নেত্রকোনায় নির্বাচনী সহিংসতা: ভাঙচুর গুলিবর্ষণ, আহত ৮

নেত্রকোনা জেলার কলমাকান্দায় উপজেলা নির্বাচনে আনারস প্রতীকের স্বতন্ত্র প্রার্থী ফজলুল হকের নির্বাচনী অফিস ও উপজেলার কৈলাটী ইউনিয়নের ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি হাবিবুর রহমানের ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠানে হামলা ও ভাঙচুর হয়েছে।

হামলায় ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি হাবিবুর রহমানসহ কমপক্ষে ৮ জন আহত হয়েছে।  তাদের কলমাকান্দা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে। এ সময় উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি চন্দন বিশ্বাস ব্যক্তিগত রিভলবার থেকে ৫-৬ রাউন্ড ফাঁকা গুলি বর্ষণ করেন। পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।

স্বতন্ত্র প্রার্থী ফজলুল হকের সমর্থক ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি হাবিবুর রহমান জানান, মঙ্গলবার রাত ৮টার দিকে উপজেলার কৈলাটী মোড়ে স্বতন্ত্র প্রার্থী ফজলুল হকের নির্বাচনী অফিসে উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি চন্দন বিশ্বাস, সাধারণ সম্পাদক আনোয়ার হোসেন ফৌজদারসহ দলীয় নেতাকর্মী ও সমর্থকেরা বসে আলোচনা করছিলেন।

এ সময় আওয়ামী লীগ দলীয় প্রার্থী আবদুল খালেক তালুকদারের সমর্থক লুৎফুর রহমান, আবদুল খালেক মাস্টার ও শফিকুল ইসলামের নেতৃত্বে ২০-২৫ জন লাঠি সোঁটা নিয়ে তাদের ওপর হামলা চালায়। এতে ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি হাবিবুর রহমান, আওয়ামী লীগ কর্মী সাজল, হারেছ, ফেরদৌস, সাদ্দাম আহত হয়।

আহতদের কলমাকান্দা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে উন্নত চিকিৎসার জন্য কর্তব্যরত চিকিৎসক নেত্রকোনা আধুনিক সদর হাসপাতালে প্রেরণ করেন। হামলাকারীরা স্বতন্ত্র প্রার্থীর নির্বাচনী অফিসের চেয়ার, টেবিল ও তার (ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি) সারের দোকানে হামলা চালিয়ে ভাঙচুর করে।

আত্মরক্ষার্থে উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি চন্দন বিশ্বাস ৬ রাউন্ড ফাঁকা গুলিবর্ষণ করে। এ নিয়ে উভয় পক্ষের মধ্যে টানটান উত্তেজনা বিরাজ করছে।

অন্যদিকে রাত সাড়ে আটটার দিকে কলমাকান্দা উপজেলা আওয়ামী লীগের সহসভাপতি, কৈলাটী ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক জয়নাল আবদিন জানান, উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি চন্দন বিশ্বাসের নেতৃত্বে  মিছিল বের হয়। এ সময় সমর্থকেরা ইউনিয়ন আওয়ামী লীগ অফিস ভাঙচুর করে।

কলমাকান্দা উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি চন্দন বিশ্বাস বলেন, খালেক তালুকদারের সমর্থকেরা আমাদের লোকজনের হামলা চালিয়েছিল। নিজেদের বাঁচাতে কয়েক রাউন্ড ফাঁকা গুলিবর্ষণ করেছি।

কলমাকান্দা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মাজহারুল করিম জানান, স্বতন্ত্র প্রার্থীর নির্বাচনী অফিসে উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি সম্পাদকসহ তাদের সমর্থকেরা বসে আলোচনা করছিলেন। এ সময় প্রতিপক্ষের লোকজন তাদের ওপর হামলা করে। আত্মরক্ষার্থে উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি কয়েক রাউন্ড ফাঁকা গুলিবর্ষণ করেন। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি পুলিশের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।

নেত্রকোনা পুলিশ সুপার জয়দেব চৌধুরী (বিপিএম) জানান, আওয়ামী লীগ ও স্বতন্ত্র প্রার্থীর সমর্থকদের মধ্যে উত্তেজনা দেখা দিয়েছিল। তাদের মধ্যে হাতাহাতির ঘটনা ঘটেছে। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি পুলিশের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।