রেজিস্ট্রেশনপ্রাপ্ত সব স্বতন্ত্র ইবতেদায়ি মাদ্রাসা জাতীয়করণের দাবিতে মানববন্ধন করেছেন শিক্ষকরা। গতকাল রবিবার জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে মানববন্ধন করেন তারা। মানববন্ধন শেষে তিন সদস্যের প্রতিনিধিদল সচিবালয়ে গিয়ে শিক্ষামন্ত্রীর কাছে স্মারকলিপি দেন। বাংলাদেশ স্বতন্ত্র ইবতেদায়ি মাদ্রাসা শিক্ষক সমিতির ব্যানারে দেওয়া স্মারকলিপিতে সাত দফা দাবি তুলে ধরা হয়। এগুলো হলো প্রাথমিকের মতো মাদ্রাসা বোর্ডের রেজিস্ট্রেশনপ্রাপ্ত সব স্বতন্ত্র ইবতেদায়ি মাদ্রাসা জাতীয়করণ, কোডবিহীন মাদ্রাসাগুলো বোর্ডের মাধ্যমে কোড নম্বরে অন্তর্ভুক্ত করা, প্রাথমিকের মতো প্রতিটি স্বতন্ত্র ইবতেদায়ি মাদ্রাসায় অফিস সহায়ক নিয়োগ, প্রাথমিকের মতো স্বতন্ত্র ইবতেদায়ি মাদ্রাসার শিক্ষকদের পিটিআইয়ের প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা, প্রাথমিকের মতো স্বতন্ত্র ইবতেদায়ি মাদ্রাসাগুলোতে আসবাবপত্র সরবরাহসহ ভবন নির্মাণ, আগের মতো এইচএসসি (মানবিক) শিক্ষকদের নীতিমালায় অন্তর্ভুক্ত করা এবং প্রাথমিকের মতো স্বতন্ত্র ইবতেদায়ি মাদ্রাসাগুলোতে স্থায়ী রেজিস্ট্রেশন ব্যবস্থা চালু করা।
এর আগে মানববন্ধনে স্বতন্ত্র ইবতেদায়ি মাদ্রাসা সমিতির মহাসচিব কাজী মোখলেছুর রহমান বলেন, ‘স্বতন্ত্র ইবতেদায়ি মাদ্রাসা নীতিমালা-২০১৮-এর আলোকে এক হাজার ৫১৯টি মাদ্রাসার হালনাগাদ তথ্য সংগ্রহ করায় প্রধানমন্ত্রী ও শিক্ষামন্ত্রীকে ধন্যবাদ জানাচ্ছি।’ তিনি আরও বলেন, ‘মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ডের রেজিস্ট্রেশনপ্রাপ্ত ও কোডবিহীন মাদ্রাসার মধ্যে এক হাজার ৫১৯টি অনুদানভুক্ত। মাদ্রাসা বোর্ডের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, কোডভুক্ত ও কোডবিহীন প্রায় ১২ হাজার স্বতন্ত্র মাদ্রাসা রয়েছে। এর মধ্যে ৫১৯টি মাদ্রাসা সরকারি অনুদান পেলেও বাকি মাদ্রাসাগুলো অনুদান থেকে বঞ্চিত। এসব মাদ্রাসা শিক্ষকরা বর্তমান দ্রব্যমূল্যের বাজারে মানবেতর জীবনযাপন করছেন।’
দাবি আদায়ে আজ সোমবার আবারও জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে শিক্ষক সমাবেশ ও মানববন্ধন শেষে প্রধানমন্ত্রীর কাছে স্মারকলিপি দেবেন মাদ্রাসা শিক্ষকরা। এ ছাড়া আগামী ৫ মার্চ জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে অবস্থান ধর্মঘট করবেন তারা।