পুলিশ স্বামীর বিরুদ্ধে নির্যাতনের মামলা পিপির

যৌতুকের দাবিতে মারধরের অভিযোগে স্বামীর বিরুদ্ধে মামলা করেছেন নারায়ণগঞ্জ জেলা জজ আদালতের অতিরিক্ত পিপি অ্যাডভোকেট জাসমিন আহমেদ। সোমবার দুপুরে নারায়ণগঞ্জ নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আদালতে মামলাটি দায়ের করেন।

মামলায় জাসমিনের স্বামী পুলিশ কর্মকর্তা আবু নকিবকে প্রধান আসামি করা হয়েছে। আবু নকিব ঢাকা মহানগর পুলিশের সার্কেল অফিসার। অন্য আসামিরা হলেন- নকিবের ভাই মো. নাছের নিপুন (৩৫), বোন জুবরিয়া বেগম (৬০), অপর ভাই মো. আবু নোমান সজন (৫০) ও ভাইয়ের স্ত্রী শিরিন আক্তার হিরা (৪৫)।

মামলার অভিযোগ সূত্রে জানা গেছে, সন্তান দানে অক্ষম জেনেও জাসমিন আহমেদের সঙ্গে ২০০৭ সালের ১৪ মে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হন মো. নকীব। বিয়ের পর স্ত্রীর কাছে ৫০ লাখ টাকা যৌতুক দাবি করে অত্যাচার করতে থাকেন স্বামী।

নিজ বিবাহ-জীবন সুখে শান্তিতে কাটানোর জন্য স্বামীকে ১২ লাখ টাকার একটি প্রাইভেটকার, ১টি মোটরসাইকেল এবং ঢাকায় জমি কেনার জন্য নগদ ৫০ লাখ টাকা দেন জাসমিন।

মামলায় আরও উল্লেখ করা হয়, জাসমিনের স্বামী নকিব সম্প্রতি লম্বা দাড়ি ও চালচলন পরিবর্তন করে ইসলামী লেবাস ধারণ করে উগ্র জঙ্গিবাদী সংগঠনে জড়িয়ে পড়েন। ইসলামের অনেক অপব্যাখ্যা দিয়ে জাসমিনকে তার দলে ভেড়ানোর চেষ্টা করে।

এ ছাড়া প্রায়ই জাসমিনকে হত্যার চেষ্টা করে। এর মধ্যে মোটরসাইকেল থেকে একবার ফেলে, ঘুমের মধ্যে গলাটিপে ধরে এবং বালিশ চাপা দিয়ে শ্বাসরোধ করে হত্যার চেষ্টা চালায়।

মামলা দায়েরের পর অতিরিক্ত পিপি জাসমিন আহমেদ বলেন, আমাকে না জানিয়ে আরও দুই বিয়ে করেন নকীব। পরে জাসমিন আহমেদের খোঁজ-খবর নেওয়া বন্ধ করে দেন।

২০১৮ সালের ১০ সেপ্টেম্বর জাসমিনের সঙ্গে দেখা করেন নকীব। সে সময় মারধর করে নগদ ৫ লাখ টাকা, ১০ ভরি স্বর্ণালংকার, দলিল ও বিভিন্ন ডকুমেন্ট নিয়ে চলে যায়। যাওয়ার আগে আরও ৫০ লাখ টাকা যৌতুক দাবি করে বলে তিনি অভিযোগ করেন।

এদিকে মামলার তদন্তের জন্য প্রসিকিউটর জাসমিন আহমেদকে ৭ দিনের মধ্যে অভিযোগ সংবলিত যথাযথ তথ্য জমা দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন নারী ও শিশু দমন ট্রাইব্যুনাল আদালত।

মামলার বিষয়ে জানতে অতিরিক্ত পিপি জাসমিন আহমেদের স্বামী আবু নকিবের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করেও তাকে পাওয়া যায়নি।