নিজের নির্বাচনী এলাকা নড়াইল-২ আসনের সংসদীয় এলাকা পরিদর্শণ করে বিভিন্ন কাজের অগ্রগতি বিষয়ে কথা বলেছেন সংসদ সদস্য বাংলাদেশ জাতীয় ক্রিকেট দলের অধিনায়ক মাশরাফী বিন মোর্ত্তজা। এসময় এলাকার লোকজনকে আশ্বস্ত করে বলেছেন- সমস্যা হলে আমাকে বলবেন, সমাধান করে দেবো।
বৃহস্পতিবার সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত নির্বাচনী এলাকায় গিয়ে জনগণের সমস্যার কথা শুনে সঙ্গে সঙ্গেই সমাধানের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে নির্দেশ দেন। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষও বিষয়টি দ্রুত সমাধানের জন্য আশ্বাস দেন।
মাশরাফী বিন মোর্ত্তজার একান্ত সহকারী (পিএ) মো. জামিল আহমেদ জানান, বৃহস্পতিবার সকাল সাড়ে ১০টার দিকে এমপি মাশরাফী বিন মোর্ত্তজা নড়াইল শহরের বাসা হতে লোহাগড়া উপজেলা এলাকার দিকে রওনা হন।
এ সময় তার সাথে ছিলেন নড়াইলের জেলা প্রশাসক আনজুমান আরা, পুলিশ সুপার মোহাম্মদ জসিম উদ্দিন পিপিএম, এলজিইডি নড়াইলের নির্বাহী প্রকৌশলী বিধান চন্দ্র সোমদ্দার, পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী শাহনেওয়াজ তালুকদার সহ বেশ কয়েকটি দপ্তরের কর্মকর্তাদের।
লোহাগড়া যাওয়ার পথে প্রথমেই তিনি নড়াইল-কালনা সড়কের মুলদাইড় হাওয়াইখালী সেতুর ওপর দাঁড়িয়ে পড়েন। এ সময় হাওয়াইখালী খালের পুনঃখনন কার্যক্রম পরিদর্শন করেন এবং জনগণের সঙ্গে কথা বলেন।
স্থানীয় জনগণ জানান, খালটি পুনঃখনন করা হলেও খালের ওপর নির্মিত স্লুইসগেটটি উঁচু হওয়ায় খালের পানি চলাচলে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি হবে। বিষয়টি সমাধানের জন্য তাৎক্ষণিকভাবে পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলীকে নির্দেশ দেন।
প্রয়াত বীরশ্রেষ্ঠ নূর মোহাম্মদ শেখের স্ত্রী ফজিলাতুন্নেছার চেষ্টায় হাওয়াইখালী হতে চালিতাতলা পর্যন্ত সড়কটি পাকাকরণের কাজ শুরু হলেও ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের গাফিলাতিতে কাজে চলছে ধীর গতিতে। তা ছাড়া রাস্তাটি খুঁড়ে রাখলেও বালু ও খোয়া দেওয়ায় সাধারণ মানুষের দুর্ভোগ চরম আকার ধারণ করেছে।
সাধারণ জনগণের এমন অভিযোগে সেখানে উপস্থিত এলজিইডি নড়াইলের নির্বাহী প্রকৌশলী বিধান চন্দ্র সোমদ্দারকে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেন। ঠিকাদারের সঙ্গে কথা বলে খুব দ্রুত সমস্যার সমাধানের আশ্বাস দেন নির্বাহী প্রকৌশলী। একই সময়ে এলাকার যে কোন সমস্যার জন্য মাশরাফীকে জানানোর জন্য জনগণকে অনুরোধ করেন।
এরপর মাশরাফী বিন মোর্ত্তজার বহর পৌঁছায় লোহাগড়া উপজেলার পাঁচুড়িয়া গ্রামে। এ সময় তিনি পাঁচুড়িয়া মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে যান এবং ছাত্রছাত্রী, শিক্ষক ও সাধারণ মানুষের সঙ্গে কথা বলেন। এ সময় বিদ্যালয়ে ল্যাট্রিন নির্মাণ সহ বিভিন্ন উন্নয়নমূলক কাজে ব্যাপারে পদক্ষেপ নেবেন বলে আশ্বাস দেন।
স্কুলে প্রিয় অধিনায়ককে পেয়ে ছাত্রছাত্রীদের মাঝে যেন অন্যরকম আবেগ-অনুভূতির সৃষ্টি হয়। প্রিয় তারকার সঙ্গে সেলফি তোলার আবদারও মিটিয়েছেন এমপি মাশরাফী।
এমপি মাশরাফী এরপর বহর নিয়ে ছুটে যান কোটাকোল ইউনিয়নের ঘাঘা গ্রামে। নবগঙ্গা নদীর ভাঙন কবলিত দুটি পয়েন্ট পরিদর্শন করেন। এ সময় ভাঙনে ক্ষতিগ্রস্তদের কথা শোনেন এবং তাদের দাবির প্রেক্ষিতে নদীভাঙন প্রতিরোধে প্রকল্প তৈরি করার জন্য পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলীকে নির্দেশ দেন।
এরপর এমপি মাশরাফী ছুটে যান জয়পুর ইউনিয়নের বেলটিয়া নদী ভাঙন এলাকায়। এ সময় স্থানীয় একটি খাল পুন:খনন ও একটি স্লুইসগেট নির্মাণ নিয়ে জনগণের অভিযোগ ও কিছু সুপারিশমালা ধৈর্য সহকারে শোনেন।
মাশরাফী বিন মোর্ত্তজা এরপর লোহাগড়া উপজেলা পরিষদ মিলনায়তনে লোহাগড়া উপজেলার বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তা, ইউপি চেয়ারম্যান সহ সুশীল সমাজের প্রতিনিধিদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় মিলিত হন।
মাশরাফী বিন মোর্ত্তজা তার বক্তব্যে বলেন, নড়াইল জেলাকে মডেল জেলা হিসেবে গড়তে সকলের আন্তরিক সহযোগিতা কামনা করি। পাশাপাশি সরকারি প্রদত্ত প্রকল্প সমূহের সঠিক বাস্তবায়ন চাই। স্বচ্ছতার সঙ্গে কাজ করার ক্ষেত্রে কারও কোন সমস্যা হলে আমাকে বলবেন। আমি আপনাদের সমস্যার সমাধান করবো।
পরে মাশরাফী বিন মোর্ত্তজা লোহাগড়া পৌরসভার জলাবদ্ধতা, ড্রেনেজ সমস্যা সহ নাগরিকদের নানা সমস্যা ও উন্নয়ন কর্মকাণ্ড নিয়ে লোহাগড়া পৌরসভার মেয়র আশরাফুল আলম ও পরিষদের সদস্যদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় মিলিত হন।
গত বুধ ও বৃহস্পতিবার দুদিনব্যাপী মাশরাফী বিন মোর্ত্তজার এমন কর্মকাণ্ডে অবহেলিত নড়াইল জেলার উন্নয়নের ব্যাপারে সাধারণ মানুষ নতুন করে স্বপ্ন দেখতে শুরু করেছেন। অনেকেই মনে করছেন এবার মাশরাফী বিন মোর্ত্তজার হাত ধরে উন্নয়নের ধারায় অবহেলিত নড়াইল জেলাও এগিয়ে যাবে।
নড়াইল জেলা প্রশাসক আনজুমান আরা বলেন, ‘সংসদ সদস্য মাশরাফী বিন মোর্ত্তজার মাধ্যমে নড়াইল জেলার কাঙ্ক্ষিত উন্নয়ন হবে বলে আমরা মনে করি। জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে সর্বাত্মক সহযোগিতা করা হবে।’