রাজধানীর দক্ষিণখানে পানির ট্যাংক থেকে উদ্ধার হওয়া শিশু রিফাতের লাশ নিয়ে বুধবার দিনভর বিক্ষোভ করেছে এলাকাবাসী।
খুনিদের বিচারের দাবিতে বিক্ষুব্ধ এলাকাবাসী সাড়ে চার ঘণ্টা বিমানবন্দর সড়ক অবরোধ করে রাখার পর পুলিশ লাঠিপেটা ও টিয়ারগ্যাস নিক্ষেপ করে রাস্তা থেকে বিক্ষোভকারীদের সরিয়ে দেয়।
দক্ষিণখান থানা এলাকার আজমপুরে অজিত কুমার বসাকের বাসার পানির ট্যাংক থেকে মঙ্গলবার বিকেলে উদ্ধার করা হয় রিফাতের লাশ। খুনিদের বিচার দাবিতে মঙ্গলবার গভীর রাতেও দক্ষিণখান থানার সামনে আন্দোলন করে এলাকাবাসী। শনিবার থেকে নিখোঁজ ছিল শিশু রিফাত।
বুধবার সকাল ৯টায় বিচারের দাবিতে দক্ষিণখানের জসীমউদ্দিন মোড় থেকে রাজলক্ষ্মী মোড় পর্যন্ত রাস্তায় বিক্ষোভ মিছিল করে স্থানীয়রা। দুপুর ১২ টার দিকে তারা সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করতে থাকে। এতে বিমানবন্দর এলাকায় ব্যাপক যানজটের সৃষ্টি হয়। পরে বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে পুলিশ আন্দোলনকারীদের ওপর টিয়ারগ্যাস নিক্ষেপ ও লাঠিপেটা করে রাস্তা থেকে সরিয়ে দিয়ে যান চলাচল স্বাভাবিক করে। সন্ধ্যায় লাশ নিয়ে ফের বিচারের দাবিতে অজিত কুমার বসাকের বাসার সামনে বিক্ষোভ করলে পুলিশ বিক্ষোভকারীদের আবারও লাঠিপেটা করে সরিয়ে।
পুলিশের উত্তরা বিভাগের অতিরিক্ত উপ-কমিশনার নুরুল আলম বলেন, ‘আন্দোলনে ব্যাপক যানজটে সাধারণ মানুষ জিম্মি হয়ে পড়ায় কাঁদুনে গ্যাসের শেল ছুড়ে সড়ক থেকে বিক্ষোভকারীদের সরিয়ে দেওয়া হয়েছে। এতে কেউ হতাহত হয়নি।’
এর আগে গত মঙ্গলবার থানায় মামলা না নেওয়ায় লাশ নিয়ে বিক্ষোভ করে স্থানীয়রা। পরে তার আড়াইটার দিকে মামলা নেওয়া হয় বলে জানায় শিশুটির পরিবার। তবে প্রথমে মামলা না নেওয়ার অভিযোগ অস্বীকার করে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা দক্ষিণখান থানার এস আই গোলাম রাব্বানি দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘শিশু রিফাতের বাবা আব্দুর রসিদ বাদী হয়ে লাশ উদ্ধার হওয়া ওই বাড়ির মালিক অজিত কুমার বসাক ও তার স্ত্রী রেখা রানি বসাককে আসামি করে একটি হত্যা মামলা করেছে।’
তিনি আরও বলেন, ‘আমি এখন নির্বাচনী ডিউটিতে আছি। বেশি কিছু বলতে পারছি না।’
নিহত শিশুর ফুপু শারমিন দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘গত শনিবার থেকে শিশু রিফাত নিখোঁজ ছিল। তাকে কোথাও খুঁজে পাওয়া যাচ্ছিল না। পরে মঙ্গলবার রিফাতের দুই খেলার সাথি জানায় শনিবার দক্ষিণ আজমপুরের আমিরুদ্দিন রোডের অজিত কুমার বসাকের বাড়িতে তারা খেলতে যায়। এতে অজিত কুমার ক্ষিপ্ত হয়ে তিনজনকেই আটক করে মারধর করে দুজনকে ছেড়ে দিলেও রিফাতকে আটকে রাখে। এই কথার সূত্র ধরে মঙ্গলবার বিকেলে পুলিশ ও স্থানীয়দের সহায়তায় ওই বাসার পানির ট্যাংক থেকে শিশুটির মরদেহ উদ্ধার করা হয়।
তিনি অভিযোগ করেন, বাড়িওয়ালার মারধরে রিফাতের মৃত্যু হয়। ঘটনা ধামাচাপা দিতে বাড়ির পানির ট্যাংকে ফেলে দেওয়া হয় রিফাতের মরদেহ। বিচারের দাবিতে অজিত কুমারের বাসার সামনে লাশ নিয়ে আন্দোলন করলে পুলিশ আমাদের মারধর করে। এতে রিফাতের ভাই রিয়াদ আহত হয়েছে।’
স্থানীয়দের অভিযোগ, অভিযুক্ত বাড়িওয়ালা প্রভাবশালী হওয়ায় পুলিশ মামলা নিতে টাল বাহানা করেছে।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে দক্ষিণ খান থানার ওসি তপন কুমার সাহা দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘মঙ্গলবার রাত আড়াইটার দিকে মামলা নেওয়া হয়েছে। শিশুটির বাবা বাদী হয়ে দুজনকে আসামি করে মামলা করেছে। এখনো আসামিদের ধরা সম্ভব হয়নি। পরিস্থিতি এখন স্বাভাবিক।’
দক্ষিণ খান আজমপুর মুন্সিমার্কেটের মুক্তিযোদ্ধা রোডের পানির পাম্প সংলগ্ন মতিনের বাড়ির ভাড়াটিয়া আবদুর রসিদ। আর রিফাতের লাশটি পাওয়া গেছে দক্ষিণ আজমপুর এর ৫৬/২ আমিরুদ্দি রোডের অজিত কুমার বসাকের বাড়ির পানির ট্যাংক থেকে। বুধবার সন্ধ্যা সাতটার দিকে দক্ষিণখান ৬ নম্বর সেক্টরের কবরস্থানে লাশ দাফন করা হয়।