অজ্ঞাত রোগে একই পরিবারের ৫ জনের মৃত্যু ও আক্রান্ত হওয়ার ঘটনায় ঠাকুরগাঁওয়ের বালিয়াডাঙ্গী উপজেলার ধনতলা ইউনিয়নের মরিচপাড়া গ্রাম এখন মানুষ শূন্য হয়ে পরেছে। মরিচপাড়া গ্রামের এক কিলোমিটারের মধ্যে মানুষ চলাচলে নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে বালিয়াডাঙ্গী উপজেলা প্রশাসন।
এ ছাড়া ওই এলাকায় থাকা দুইটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানও বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে।
উপজেলা নির্বাহী অফিসার মাসুদুর রহমান মাসুদ জানান, সোমবার রাতে উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে আক্রান্ত পরিবারের চারপাশে এক কিলোমিটার ব্যাসার্ধ জায়গায় মানুষ চলাচলে নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছে। বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে ওই এলাকার একটি মাধ্যমিক ও সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়। নিরাপত্তার জন্য ওই এলাকার মানুষগুলো নিরাপদ স্থানে সরে যাওয়ার নির্দেশনা প্রদান করা হয়েছে বলে জানান উপজেলা নির্বাহী অফিসার মাসুদুর রহমান।
উপজেলা নির্বাহী অফিসার মাসুদুর রহমান মাসুদ আরো বলেন, ঢাকা থেকে আসা মেডিকেল টিম ঘটনাস্থল পরিদর্শন শেষে যদি এলাকায় মানুষ চলাচলে নিরাপদ মনে করেন, তাহলেই চলাচলের নিষেধাজ্ঞার আদেশ তুলে নেওয়া হবে।
এ দিকে একই রোগে আক্রান্ত হয়ে বালিয়াডাঙ্গী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে অ্যাম্বুলেন্স ড্রাইভার মোতালেব আক্রান্ত হয়ে রংপুর মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে।
এছাড়াও এর আগে সোমবার রংপুর মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালে বর্তমানে মৃত ইউসুফের স্ত্রী কোহিনুর, তার ছেলে আবির হোসেন, শ্বশুর রবিউল ইসলাম চিকিৎসার জন্য ভর্তি হয়েছে।
ঠাকুরগাঁওয়ের ভারপ্রাপ্ত সিভিল সার্জন শাহজাহান নেওয়াজের নেতৃত্বে একটি চিকিৎসক দল ভান্ডার দহ মরিচপাড়া গ্রাম পরিদর্শন করে গ্রামবাসীকে আতঙ্কিত না হওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন।
তিনি বলেন, “এই অজ্ঞাত রোগটি পরীক্ষা-নিরীক্ষার জন্য ঢাকা থেকে রোগ তত্ত্ব নিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা ইনস্টিটিউট (আইইডিসিআর) থেকে একটি বিশেষজ্ঞ দল ঘটনাস্থলে আসবেন। আশা করি দুই এক দিনের এই অজ্ঞাত রোগের কারণ বলা যাবে।”
অজ্ঞাত রোগের লক্ষণ বিষয়ে তিনি বলেন, এ রোগে আক্রান্ত ব্যক্তিরা প্রথমে প্রচণ্ড জ্বরে আক্রান্ত একই সঙ্গে প্রচণ্ড মাথা ব্যথা এবং গলা বসে যায়।
এই অজ্ঞাত রোগে প্রথমে আক্রান্ত হয়ে বালিয়াডাঙ্গী উপজেলার ভান্ডার দহ মরিচপাড়া গ্রামের ফজর আলীর ছেলে আবু তাহের (৫৫) গত ৯ ফেব্রুয়ারি মারা যায়। তার মৃত্যুর ১১ দিন পর একই রোগে আক্রান্ত হয়ে ২১ ফেব্রুয়ারি মারা যান আবু তাহেরের জামাতা হাবিবুর রহমান (৩৫) ও স্ত্রী হোসনে আরা (৪৫)।
তিন দিনের মাথায় ২৪ ফেব্রুয়ারি আবু তাহেরের দুই ছেলে ইউসুফ আলী (৩০) ও মেহেদী হাসান (২৭) অসুস্থ হলে রংপুর হাসপাতালে নেওয়ার পথে ইউসুফ সকালে এবং চিকিৎসাধীন অবস্থায় রাত ৯টায় মৃত্যুবরণ করেন মেহেদী।