বড় ভাইকে খুন করে ছদ্মপরিচয়ে ভাবিকে নিয়ে সংসার!

বড় ভাই রুবেলকে খুন করে ভাবিকে নিয়ে ঢাকা থেকে পালিয়ে সিলেটে গিয়ে আত্মগোপন করেন ছোট ভাই টিপু সুলতান (২৪)। সেখানে গিয়ে ভাবিকে বিয়ের পর দুজনই তাদের আসল নাম-পরিচয় গোপন রেখে ছদ্মপরিচয়ে নতুন করে সংসার পাতেন। দীর্ঘ চার বছর এভাবে ছদ্মপরিচয়ে থাকার পর অবশেষে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগের (সিআইডি) হাতে ধরা পড়েছেন টিপু।

গত ২ মার্চ সিলেটের কোম্পানীগঞ্জের থানাবাজার গ্রাম থেকে টিপুকে গ্রেপ্তার করে সিআইডির একটি দল। পরে গতকাল সোমবার টিপুকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আদালতে হাজির করে ১০ দিনের রিমান্ড আবেদন করা হলে বিচারক এক দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করে।  সিআইডির ডেমরা অঞ্চলের সহকারী সুপার (এএসপি) ইকবাল হোসেন দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘রুবেল ও টিপু একই মায়ের সন্তান হলেও তাদের বাবা দুজন। রুবেলের বাবা মারা যাওয়ার পর তার মা হায়দার আলী নামে এক ব্যক্তিকে বিয়ে করেন। এই সংসারে জন্ম হয় টিপুর। রুবেল ও তার স্ত্রী রিমার সঙ্গে কেরানীগঞ্জের একই বাসায় থাকতেন টিপু। সেখানে থাকা অবস্থায় টিপুর সঙ্গে পরকীয়ায় জড়িয়ে পড়েন ভাবি রিমা। এ নিয়ে দুই ভাইয়ের মধ্যে দ্বন্দ্ব শুরু হলে টিপু ধারালো অস্ত্র দিয়ে আঘাত করে ভাইকে হত্যা করে। পরে ভাবিকে নিয়ে পালায় সে।’

টিপুকে জিজ্ঞাসাবাদে পাওয়া তথ্যের বরাত দিয়ে সিআইডি কর্মকর্তা ইকবাল হোসেন জানান, কেরানীগঞ্জ থেকে পালিয়ে রুবেল ও রিমা ছদ্মনামে স্বামী-স্ত্রী পরিচয়ে সিলেটের কোম্পানীগঞ্জে বসবাস শুরু করেন। পরে বিয়েও করেন তারা। রুবেল তার নতুন নাম দেন ফাহিম। আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীকে ফাঁকি দিতে তারা তাদের ব্যবহৃত মোবাইল ফোন নম্বর অন্য ব্যক্তিদের নামে নিবন্ধন করেন। এ ছাড়া গ্রেপ্তার এড়াতে পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে যোগাযোগ করতেন না তারা। এর আগে ২০১৬ সালের ১৮ মে ওয়ারী থানা এলাকার দোলাইরপাড়ে খুন হন পেশায় বাসচালক রুবেল। এরপর থেকেই রুবেলের স্ত্রী রিমা ও ছোট ভাই টিপু পলাতক ছিলেন। রুবেল খুন হওয়ার দুদিন পর তার বাবা হায়দার আলী বাদী হয়ে ওয়ারী থানায় একটি মামলা করেন।