নিউজিল্যান্ডে খুবই কঠিন সময় পার করছেন বাংলাদেশ বোলাররা। পেস ইউনিট থেকে শুরু করে স্পিনার সবাই ব্যর্থ। পার্টটাইম বোলাররাই যা একটু সাফল্য এনে দিয়েছেন। তাদের সাফল্যটুকু না থাকলে নিউজিল্যান্ডে বাংলাদেশের অবস্থা আরও বিবর্ণ হতো। প্রথম টেস্টের তৃতীয় দিন শেষে সংবাদ সম্মেলনে এসে ব্যর্থতা স্বীকার করলেন বোলিং কোচ সুনিল যোশি। বাংলাদেশ স্পিন কোচের বিশ্বাস সঠিক প্রস্তুতি সেই সঙ্গে সঠিক মানসিকতার অভাবে তার শিষ্যদের এমন অবস্থা। ওয়ানডে বা টেস্ট সিরিজ শুরুর আগে নিউজিল্যান্ডের কন্ডিশনের সঙ্গে যথাযথ ভাবে মানিয়ে নিতে পারেনি বাংলাদেশ বোলাররা। যার কারণে নিজেদের সামর্থ্য দেখাতে তারা অসমর্থ হচ্ছে।
স্বাগতিকরা তাদের প্রথম ইনিংসে ৬ উইকেটে ৭১৫ রানের বিশাল সংগ্রহ গড়ে ইনিংস ঘোষণা করে। ৪৮১ রানে পিছিয়ে থেকে দ্বিতীয় দিন শুরু করে বাংলাদেশ। কিউইদের আবার ব্যাটিংয়ে পাঠানো থেকে ৩০৭ রান দূরে সফরকারীরা। টেস্টে নিজেদের ইতিহাসে প্রথমবার ৭০০ রানের কোটা ছাড়াল নিউজিল্যান্ড। এছাড়া টেস্টে দ্বিতীয়বার শীর্ষ তিন ব্যাটসম্যানই পেয়েছেন সেঞ্চুরির দেখা। এর আগেরবারেরটি ছিল ২০০৩ সালে ভারতের বিপক্ষে। বাংলাদেশের সঙ্গে এমন ঘটনা তৃতীয়বার ঘটল। এর দুই বছর আগে দক্ষিণ আফ্রিকা সফরে স্বাগতিকদের শুরুর তিন ব্যাটসম্যান সাকিব আল হাসানদের বিপক্ষে সেঞ্চুরি করেন। আর প্রথমবার সেই ২০০৭ সালে মিরপুর স্টেডিয়ামের অভিষেক টেস্টে ভারতের শুরুর চার ব্যাটসম্যান পেয়েছিলেন সেঞ্চুরির দেখা।
নিউজিল্যান্ডে ওয়ানডে থেকে টেস্ট, ব্যাটিং থেকে বোলিং সব বিভাগেই কিউইদের সঙ্গে পেরে না ওঠার কারণ সঠিক প্রস্তুতি। এমনটাই বললেন যোশি, ‘কন্ডিশনে অভ্যস্ত হওয়া খুবই বড় ব্যাপার। এই সিরিজের আগে যদি তাকানÑ তাহলে দেখবেন ছেলেরা কিসে ব্যস্ত ছিল। সবাই হোম কন্ডিশনে বিপিএলে খেলে এই সিরিজে এসেছে। আমরা ওই কন্ডিশনেই অভ্যস্ত। তাই দেশের কন্ডিশন পারফরম্যান্সের সঙ্গে এখানকার পারফরম্যান্সের তুলনা করাটা উচিত হবে না।’
তবুও যোশির আঙুল ভিন্ন দিকে। কন্ডিশন, প্রস্তুতি সব পাশে রেখে তামিম ইকবালকে সামনে টানলেন তিনি। বাংলাদেশ ওপেনারের মানসিকতা বাকিদের জন্য উদাহরণ বলে বোলিং কোচ জানান, ‘আমি অবশ্য বিপিএলকে দোষ দিচ্ছি না। আমাদের সঠিক প্রস্তুতিটা হয়নি। এমন কন্ডিশনে মানিয়ে নিতে একটু সময় লাগে। সেটাও বড় অভিযোগের বিষয় নয়। এটা পুরোপুরি ব্যক্তির ওপর নির্ভর করে। দেখুন তামিম কেমন খেলছে। সে কিন্তু ওয়ানডেতে ভালো করেনি। কিন্তু টেস্টে সে বুঝে গেছে এই কন্ডিশনে কীভাবে খেলতে হবে। সে কন্ডিশনের সঙ্গে নিজেকে মানিয়ে নিয়েছে। এটাই বাকিদের করা উচিত। প্রস্তুতি, কন্ডিশন এসব কোনো কারণ হতে পারে না যদি নিজেকে প্রস্তুত করা যায়। বিশ্বের এই অংশে টেস্ট কীভাবে খেলতে হবে সে দিকটা আপনার মানসিকতায় আনতে হবে, বুঝতে হবে। এটা আবারও ব্যক্তি ক্রিকেটারের ওপর নির্ভর করছে। কীভাবে আপনি কন্ডিশনকে বুঝে নেন, কীভাবে নিজেকে প্রস্তুত করেন।’
নিউজিল্যান্ডের কন্ডিশনের সঙ্গে মানিয়ে নিতে পারেননি মেহেদী হাসান মিরাজ। এই টেস্টে দলের মূল ও একমাত্র স্বীকৃত স্পিনার তিনি। কিন্তু মিরাজই গড়লেন দেশের হয়ে মুখ লুকানোর রেকর্ড। বাংলাদেশের ইতিহাসে টেস্টে সবচেয়ে বেশি রান দেওয়া বোলার হয়েছেন এই অফস্পিনার। আর টেস্টে সবচেয়ে বেশি রান দেওয়াদের তালিকায় ষষ্ঠ। যোশি অবশ্য শিষ্যের এই ব্যর্থতাকে স্বাভাবিক ভাবে নিচ্ছেন, ‘এটা সোজাসুজি ব্যাপার। বিশ্বের সব পশ্চিমা ব্যাটসম্যানরা উপমহাদেশে কষ্ট করে। এখানকার পিচ স্পিন সহায়ক। তাই বল একটু ঘুরলেই ইংল্যান্ড-নিউজিল্যান্ডের মতো দলের ব্যাটসম্যানরা খাবি খায়। ঠিক এই ব্যাপারটা তো বোলারদের ক্ষেত্রেও হয়। উপমহাদেশের তুলনায় এই অংশে বল একটুও স্পিন করে না। তাই এখানে স্পিনারদের কাজটা সব সময়ই কঠিন। মিরাজ এখনো অনেক তরুণ। তার জন্য এই পিচে সফল হওয়াটা তাই আরও চ্যালেঞ্জের হয়ে গেছে। অবশ্য সে দ্রুত শিখছে। এমন কন্ডিশনে নিজের ব্যর্থতা কাটিয়ে উঠতে পারবে।’