লক্ষ্মীপুরের রামগঞ্জ পৌরসভার প্রধান সড়কসহ বেশির ভাগ সড়কে খানাখন্দ তৈরি হয়ে পৌরবাসীর গলার কাঁটা হিসেবে পরিণত হয়েছে। শহরের সবগুলো রাস্তায় বিশাল বিশাল গর্তের কারণে জনদুর্ভোগ চরমে পৌঁছেছে।
সামান্য বৃষ্টিতেই সড়কগুলোর বিশালাকৃতির গর্তগুলোতে কাদা পানি জমে চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। দুর্ভোগে রয়েছেন সড়কগুলোতে বাধ্য হয়ে চলাচলরত স্থানীয় এলাকাবাসী।
প্রায় ১১ বছর উক্ত সড়কগুলোতে কোনো প্রকার সংস্কার না করায় বছরের পর বছর পৌর কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে কোনো পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে না বলে জানিয়েছেন বেশ কয়েকজন ব্যবসায়ী। ফলে পৌরসভাব্যাপী জনসাধারণের মাঝে অসন্তোষ দেখা দিয়েছে।
জানা যায়, ২০০৩ ইং সনে ৯টি ওয়ার্ড নিয়ে গঠিত রামগঞ্জ পৌরসভা ‘খ’ শ্রেণী থেকে ‘ক’ শ্রেণিতে উন্নীত করেন সাবেক বিএনপি দলীয় সাংসদ ও স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী জিয়াউল হক জিয়া।
সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, খোদ রামগঞ্জ পৌরসভা কার্যালয়ের সামনে বাইপাস সড়কটিতে বিশাল বিশাল গর্তের কারণে যানবাহন ও সাধারণের চলাচল অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। সংস্কারের অভাবে বড়-বড় গর্তে প্রতিনিয়তই ঘটছে দুর্ঘটনা। সামান্য বৃষ্টিতেই খানাখন্দগুলো পানির নিচে তলিয়ে যায়।
রামগঞ্জ উপজেলা পরিষদ ও উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স সড়ক, রামগঞ্জ থানা ও সাব রেজিস্ট্রি অফিস সড়ক, রামগঞ্জ সোনাপুর সড়ক, রামগঞ্জ হাজীগঞ্জ সড়ক, সোনাপুর থেকে চৌরাস্তা সড়ক, রামগঞ্জ পানিয়ালা সড়ক, রামগঞ্জ সরকারী কলেজ, রামগঞ্জ ওয়াপদা সড়ক, রামগঞ্জ মৌলভি বাজার নাজিম গেট সড়কসহ প্রত্যেকটি সড়কে বিশাল গর্ত।
রিকশাচালক তিরিক হোসেন জানান, সড়কগুলোতে গর্তের কারণে কোন যাত্রী রিকশায় উঠতে চান না। তা ছাড়া রিকশা চালালেও দেখা গেছে বিভিন্ন পার্টস ভেঙে যাচ্ছে গর্তে পড়ে। বাধ্য হয়ে আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত আমরা।
মাইক্রো চালক আবদুল হান্নান জানান, সপ্তাহের মাথায় গাড়ির যন্ত্রপাতি ঠিক করতে হয়। সড়কগুলোতে পানিতে সয়লাব থাকে।
রামগঞ্জ পাট বাজার সড়কের ব্যবসায়ী মো. ইউসুফ, মাহমুদ মিয়া জানান, একটা সময় এ সড়কে প্রতিদিন হাজার হাজার মানুষ চলাচল করত। এখন জনশূন্য। একান্ত বাধ্য না হলে মানুষ এখন আর এ সড়কে চলাচল করেন না।
একজন সরকারি চাকরিজীবী জানান, আগে শুনেছি এ উপজেলা অনেক উন্নত। কিন্তু এখানে চাকরি করতে এসে অনেকটা হতাশ বলে তিনি জানান, একটা প্রথম শ্রেণির পৌরসভার রাস্তাঘাট এতটা নাজুক হতে পারে তা ভাবাই যায় না।
নাম প্রকাশ্যে অনিচ্ছুক একজন ওয়ার্ড কাউন্সিলর জানান, পৌরসভার মেয়র সাহেবতো পাজেরো গাড়িতে চলেন। উনার কোন সমস্যা হয় না। স্থানীয় জনগণ আমাদের গালাগাল করেন। জনগণের পক্ষ থেকে সড়কগুলো মেরামতের জন্য বারবার মেয়রের কাছে আবেদন জানানো হলেও কোন কাজ হচ্ছে না।
তিনি আরো জানান, শুধুমাত্র পৌর শহরের রাস্তাগুলো সংস্কার করা হলেই পুরো শহরের চেহারা পাল্টে যাবে।
এ ব্যাপারে রামগঞ্জ পৌরসভার মেয়র ও পৌর আওয়ামী লীগের সভাপতি আবুল খায়ের পাটওয়ারী জানান, খুব শিগগিরই রাস্তাগুলোর সংস্কার কাজ শুরু হবে। টেন্ডার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। আগামী বর্ষার পূর্বেই কাজ শেষ হবে এবং মানুষের দুর্ভোগ লাগব হবে আশা করি।