উত্তর কোরিয়া ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষা যতদিন বন্ধ রাখবে ততদিন দেশটির সঙ্গে পরমাণু নিরস্ত্রীকরণ চুক্তি নিয়ে তাড়াহুড়া নেই বলে জানালেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। উত্তর কোরীয় নেতা কিম জং উনের সঙ্গে ভিয়েতনামে বৈঠকের আগে গতকাল সোমবার ট্রাম্প এমন মন্তব্য করেন বলে জানিয়েছে সিএনএন।
ভিয়েতনামের রাজধানী হ্যানয়ে অনুষ্ঠিতব্য বৈঠকের আর একদিন বাকি থাকতে ট্রাম্পের এমন বক্তব্যকে ইতিবাচক হিসেবে দেখছেন বিশ্লেষকরা। আগামী বুধবার ও বৃহস্পতিবার উত্তর কোরিয়ার সর্বোচ্চ নেতার সঙ্গে দ্বিতীয় দফায় বৈঠকে বসবেন ট্রাম্প।
গত রবিবার ওয়াশিংটনে ট্রাম্প বলেন, তিনি কিমের চোখে তাকিয়ে দেখেছেন যে একটা ভালো সম্পর্ক হওয়া সম্ভব। তিনি আরও বলেন, ‘আমার কোনো তাড়াহুড়া নেই। আমি চাই না কেউ তাড়াহুড়া করুক। আমি শুধু চাই না কোনো ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষা হোক। যতক্ষণ পর্যন্ত তারা কোনো পরীক্ষা না করছে, ততক্ষণ আমরা খুশি।’
উত্তর কোরিয়ার সর্বশেষ ২০১৭ সালের সেপ্টেম্বরে পরমাণু পরীক্ষা চালায়। একই বছরের নভেম্বরে দেশটি আন্তঃমহাদেশীয় ক্ষেপণাস্ত্রের পরীক্ষা চালায়। এরপর আর কোনো ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষা চালায়নি দেশটি। যুক্তরাষ্ট্র সবসময়ই উত্তর কোরিয়াকে জাতীয় নিরাপত্তার প্রশ্নে হুমকি হিসেবে দেখছে। কিন্তু সাম্প্রতিক সময়ে ট্রাম্প এ বিষয়ে কিছুটা নমনীয় আচরণ করছেন বলে মত বিশ্লেষকদের। নিরস্ত্রীকরণ প্রক্রিয়া সঠিকভাবে হলে উত্তর কোরিয়ার ওপর থেকে নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়া হবে এমন কথাও বলেন ট্রাম্প।
গত রবিবারের টুইটে ট্রাম্প বলেন, উত্তর কোরিয়ার নেতা কিম জং উন এটা উপলব্ধি করতে পারছেন যে, সম্ভবত অন্য যে কোনো কিছুর চেয়ে পারমাণবিক অস্ত্র বাদ দিয়ে তার দেশ দ্রুত একটি অর্থনৈতিক পরাশক্তিতে পরিণত হতে পারে। কেননা, অবস্থানগত এবং জনসংখ্যাগত কারণে অন্য দেশের তুলনায় দ্রুত প্রবৃদ্ধির সম্ভাবনা বেশি উত্তর কোরিয়ার।
আট মাস আগে এই দুই নেতার প্রথম বৈঠকে তারা কোরীয় উপদ্বীপে সম্পূর্ণ নিরস্ত্রীকরণে সম্মত হন। কিন্তু কোন প্রক্রিয়ায় এই নিরস্ত্রীকরণ হবে এমন কোনো নির্দেশনা পাওয়া যায়নি ওই বৈঠকে। যুক্তরাষ্ট্রের ডেমোক্র্যাট সিনেটররা এবং নিরাপত্তা কর্মকর্তারা ট্রাম্পকে সতর্ক করে দিয়েছেন যে, দুই দেশের মধ্যে চুক্তি হলে উত্তর কোরিয়ার পরমাণু উচ্চাকাক্সক্ষা সামান্যই কমবে।
হ্যানয়ের সম্মেলনে যোগ দিতে এর মধ্যেই ট্রেনে করে রওনা দিয়েছেন কিম জং উন। গত রবিবার উত্তর কোরিয়ার মিডিয়ায় ট্রাম্পকে উদ্দেশ্য করে বলা হয়, তিনি যাতে সমালোচকদের কথা না শোনেন।
এদিকে, ট্রাম্প-কিমের আসন্ন বৈঠক থেকে ১৯৫০ থেকে ১৯৫৩ সাল পর্যন্ত সংঘটিত কোরীয় যুদ্ধের অবসানের ঘোষণা দিতে পারে যুক্তরাষ্ট্র ও উত্তর কোরিয়া। সোমবার সিউলে এক সংবাদ এ তথ্য জানিয়েছেন দক্ষিণ কোরিয়ার প্রেসিডেন্ট দপ্তরের এক মুখপাত্র।