সুনামগঞ্জের আট উপজেলার সবকটিতেই চেয়ারম্যান পদে ক্ষমতাসীন দলের ‘বিদ্রোহী’ প্রার্থী আছে। স্বতন্ত্র প্রার্থীর ব্যানারে নির্বাচন করলেও ‘আওয়ামী লীগের স্বতন্ত্র’ হিসেবে তারা পরিচয় দিচ্ছেন। আর স্বতন্ত্র এই বিদ্রোহীদের প্রধান টার্গেট নির্বাচনে অংশ না নেওয়া ‘বিএনপির ভোট’।
সুনামগঞ্জের ধর্মপাশা, জামালগঞ্জ, সদর, বিশ্বম্ভরপুর, ছাতক, দোয়ারাবাজার, দিরাই ও শাল্লা উপজেলায় ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের দলীয় প্রার্থীদের পাশাপাশি মনোনয়ন না পেয়ে অনেকেই প্রার্থী হয়েছেন। স্থানীয়ভাবে কেউ তাদের বিদ্রোহী আবার কেউ আওয়ামী লীগের স্বতন্ত্র হিসেবেই ডাকছেন। আর এসব প্রার্থী নিজেদের আওয়ামী লীগের পরিচয় দিয়ে প্রচার কাজ চালাচ্ছেন। তাদের দাবি, মনোনয়ন যথাযথভাবে না হওয়ায় নেতাকর্মীদের ‘চাপে বাধ্য হয়েই’ নির্বাচন করেছেন তারা।
এদিকে, নির্বাচনে এক ডজন বিদ্রোহী প্রার্থীর কারণে বিপাকে পড়েছেন আওয়ামী লীগের প্রার্থীরা। বিদ্রোহীদের পক্ষে প্রকাশ্যে, গোপনে আওয়ামী লীগের অনেকেই ভোট প্রার্থনা করছেন। বিদ্রোহীরা মরিয়া হয়ে নৌকার ভোটে ভাগ বসাতে চাচ্ছেন। অন্যদিকে নির্বাচনে না আসা বিএনপির ভোটের দিকেও তাকিয়ে আছেন। বিদ্রোহীদের আশা নৌকার ভোটে ভাগ বসানোর পাশাপাশি বিএনপির কিছু ভোট পেলেও নির্বাচনী বৈতরণী পার হতে পারবেন তারা। এ জন্য নানা চেষ্টাও করছেন ওইসব প্রার্থী।
বিশ্বম্ভরপুর উপজেলার চেয়ারম্যান সফল উদ্দিন বলেন, ‘আওয়ামী লীগের পাশাপাশি সব দলের ভোট পাব বলে আশা করি। আর যেহেতু আমি স্বতন্ত্র প্রার্থী তাই সব দলের ভোটেই জয়ী হব বলে আশাবাদী। আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরাও আমার সঙ্গে আছে।’
দোয়ারাবাজার উপজেলা আওয়ামী লীগের নেতা স্বতন্ত্র প্রার্থী ফরিদ আহমদ তারেক বলেন, ‘আমি মনোনয়ন না পাওয়ায় সাধারণ মানুষ খুব কষ্ট পেয়েছেন। তৃণমূল থেকে সর্বস্তরের নেতাকর্মী আমার সঙ্গে আছে, আমিই বিজয়ী হব।’ সদর উপজেলার স্বতন্ত্র প্রার্থী মনীষ কান্তি দে বলেন, ‘আমি সবসময় ন্যায়ের পক্ষে, স্বাধীনতার পক্ষে, মুক্তিযুদ্ধের পক্ষে, সাধারণ মানুষের পক্ষে রাজনীতি করেছি। সাধারণ মানুষই আমার ভরসা, দলমত নির্বিশেষে আমাকেই ভোট দেবেন তারা।’