৌস, সৈয়দ এহসানুল হুদা, আজাদ মাহবুব প্রমুখ।