কক্সবাজারের উখিয়া ও টেকনাফের রোহিঙ্গা ক্যাম্পে অবস্থানরত বিভিন্ন এনজিও'র চাকরিতে স্থানীয়দের অগ্রাধিকারের দাবিতে কাফনের কাপড় পরে শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন করেছেন এলাকাবাসী।
সোমবার সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত উখিয়া উপজেলার কোটবাজার স্টেশনে এ কর্মসূচি পালিত হয়। ‘অধিকার বাস্তবায়ন কমিটির উখিয়া’র উদ্যোগে এই কর্মসূচি পালিত হয়েছে।
কক্সবাজার-টেকনাফ মহাসড়কের কোটবাজার চৌরাস্তার মাথায় কাফনের কাপড় পরে অবস্থান নেন চাকরি বঞ্চিত শত শত বেকার যুবক। এ সময় তাদের সমর্থনে উখিয়ার স্থানীয় জনতাও রাস্তায় শান্তিপূর্ণ অবস্থান গ্রহণ করেন। কর্মসূচি পালনকালে রাস্তার ধারে হাজার হাজার যানবাহন আটকে পড়ে।
এদিকে শান্তিপূর্ণ অবস্থান কর্মসূচিতে পুলিশ বাধা প্রধানের চেষ্টা করলেও কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটেনি। পরে উপজেলা প্রশাসনের শীর্ষ কর্তাদের আশ্বাসের ভিত্তিতে এক সপ্তাহের আল্টিমেটাম দিয়ে কর্মসূচি স্থগিতের ঘোষণা দেন সংগঠনের শীর্ষ নেতা ইমরুল কায়েস চৌধুরী।
‘অধিকার বাস্তবায়ন কমিটি উখিয়া’র এই শীর্ষ নেতা বলেন, ‘এক মাস আগে থেকে রোহিঙ্গা ক্যাম্পে স্থানীয়দের ছাঁটাই বন্ধ ও চাকরিতে অগ্রাধিকারের দাবিতে এই কর্মসূচির ঘোষণা দেওয়া হয়। ওই সময়ে কক্সবাজার জেলা প্রশাসক মো. কামাল হোসেন ও নির্বাহী কর্মকর্তা নিকারুজ্জামান চৌধুরী রোহিঙ্গা ক্যাম্পে কর্মরত এনজিওদের সমন্বয় সভায় আন্দোলনরত স্থানীয়দের চাকরিতে অগ্রাধিকার দেওয়ার জন্য বিভিন্ন মেয়াদে সময় বেঁধে দিলেও উক্ত এনজিওগুলো বিভিন্ন অজুহাতে তার কোন গুরুত্ব দেয়নি।
প্রতিরোধ সমাবেশে অন্যান্য বক্তারা বলেন, সাম্প্রতিক সময়ে রোহিঙ্গা ক্যাম্পে কর্মরত এনজিওগুলোতে স্থানীয়দের গণহারে ছাঁটাই করা হয়েছে। রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন ঠেকাতে দেশি-বিদেশি এনজিওগুলো পরিকল্পিতভাবে স্থানীয়দের চাকরি থেকে ছাঁটাই করছে। এছাড়াও রোহিঙ্গা ক্যাম্পে নতুন নতুন চাকরির ক্ষেত্রে স্থানীয়দের বাদ দিয়ে এনজিও’র কর্তারা বিশেষ সুবিধা নেওয়ার মাধ্যমে তাদের স্বজনদের চাকরি দিচ্ছে’।
অবস্থান কর্মসূচির খবর পেয়ে উখিয়া উপজেলার সহকারী কমিশনার (ভূমি) ফখরুল ইসলাম ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে বিভিন্ন আশ্বাস দিয়ে আন্দোলনকারীদের শান্ত করেন। এ সময় তিনি বলেন, ‘আপনাদের আন্দোলন ও দাবির যৌক্তিকতা রয়েছে। ইতিমধ্যে আপনাদের বার্তা জেলা প্রশাসক ও ইউএনও মহোদয়ের মাধ্যমে শীর্ষ পর্যায়ে পৌঁছে দেওয়া হয়েছে’।
এদিকে, স্থানীয়দের বাধার মুখে রোহিঙ্গা ক্যাম্পে যেতে পারেনি এনজিও কর্মীরা। সকাল ৭টা থেকে চাকরির দাবিতে কক্সবাজার টেকনাফ আরকান সড়কে কোটবাজারে অবরোধ করে হাজার হাজার স্থানীয়রা। এই সময় তারা রোহিঙ্গা ক্যাম্প মুখী এনজিওদের শত শত গাড়ি ফিরিয়ে দেয়।
উখিয়া থানার ওসি নুরুল ইসলাম জানিয়েছেন, চাকরির দাবিতে সকাল থেকে স্থানীয়রা রাস্তায় অবরোধ করে আন্দোলন শুরু করে। এতে প্রায় ৩ ঘণ্টা ধরে কক্সবাজার-টেকনাফ সড়কে যানবাহন আটকা পড়ে। পরে যানবাহন চলাচল স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরে আসে।