পারমাণবিক শক্তির দুই প্রতিবেশী দেশ ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে চলমান উত্তেজনা প্রশমনে মধ্যস্থতা করতে চায় রাশিয়া।
বৃহস্পতিবার দেশ দুইটির মধ্যকার আরও সংঘর্ষের ঝুঁকি নিয়ে সতর্ক করেন এক রুশ কর্মকর্তা।
ডন জানায়, গ্রেপ্তারকৃত ভারতীয় পাইলটকে মুক্তি দেওয়ার ঘোষণার পর পাকিস্তানকে এ প্রস্তাব দেয় রাশিয়া।
একইভাবে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জানান, মার্কিন মধ্যস্থতাও চেষ্টা করছে দুই দেশের মধ্যে সংকট নিরসনে।
বৃহস্পতিবার রাশিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী সের্গেই ল্যাভরভ বলেন, “দুই দেশ যদি চায়, তাহলে রাশিয়া তাদের মধ্যে মধ্যস্থতা করতে রাজি আছে।”
পরে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র মারিয়া জাখারোভা বলেন, “আমরা ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে উত্তেজনা বৃদ্ধি এবং সীমানা নিয়ন্ত্রণ রেখার কাছে দুই দেশের সশস্ত্র বাহিনীর বিপজ্জনক হস্তক্ষেপ সম্পর্কে উদ্বিগ্ন, যা সরাসরি সামরিক সংঘর্ষের জন্য বড় ধরনের ঝুঁকি তৈরি করছে।”
তিনি জানান, তাদের সংকট নিরসনে যে কোনো ধরনের সহযোগিতায় রাজি আছে মস্কো।
এদিকে ক্রেমলিন এক বিবৃতিতে জানায়, ফোনালাপে ভারতের প্রেসিডেন্ট নরেন্দ্র মোদিকে রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন জানান, তিনি যেন প্রতিবেশী দেশ পাকিস্তানের সঙ্গে উত্তেজনা নিরসনে দ্রুত ব্যবস্থা নেন।
উভয় নেতারা পারস্পরিক সামরিক-প্রযুক্তিগত সম্পর্ক আরও শক্তিশালীকরণে নিজেদের আগ্রহ প্রকাশ করেন। গত কয়েক বছরে ভারত রাশিয়া থেকে বিপুল পরিমাণ সামরিক অস্ত্র ক্রয় করায় দুই দেশের মধ্যে সুসম্পর্ক বিরাজ করছে।
গত ১৪ ফেব্রুয়ারি ভারত নিয়ন্ত্রিত কাশ্মীরের পুলওয়ামায় একটি বহরে আত্মঘাতী গাড়িবোমা হামলা চালালে ৪৯ জন সেন্ট্রাল রিজার্ভ পুলিশ ফোর্স-সিআরপিএফ জওয়ান নিহত হন।
কাশ্মীরের বিচ্ছিন্নতাবাদী সংগঠন জইশ-ই-মুহাম্মদ ভিডিও ও ছবি শেয়ার করে ওই হামলার দায় স্বীকার করে। পাকিস্তানের সহায়তা ও পৃষ্ঠপোষকতায় এ হামলা চালিয়েছে বলে দাবি করে ভারত। পাকিস্তান তা নাকচ করে দেয়।
এরই মধ্যে মঙ্গলবার ভোররাতে পাকিস্তানের সীমান্ত অতিক্রম করে ১২টি ভারতীয় যুদ্ধবিমান কথিত জইশ-ই-মুহাম্মদের ঘাঁটিতে হামলা চালালে দুই প্রতিবেশী দেশের মধ্যে যুদ্ধাবস্থা সৃষ্টি হয়।
বুধবার সকালে ভারতের আকাশসীমায় হানা দেয় ২৪টি পাকিস্তানি যুদ্ধবিমান। এসময় ভারতের দুটি যুদ্ধবিমান ভূপাতিত এবং এক পাইলটকে আটকের দাবি করে পাকিস্তান। ভারতও পাকিস্তানের একটি এফ-১৬ যুদ্ধবিমান ভূপাতিত করার দাবি করে।
অবশ্য পাকিস্তান দাবি করেছে, তাদের কোনো যুদ্ধবিমান ভূপাতিত হয়নি এবং ওই অভিযানে এ ধরনের কোনো যুদ্ধবিমান ব্যবহার করেনি তারা।