ডাকসু নির্বাচন

ছাত্রলীগের ইশতেহার প্রকাশ, আচরণবিধি লঙ্ঘনের অভিযোগ

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু) ও হল সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে ইশতেহার প্রকাশ করেছে বাংলাদেশ ছাত্রলীগ। এদিকে ছাত্রলীগের বিরুদ্ধে আচরণবিধি লঙ্ঘনের অভিযোগ পাওয়া গেছে।

ছাত্রলীগের ইশতেহার ও প্যানেল পরিচিতি

বুধবার দুপুরে বিশ্ববিদ্যালয়ের অপরাজেয় বাংলার পাদদেশে এক সভায় ডাকসু নির্বাচনে ‘সম্মিলিত শিক্ষার্থী সংসদ’ নামে ছাত্রলীগের প্যানেল তুলে ধরা হয়। প্যানেলের প্রার্থীদের পরিচয়পর্ব শেষে ছাত্রলীগের ইশতেহার উপস্থাপন করেন সংগঠনের কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক ও ডাকসুর কেন্দ্রীয় সংসদে প্যানেলটির জিএস প্রার্থী গোলাম রাব্বানী ৷

সম্মিলিত শিক্ষার্থী সংসদের এই প্যানেল পরিচিতি অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক সাদ্দাম হোসাইন। ২৫ জন প্রার্থীকে পরিচয় করিয়ে দেন কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের সভাপতি ও সহ-সভাপতি (ভিপি) প্রার্থী রেজওয়ানুল হক চৌধুরী শোভন। একে একে প্রার্থীরা নিজেদের পরিচয় দিয়ে নির্বাচিত হলে কে কী করবেন, তা তুলে ধরেন এবং নিজেদের ব্যালট নম্বর উল্লেখ করে শিক্ষার্থীদের কাছে ভোট চান৷

এসময় ডাকসুর ভিপি প্রার্থী ছাত্রলীগের সভাপতি রেজওয়ানুল হক চৌধুরী শোভন বলেন, ডাকসু একটি অরাজনৈতিক সংগঠন। যেখানে আমরা সাধারণ শিক্ষার্থীদের জন্য কথা বলবো। দীর্ঘদিন পর আমাদের যে প্যানেল হয়েছে এই প্যানেল শুধু আমাদের না, এই প্যানেল বাংলাদেশ ছাত্রলীগের প্রত্যেকটি নেতাকর্মীর। আমরা যদি এই প্রতিষ্ঠান থেকে বিজয়ী হই তাহলে এর প্রতিনিধিত্ব করবে বাংলাদেশ ছাত্রলীগের প্রত্যেকটি নেতাকর্মী। এই সময় তিনি সকলের  কাছে ভোট চান, সাধারণ শিক্ষার্থীদের জন্য কাজ করার সুযোগ চান।

সাধারণ সম্পাদক (জিএস) প্রার্থী গোলাম রাব্বানী বলেন, দীর্ঘদিন পর ডাকসু আলোর মুখ দেখতে যাচ্ছে। আমাদের প্যানেল সেরাদের সেরা। বাংলাদেশ ছাত্রলীগের প্রতি সাধারণ শিক্ষার্থীদের আস্থা রয়েছে। সাধারণ শিক্ষার্থীরা আমাদের ভোট দিবে।   

ছাত্রলীগের ইশতেহারে বলা হয়েছে- ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়কে পূর্ণাঙ্গ আবাসিক বিশ্ববিদ্যালয়ে রূপান্তরের রূপরেখা প্রণয়ন ও আপৎকালীন সমাধান হিসেবে দ্বিতল বা ত্রিতল ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে প্রথম বর্ষের শিক্ষার্থীদের সিঙ্গেল সিটের নিশ্চয়তা, সান্ধ্যকালীন বাণিজ্যিক কোর্স ও সাত কলেজের অধিভুক্তের বিষয়টি পুনর্বিবেচনা, গবেষণাধর্মী বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা, বিশ্ববিদ্যালয়ের সব কার্যক্রমকে অটোমেশনের আওতায় আনা, অযৌক্তিক সব বর্ধিত ফি বাতিল, ক্যাম্পাসে গণপরিবহন নিয়ন্ত্রণ, ক্যাম্পাসে রিকশা ভাড়া নির্ধারণ, মাদকমুক্ত ক্যাম্পাস, আধুনিক গ্রন্থাগার প্রতিষ্ঠা, দরিদ্র শিক্ষার্থীদের জন্য বিশেষ আর্থিক প্যাকেজ, শিক্ষা সফরের জন্য বরাদ্দ বৃদ্ধি, আন্তর্জাতিক মানের বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা, বিশ্ববিদ্যালয়ের মোতাহার হোসেন ভবন ও মোকাররম ভবনে ক্যাফেটেরিয়া স্থাপন, সব শিক্ষার্থীর জন্য স্বাস্থ্যবীমা চালু, হলের পাঠকক্ষে আসন বৃদ্ধি, সমতাভিত্তিক বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা, ক্যানটিনের পুরোনো নিয়ম পরিবর্তন, নবীন শিক্ষার্থীদের জন্য প্রতি বছর বর্ণাঢ্য নবীনবরণের আয়োজন ইত্যাদি।

আচরণবিধি লঙ্ঘনের অভিযোগ

এদিকে ডাকসু ও হল সংসদ নির্বাচনের আচরণবিধি লঙ্ঘন করে মঞ্চ স্থাপন করে ডাকসুর কেন্দ্রীয় সংসদে নিজেদের দলীয় প্যানেলের পরিচিতি সভা করার অভিযোগ পাওয়া গেছে ছাত্রলীগের বিরুদ্ধে। বুধবার দুপুরে বিশ্ববিদ্যালয়ের অপরাজেয় বাংলার পাদদেশে এ সভা অনুষ্ঠিত হয়৷

ডাকসু নির্বাচনের আচরণবিধির ৭ ধারায় বলা হয়েছে, কোনো প্রার্থী বা তার পক্ষে কোনো ছাত্রসংগঠন, কোনো ব্যক্তি বা গোষ্ঠী গেইট, তোরণ, ঘের নির্মাণ, প্যান্ডেল, ক্যাম্প, শামিয়ানা, মঞ্চ স্থাপন ও আলোকসজ্জা করতে পারবেন না।’

এবিষয়ে জানতে চাইলে কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদককে ফোন দিলেও তিনি রিসিভ করেননি। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সাধারণ সম্পাদক সাদ্দাম হোসেন বলেন 'এটি মঞ্চ ছিল না ৷ এটি ছিল একটি পাটাতন ৷ মঞ্চ হলে সেটি আরও উঁচু হতো প্রধান রিটার্নিং কর্মকর্তার অনুমতি নিয়েই আমরা পরিচিতি সভা করেছি৷

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রক্টর অধ্যাপক একেএম গোলাম রব্বানী বলেন, আমাকে কেউ লিখিত অভিযোগ দেয়নি। দিলে ব্যাবস্থা নিবো।