পাকিস্তানের বালাকোটে কথিত জইশ-ই-মুহাম্মদের ঘাঁটিতে ভারতীয় বিমান হামলার ঘটনায় কড়া হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেছে পাক সেনাবাহিনী। তারা বলেছে, এখন পাকিস্তানের বিস্ময়কর জবাবের জন্য ভারতকে অপেক্ষা করতে হবে।
মঙ্গলবার সন্ধ্যায় এক সংবাদ সম্মেলনে পাকিস্তান সশস্ত্র বাহিনীর আন্তবাহিনী জনসংযোগ অধিদপ্তরের (আইএসপিআর) মুখপাত্র মেজর জেনারেল আসিফ গফুর এ হুঁশিয়ারি দেন।
ভারতকে উদ্দেশ করে তিনি বলেন, “আমরা ভিন্নভাবে এর জবাব দেব এবং তোমাদের অবাক করে দেব।”
সশস্ত্র বাহিনীর মুখপাত্র বলেন, “আজ আমাদের প্রধানমন্ত্রী যে কোনো ধরনের পরিস্থিতির জন্য সবাইকে প্রস্তুত থাকতে বলেছেন। আমরা সবাই প্রস্তুত। এখন আমাদের জবাব মোকাবেলা করতে ভারতের অপেক্ষার পালা।”
তিনি বলেন, “একটা পর্যায়ে আমরা ঠিকই জবাব দেব এবং আমাদের সামরিক-বেসামরিক নেতৃত্ব সেই সময় ঠিক করবেন। আর এটাই হলো বাস্তবতা।”
আসিফ গফুর বলেন, “আমরা ইতোমধ্যে ভারতের মুখোশ উন্মোচন করে দিয়েছি। আমরা ফের এটা করবো যাতে বিশ্ব জানতে পারে ভারত আসলে কী চায়।”
হামলায় ৩৫০ জন নিহত হয়েছে ভারতের এমন দাবি নাকচ করে দিয়ে তিনি বলেন, “যদিও ১০ জনও মারা যেত তাদের লাশ কোথায়? কোথায় তাদের জানাজা ও দাফন হলো।”
পাকিস্তান সেনাবাহিনীর এই মুখপাত্র বলেন, বাস্তব অবস্থা দেখানোর জন্য আমরা দেশি-বিদেশি সাংবাদিক, জাতিসংঘ প্রতিনিধিসহ কূটনীতিকদের ঘটনাস্থলে নিয়ে যেতে প্রস্তুত রয়েছি।
পাকিস্তানে ভারতীয় বিমান বাহিনীর হামলায় কাশ্মীরের বিচ্ছিন্নতাবাদী সংগঠন জইশ-ই-মুহাম্মদের শীর্ষ কমান্ডারসহ ৩০০ জঙ্গি নিহত হয়েছে বলে দাবি করেছে ভারত।
মঙ্গলবার ভোরে ভারতের সঙ্গে পাকিস্তান শাসিত কাশ্মীরের সীমান্তরেখার নিকটবর্তী এলাকা বালাকোটে এ হামলা চালানো হয়।
তবে এক টুইটার বার্তায় পাকিস্তান সশস্ত্র বাহিনীর মুখপাত্র বলেন, “ভারতীয় বিমানবাহিনী আন্তর্জাতিক আকাশসীমা লঙ্ঘন করেছে। দ্রুত পালিয়ে বাঁচার জন্য বালাকোটের কাছে ভারতীয় বিমান ফাঁকা জায়গায় বোমা ফেলে পালিয়ে যায়।”
তিনি জানান, পাক বিমানবাহিনী দ্রুত ও কার্যকরী ব্যবস্থায় ধাওয়া খেয়ে ভারতীয় বিমান পিছু হটে। এতে কোনো ক্ষয়ক্ষতি ও হতাহত হয়নি।
গত ১৪ ফেব্রুয়ারি ভারত নিয়ন্ত্রিত কাশ্মীরের পুলওয়ামায় একটি বহরে আত্মঘাতী গাড়িবোমা হামলা চালালে ৪৯ জন সেন্ট্রাল রিজার্ভ পুলিশ ফোর্স-সিআরপিএফ জওয়ান নিহত হন।
কাশ্মীরের বিচ্ছিন্নতাবাদী সংগঠন জইশ-ই-মুহাম্মদ ভিডিও ও ছবি শেয়ার করে ওই হামলার দায় স্বীকার করেছে। পাকিস্তানের সহায়তা ও পৃষ্ঠপোষকতায় এ হামলা চালিয়েছে বলে দাবি করে ভারত। পাকিস্তান তা নাকচ করে দিলেও দুই প্রতিবেশী দেশের মধ্যে যুদ্ধাবস্থা সৃষ্টি হয়।