রোহিঙ্গা ইস্যুতে দুই পরাশক্তি চীন ও রাশিয়া আগের অবস্থানে নেই বলে জানিয়েছেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী এ কে আবদুল মোমেন। তিনি বলেছেন, রোহিঙ্গা সংকটের একতরফা কোনো সমাধান নেই। আশার কথা হচ্ছে, এ ইস্যুতে চীন ও রাশিয়া তাদের পূর্বের অবস্থান থেকে অনেকটা সরে এসেছে। এখন দ্বিপক্ষীয় আলোচনার পাশাপাশি মিয়ানমারকে আন্তর্জাতিক চাপ প্রয়োগ করতে হবে।
রবিবার বাংলাদেশ চলচিত্র উন্নয়ন করপোরেশনে (এফডিসি) আয়োজিত এক বিতর্ক প্রতিযোগিতা শেষে এসব কথা বলেন তিনি। ডিবেট ফর ডেমোক্রেসির আয়োজিত এ বিতর্ক প্রতিযোগিতার গ্র্যান্ড ফাইনাল ছিল রবিবার।
এতে বাংলাদেশ ইউনিভার্সিটি অব প্রফেশনালস (বিইউপি)কে হারিয়ে চ্যাম্পিয়ন হয়েছে বাংলাদেশ ইউনিভার্সিটির বিতার্কিকেরা।
পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, অভ্যন্তরীণ কৌশল ডিজাইন করে আমরা শান্তিপূর্ণভাবে সমস্যা সমাধানের পথে এগিয়ে যাচ্ছি। চীন, ভারত ও রাশিয়াকে বোঝাতে হবে রোহিঙ্গা সংকট যদি দীর্ঘদিন বজায় থাকে তাহলে তা তাদের জন্যও ভবিষ্যতে সংকট তৈরি করতে পারে।
দ্বিপক্ষীয় অনেক সমস্যায় বাংলাদেশের অনেক তিক্ত অভিজ্ঞতা রয়েছে উল্লেখ করে আবদুল মোমেন বলেন, ১৯৭৮ সালে গঙ্গার পানি বণ্টন নিয়ে আমরা জাতিসংঘে গেলেও ভারত তখন জাতিসংঘের কোনো চাপ ভ্রুক্ষেপ করেনি। ঠিক একইভাবে ইরান-ইরাক এবং সিরিয়া সংকটও কিন্তু জাতিসংঘ সুরাহা করতে পারেনি। শান্তিপূর্ণ দেশ হিসেবে আমরা রোহিঙ্গা সংকটের সুন্দর সমাধানে আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক উভয় ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ কূটনৈতিক প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি।
রোহিঙ্গা সংকট নিয়ে বাংলাদেশ শাখের করাতের আছে জানিয়ে পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, মিয়ানমার মাঝে মাঝে বিভিন্ন উসকানি দিলেও আমাদের কথা শোনে। যেমন-তাদের ওয়েবসাইটে আমাদের সেন্টমার্টিন তাদের বলে দাবি করার পর আমরা প্রতিবাদ করলে তা আবার সরিয়ে নেয়। মিয়ানমারকে আমরা একটি ‘সেফ জোন’ তৈরি করার জন্য রাজি করানোর চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি।
রবিবার রাজধানীর হোটেল ইন্টার কন্টিনেন্টালে আরেক অনুষ্ঠানে পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, বৈশ্বিক উষ্ণতার কারণে বাংলাদেশ অন্যতম ঝুঁকিপূর্ণ দেশ হয়েও আশানুরূপ বৈদেশিক অর্থ সহায়তা পাচ্ছে না।
তিনি বলেন, বৈশ্বিক উষ্ণতার কারণে সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা যদি এক মিটার বেড়ে যায়। তাহলে বাংলাদেশের ২০ শতাংশ জমি তলিয়ে যাবে। এ ধরনের ঝুঁকির মধ্যে থেকেও আমরা সেভাবে বৈদেশিক অর্থ সহায়তা পাচ্ছি না। যখন এই পরিস্থিতি আমাদের সামনে আসবে তখন বাংলাদেশের উৎপাদন ক্ষমতা ১৪ শতাংশে নেমে আসবে। বাংলাদেশের মতো এমন আক্রান্ত দেশগুলোর জন্য প্রতিবছর ১০০ থেকে ২০০ বিলিয়ন মার্কিন ডলার অর্থ সহায়তা দেওয়ার কথা কিন্তু আমরা সেগুলো কিছুই পাচ্ছি না শুধু কথাবার্তাই হচ্ছে।
অনুষ্ঠান শেষে এক প্রশ্নের জবাবে পররাষ্ট্রমন্ত্রী আবদুল মোমেন জানান, কক্সবাজারে আশ্রয় নেওয়া রোহিঙ্গাদের কবে নাগাদ ভাসানচরে স্থানান্তরিত করা হবে তার সময়সূচি এখনো নির্ধারণ করা যায়নি।
অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্যে দেন প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব নজিবুর রহমান, জাতিসংঘের কনভেনশন অন ক্লাইমেট চেঞ্জ’র ডেপুটি এক্সিকিউটিভ সেক্রেটারি ও ভাইস সরমাদ, আইওএম’র পরিচালক (গ্লোবাল কমপ্যাক্ট ফর মাইগ্রেশন) মাইকেল ক্লেইন সলোমন, বাংলাদেশে নিযুক্ত ফ্রান্সের রাষ্ট্রদূত ম্যারি ইনিক বোরদিনসহ অনেকে।
বাংলাদেশ সরকারের উদ্যোগে ও জাতিসংঘের শরণার্থী বিষয়ক সংস্থা আইওএম এবং প্ল্যাটফর্ম অন ডিজাস্টার ডিসপ্লেসমেন্টের (পিডিডি) সহায়তায় ‘অ্যানুয়াল থিমেটিক মিটিং অফ দা প্ল্যাটফর্ম অন ডিজাস্টার ডিসপ্লেসমেন্ট’ শীর্ষক দিনব্যাপী এ সেমিনারের আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশসহ জার্মানি, ফিজি, কোস্টারিকা, ফ্রান্স, মেক্সিকো এবং সুইজারল্যান্ডসহ ইউরোপীয় ইউনিয়নভুক্ত বিভিন্ন দেশের প্রায় ১৩০ জন প্রতিনিধি এ সেমিনারে অংশ নেন।