বাংলাদেশ বিমানের একটি ফ্লাইট ছিনতাই চেষ্টার ঘটনায় যে তদন্ত কমিটি হয়েছে তা সঠিক তথ্য বের করতে পারবে না দাবি করে সর্বদলীয় সংসদীয় তদন্ত কমিটি চেয়েছেন জাতীয় পার্টির সাংসদ রুস্তম আলী ফরাজী।
সোমবার জাতীয় সংসদ অধিবেশনে পয়েন্ট অব অর্ডারে দাঁড়িয়ে এ দাবি জানান তিনি।
বিরোধী দলের এ সাংসদ বলেন, বাংলাদেশ বিমান আমাদের জাতীয় সম্পদ। এই বিমান নিয়ে প্রায়ই দুর্ঘটনা ঘটে। পাখি ঢুকে পড়ে, চাকা খুলে যায়। এর আগে প্রধানমন্ত্রী বিমানে থাকা অবস্থায় দুর্ঘটনা হয়েছিল। তদন্ত কমিটি হয়েছে, তদন্ত করে আসল তথ্য বের হবে না। আসলে যারা দায়িত্বে ছিলেন তারা কী দায়িত্ব পালন করেছেন, এটা আমার প্রশ্ন।
তিনি বলেন, এই ঘটনাকে আমরা সহজভাবে নিতে পারি না। সাধারণভাবে তদন্ত করলে হবে না, বিশেষ তদন্ত কমিটি করে তদন্ত করতে হবে। সংসদ সদস্যদের এই টিমে সম্পৃক্ত করতে হবে। যেহেতু ছিনতাইকারী অস্ত্র নিয়ে গেছে, বিমানটি চট্টগ্রামে নামার সুযোগ ছিলো তা না হলে বিরাট দুর্ঘটনা ঘটে যেতো। সর্বদলীয় তদন্ত কমিটি করে সঠিকভাবে তদন্ত করতে হবে। প্রতিশ্রুতি দিতে হবে এই ধরনের ঘটনা আর ঘটবে না। কারণ, এর সঙ্গে আমাদের সম্মান, অর্থনীতি জড়িত আছে।
প্রতিমন্ত্রীর বিবৃতি
এদিকে ছিনতাইয়ের কবলে পড়া বিমানের সব যাত্রী, ক্রু নিরাপদ আছে জানিয়ে জাতীয় সংসদে বিবৃতি দিয়েছেন বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন প্রতিমন্ত্রী মাহবুব আলী। গতকাল রবিবার সংসদ অধিবেশনে বিমান ছিনতাই চেষ্টার ঘটনা সম্পর্কে ৩০০ বিধিতে বিবৃতি দেন তিনি।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, ২৪ ফেব্রুয়ারি বিকেল ৫টা ১৩ মিনিটে ঢাকা-চট্টগ্রাম-দুবাইগামী বাংলাদেশ বিমানের বিজি-১৪৭ ঢাকা বিমানবন্দর ত্যাগ করে চট্টগ্রাম যায় এবং সেখান থেকে যাত্রী নিয়ে দুবাই যাত্রা করে। পূর্ব শিডিউল অনুযায়ী বিমানটি ৫টা ৪২ মিনিটে চট্টগ্রাম বিমানবন্দরে অবতরণ করে। অবতরণের পূর্বে বিমানে যাত্রী বেশে একজন যাত্রীদের ভয়ভীতি প্রদর্শন এবং বিমান উড়িয়ে দেওয়ার হুমকি দেন।
মাহবুব আলী বলেন, বিমানের কর্তব্যরত ক্যাপটেন অত্যন্ত বুদ্ধিমত্তা, পেশাদারি ও সাহসিকতার সঙ্গে দুষ্কৃতকারীকে কথোপকথনে ব্যস্ত রেখে কালক্ষেপণ করেন। এ সময় বিমানের ক্রুদের সহায়তায় সকল যাত্রীদের নিরাপদে বের করে নিয়ে আসা হয়। ঘটনা চলাকালে বিমানবাহিনীর বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ফায়ার সার্ভিসহ সকল সংস্থার তড়িৎ ব্যবস্থার ফলে যাত্রী ও ক্রুদের নিরাপদ স্থানে নিতে সক্ষম হয়। সেনাবাহিনীর কমান্ডো ও র্যাবের একটি চৌকস দল বিমানবন্দরে অস্থান নেয়। কমান্ডো দল বিমানের ভেতরে প্রবেশ করে এবং ঝটিকা আক্রমণ করে দুষ্কৃতকারীকে নিষ্ক্রিয় করে। একপর্যায়ে কমান্ডো বাহিনীর দুর্বার অভিযানে ছিনতাইকারী আহত হয়ে পরে মৃত্যুবরণ করে। বিমানটিতে থাকা ১৪৮ জন যাত্রী ৭ জন ক্রু সবাই নিরাপদে আছেন।
এ ঘটনায় পর্যটন মন্ত্রণালয় একজন অতিরিক্ত সচিবের নেতৃত্বে ৫ সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করেছে বলেও জানান বিমান প্রতিমন্ত্রী।