ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে মুসলিম ছাড়া অন্য ধর্ম ও জাতিগোষ্ঠীর ছাত্রদের একমাত্র আবাস জগন্নাথ হলের ছাত্র সংসদ নির্বাচনের প্রার্থীরা হলে অবৈধভাবে অবস্থানরত বহিরাগতদের তাড়ানোসহ বিভিন্ন প্রতিশ্রুতি দিয়ে ভোট চাইছেন। বিশ্ববিদ্যালয়ের সবচেয়ে বড় এই ছাত্রাবাসকে কেন্দ্র করে মাদক বাণিজ্য, হলের মাঠ ভাড়া দিয়ে রাখা ও ক্যান্টিনে ‘ফাউ খাওয়া’সহ নানা অভিযোগ আছে এই হল নিয়ে।
এই হলের মোট চারটি ভবনে চার শয্যার ২৮৩টি কক্ষ, তিন শয্যার ১৫টি, দুই শয্যার ৭০টি এবং এক শয্যার ১৬০টি কক্ষে মোট ১ হাজার ৪৭৭টি আসন রয়েছে। অছাত্রদের সংখ্যা জানা না গেলেও দীর্ঘদিন ধরেই এখানে অন্য যেকোনো হলের চেয়ে কয়েকগুণ বেশি বহিরাগত অবস্থান করে বলে শিক্ষার্থীদের অভিযোগ।
তারা বলেন, এই হলে ছাত্র সংখ্যার তুলনায় রিডিং রুম অপর্যাপ্ত, খাওয়ার মান কিছুটা ভালো থাকলেও দাম বেশি নেওয়া হয়, গণরুমে অনেক শিক্ষার্থীকে থাকতে হয়। হলের মাঠ ভাড়া দিয়ে রাখা হয় সারা বছর, ছাত্ররা খেলতে পারে না। হলের মাঠে গভীর রাতে মাদকসেবীদের আড্ডা বসে। তাছাড়া হলে অনেক উৎসব-অনুষ্ঠান আয়োজনের কারণে পড়ালেখা ক্ষতিগ্রস্ত হয়।
আগামী ১১ মার্চ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ নির্বাচনের (ডাকসু) সঙ্গে হল সংসদগুলোরও নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। এই নির্বাচনে ক্ষমতাসীন দল সমর্থিত ছাত্রলীগ ও বামপন্থি দলগুলো সমর্থিত প্রগতিশীল ছাত্রজোট অংশ নিচ্ছে।
ছাত্রলীগের সহসভাপতি (ভিপি) প্রার্থী উৎপল বিশ্বাস দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘আমরা ছাত্রদের সঙ্গে এর মধ্যে কথা বলেছি। প্রথম লক্ষ্য মূল্য কমিয়ে ভালো খাবার নিশ্চিত করা। বহিরাগতদের অবস্থান অনেক দিন ধরে চলে আসছে। নির্বাচিত হলে প্রশাসনের সঙ্গে কথা বলে এই সমস্যার সমাধান করব। এই হলকে মডেল হল হিসেবে ক্যাম্পাসে প্রতিষ্ঠিত করতে চাই।’
প্রগতিশীল ছাত্রজোটের ভিপিপ্রার্থী অনুপম দত্ত দেশ বলেন, ‘আমাদের হলের ৪০ শতাংশ শিক্ষার্থী হলের বাইরে থাকে। এর কারণ অনেক অবৈধ শিক্ষার্থী আছে। প্রশাসনের সঙ্গে কথা বলে ব্যবস্থা নেব।’ এই হলে ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক (জিএস) প্রার্থী কাজল দাস বলেন, পূর্ণাঙ্গ আবাসন ব্যবস্থার জন্য কাজ করব। হলের পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা নিয়ে কাজ করব।
এই হলে ছাত্রদল কোনো প্যানেল দিতে পারেনি, প্রতিদ্বন্দ্বিতা হবে ছাত্রলীগ ও প্রগতিশীল ছাত্রজোটের মধ্যে। এছাড়াও জিএস পদে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে আছেন অলোক মজুমদার ও সজল কুমার দাস।