ভারত-পাকিস্তান যুদ্ধ দামামা দক্ষিণ এশিয়াজুড়ে উত্তেজনা

দক্ষিণ এশিয়ার পরমাণু শক্তিধর দুই দেশ ভারত এবং পাকিস্তানের মধ্যকার দ্বন্দ্বে উদ্বিগ্ন পররাষ্ট্রনীতি বিষয়ক বুদ্ধিজীবীরা। ভারতের জাতীয়তাবাদী সরকারপ্রধান নরেন্দ্র মোদি আগামী জাতীয় নির্বাচনের আগে দেশের অভ্যন্তরে নিজের ভাবমূর্তি পুনরুদ্ধারে এবং ভোটব্যাংক টানতে কোনো ঘটনার আশ্রয় নিতে পারেন এমনটা আগে থেকেই ভাবা হচ্ছিল। অন্যদিকে কিছুদিন আগে ক্ষমতায় আসা পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী ইমরান খান চাইবেন দেশে নিজেকে অপরিহার্য প্রমাণ করতে এমনও বলছিলেন অনেকে।

সাম্প্রতিক সময়ে ভারত নিয়ন্ত্রিত কাশ্মীরের পুলওয়ামাতে ভারতীয় আধাসামরিক বাহিনীর কনভয়ে আত্মঘাতী বোমা হামলার পর মোদির পক্ষে নির্বাচনকে প্রভাবিত করা সহজ হবে বলে মনে করছেন অনেকে। যার ফলে গতকাল মঙ্গলবার ভোররাতে পাকিস্তান নিয়ন্ত্রিত কাশ্মীরের বালাকোটে ভারতীয় বিমানবাহিনী হামলা চালিয়েছে।বিশ্লেষকরা বলছেন, ভারত-পাকিস্তানের মধ্যে কাশ্মীর নিয়ে জটিলতা দক্ষিণ এশিয়ার ভূ-রাজনীতিতে যুক্তরাষ্ট্রকে প্রবেশের সুযোগ করে দেবে। কারণ এমন দ্বন্দ্ব এই অঞ্চলে যুক্তরাষ্ট্রের স্বার্থকে লঙ্ঘিত করবে না, বরং ওয়াশিংটনের অনুকূলে যাবে। যুক্তরাষ্ট্র বর্তমানে বহির্দেশে তাদের সেনাশক্তি মোতায়েনের প্রতিশ্রুতি নিয়ে কিছুটা বিপাকে। সিরিয়া যুদ্ধ থেকে শুরু করে আফগানিস্তানে মোতায়েন করা সেনাদের পেছনে ব্যয় হওয়া প্রত্যেকটি ডলারের হিসাব দিতে হচ্ছে ট্রাম্প প্রশাসনকে। ঠিক এমন অবস্থায় যুক্তরাষ্ট্র তার পররাষ্ট্রনীতির হাত ধরে নতুন করে কোনো দেশে সেনা মোতায়েন না করেই কৌশল খাটিয়ে নিজেদের উপস্থিতি নিশ্চিত করতে চায়। কারণ তার সামনে আফগানিস্তান পরিস্থিতি জ্বলজ্বলে উদাহরণ হিসেবে দাঁড়িয়ে। যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সঙ্গে দক্ষিণ এশিয়ার ভূ-রাজনীতিতে ভারতের পক্ষাবলম্বন করে রাজনৈতিক স্বার্থ আছে রাশিয়ার, যেমনটা পাকিস্তানকে সমর্থন দিয়ে আছে যুক্তরাষ্ট্রের। শীতলযুদ্ধ শেষ হওয়ার পর বিশ্বের অন্যান্য অঞ্চলের বাইরে একমাত্র এশিয়াই যেখানে এই দুই পরাশক্তি পুরোপুরি নিজেদের অস্তিত্ব জানান দিতে পারেনি। কিন্তু বিশ্লেষকরা বলছেন, পাকিস্তানে এমনিতেই যুক্তরাষ্ট্রের সেনাবাহিনী রয়েছে। বালাকোটে হামলার পর পাকিস্তান যদি আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের কাছে সহায়তা চায় সে ক্ষেত্রে মিত্র হিসেবে প্রথম পদক্ষেপ যুক্তরাষ্ট্রকেই নিতে হবে। একই বাস্তবতা রাশিয়ার ক্ষেত্রেও। পাকিস্তানের রাজনীতিতে ইমরান খান যতই পরিবর্তন নিয়ে আসার কথা বলুন না কেন, অভ্যন্তরীণ ধর্মীয় রাজনীতির ময়দানে তিনি অতটা পরিপক্ব নন। ফলে দেশের অর্থনৈতিক নিরাপত্তা নিশ্চিতে তাকে রিয়াদ এবং পেইচিংকেও খুশি রাখতে হয়েছে মৌলবাদকে আশকারা দিয়ে। ২০১৭ সালে ভারত সরকার চেষ্টা করেছিল জাতিসংঘ যাতে জইশ-ই-মোহাম্মদের নেতা আজাহার মাসুদকে সন্ত্রাসী হিসেবে স্বীকৃতি দেয়। কিন্তু পাকিস্তানের মিত্র চীনের ভেটোতে তা সম্ভব হয়নি। এদিকে সীমান্তরেখা পেরিয়ে পাকিস্তান অধিকৃত কাশ্মীরের ভেতরে ভারতীয় বিমানবাহিনীর হামলার পর দুই দেশের মাঝে চলমান উত্তেজনার প্রভাব পড়েছে ভারতের শেয়ারবাজারে।