লোভ ও ক্ষোভ থেকে খুন ইডেনের সাবেক অধ্যক্ষ

লোভ ও ক্ষোভের কারণে দুই গৃহকর্মী ইডেন কলেজের সাবেক অধ্যক্ষ মাহফুজা চৌধুরী পারভীনকে বালিশ চাপা দিয়ে হত্যা করে বলে প্রাথমিক তদন্তে নিশ্চিত হয়েছে পুলিশ।

বুধবার নিউমার্কেট থানা কম্পাউন্ডে এক সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানান ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) রমনা বিভাগের উপপুলিশ কমিশনার শেখ মারুফ হোসেন সরদার।

তিনি বলেন, এই ঘটনায় এখন পর্যন্ত পরিবার বা অন্য কোন পক্ষের ইন্ধন থাকার তথ্য পাওয়া যায়নি। আমাদের তদন্ত মাত্র শুরু হয়েছে। ময়নাতদন্ত প্রতিবেদন পাওয়ার পর এবং বিশদ তদন্তে হত্যাকাণ্ডের প্রকৃত কারণ বিস্তারিত জানা যাবে। 

শেখ মারুফ বলেন, রেশমাকে প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে জানা গেছে তারা দুজন বালিশ চাপা দিয়ে অধ্যক্ষ মাহফুজাকে হত্যা করেন। দুই গৃহকর্মীকে ‘বকাঝকা’ করার প্রতিশোধ ও ধন সম্পদ লুণ্ঠনের লোভে তারা হত্যার পরিকল্পনা করে। তারা মনে করত যে, এ নারীকে মারতে পারলে অনেক টাকা পয়সা ও গয়না পাওয়া যাবে। রেশমা এ হত্যা মামলার প্রধান আসামি। মাহফুজাকে হত্যার পর এত দিন রেশমা আত্মগোপনে ছিলেন।

পরে নিউমার্কেট থানা-পুলিশ অভিযান চালিয়ে পল্লবী থেকে রেশমাকে গ্রেপ্তার করে। এ সময় একটি স্বর্ণের চেইন, সাত হাজার টাকা ও দুইটি মোবাইল উদ্ধার করা হয়।’

এর আগে একই মামলায় অধ্যক্ষ মাহফুজা চৌধুরীর অপর গৃহকর্মী স্বপ্না ও তাদের সরবরাহকারী রুনু বেগমকে গ্রেপ্তার করা হয়। স্বপ্না এরই মধ্যে হত্যার দায় স্বীকার করে আদালতে জবানবন্দি দিয়েছে।

শুধুই কি ক্ষোভ আর লোভ থেকেই এই খুন হয়েছে নাকি এর পেছনে অন্য কোনো কারণ আছে জানতে চাইলে উপকমিশনার বলেন, ‘রিমান্ডে এনে জিজ্ঞাসাবাদ করলে আরও কিছু থাকলে সেটাও বেরিয়ে আসবে। তারা যা বলেছে, তাই যে বিশ্বাস করতে হবে তা নয়। বাঁচার জন্য অনেক কিছুই বলতে পারে। ভবিষ্যতে আরও অনেক কিছু বের হতে পারে।’

নগরবাসীর প্রতি আহ্বান জানিয়ে মারুফ হোসেন সরদার বলেন, ‘গৃহকর্মী বা গাড়ি চালক নিয়োগের সময় বায়োডাটা ফরম পূরণ করে থানায় জমা দেবেন। এতে কেউ অপরাধ করলে তাকে আইনের আওতায় আনা আমাদের জন্য সহজ হয়।

গত ১০ ফেব্রুয়ারি রাত ৮টার দিকে রাজধানীর এলিফ্যান্ট রোডের সুকন্যা টাওয়ার ভবনে নিজ বাসা থেকে ইডেন কলেজের সাবেক অধ্যক্ষ মাহফুজা চৌধুরী পারভিনের লাশ উদ্ধার করে পুলিশ।

১১ ফেব্রুয়ারি নিহতের স্বামী মুক্তিযোদ্ধা সংসদের ভাইস চেয়ারম্যান ইসমত কাদির গামা দুই গৃহকর্মী স্বপ্না (৩০) ও রেশমা (৩৬) এবং তাদের সরবরাহ করা রুনু আক্তারকে আসামি করে নিউমার্কেট থানায় মামলা করেন।