পরমাণু ক্ষেত্র পুনর্নির্মাণে উ. কোরিয়া

পরমাণু নিরস্ত্রীকরণে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে দুই দফা বৈঠকে কার্যকর সমঝোতায় না পৌঁছানো উত্তর কোরিয়া তাদের একটি রকেট উৎক্ষেপণ ক্ষেত্রের আংশিক পুনর্নির্মাণ শুরু করেছে। উপগ্রহ থেকে পাওয়া ছবির বরাত দিয়ে দ্য গার্ডিয়ানের গতকাল বুধবারের এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

ওই ছবিগুলোতে দেখা যায়, ভিয়েতনামের হ্যানয়ে গত সপ্তাহে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে উত্তর কোরিয়ার সর্বোচ্চ নেতা কিম জং উনের নিষ্ফল বৈঠক শেষ হওয়ার কিছু আগে পুনর্নির্মাণকাজ শুরু হয়। গত মঙ্গলবার সন্ধ্যায় ছবিগুলো প্রকাশের মধ্য দিয়ে দুই শক্তির শান্তিচেষ্টা নস্যাৎ হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।

উত্তর কোরিয়ার নতুন তৎপরতার খবরে যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা জন বোল্টন সতর্ক করে বলেন, পরমাণু নিরস্ত্রীকরণ না করলে উত্তর কোরিয়ার ওপর ইতোমধ্যে আরোপ করা কঠোর নিষেধাজ্ঞা কঠোরতর হবে। তিনি ফক্স বিজনেস নেটওয়ার্ককে বলেন, পিয়ংইয়ং তাদের ‘পরমাণু কর্মসূচি ও এর সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সবকিছু ছাড়তে অঙ্গীকারাবদ্ধ কি না’, তা দেখার অপেক্ষায় আছে ওয়াশিংটন।

মার্কিন এ উপদেষ্টা আরও বলেন, ‘তারা এটা (পরমাণু কর্মসূচি) ছাড়তে না চাইলে, আমি মনে করি, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের অবস্থান খুবই স্বচ্ছৃআরোপিত ভয়াবহ অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা থেকে মুক্তি পাচ্ছে না তারা; একই সঙ্গে আমরা এ নিষেধাজ্ঞা আরও জোরালো করার কথা ভাবব।’

নিষেধাজ্ঞা শিথিলের বিনিময়ে পরমাণু নিরস্ত্রীকরণ নিয়ে হ্যানয়ে ট্রাম্প ও কিম কোনো চুক্তিতে সম্মত হতে পারেননি। এ কারণে কাক্সিক্ষত সময়ের আগেই গত বৃহস্পতিবার দ্বিপক্ষীয় বৈঠক শেষ হয়। তবে ট্রাম্প প্রশাসনের কর্মকর্তারা গত মঙ্গলবার বলেন, দুই পক্ষের মধ্যে মতদ্বৈধতা কমিয়ে আনার বিষয়ে অগ্রগতি হয়েছে।

মার্কিন প্রশাসনের এমন বক্তব্যের পরও বাস্তবতা বলছে, সিঙ্গাপুরে ট্রাম্প-কিম প্রথম বৈঠকের পর পিয়ংইয়ং আস্থা অর্জনের যে চেষ্টা করেছিল, এখন তার উল্টোটা হচ্ছে। এর সঙ্গে বোল্টনের হুঁশিয়ারিতে প্রমাণিত হচ্ছে যে, পররাষ্ট্রনীতি নিয়ে ট্রাম্পের দম্ভভরা অর্জন ভেস্তে যাওয়ার ঝুঁকিতে আছে।

শুরুতে দক্ষিণ কোরিয়ার গোয়েন্দা বিভাগ সুহাই উপগ্রহ উৎক্ষেপণ কেন্দ্রে পুনর্নির্মাণের কথা জানায়। পরে স্বতন্ত্র দুটি গবেষণাবিষয়ক ওয়েবসাইটে প্রকাশিত উপগ্রহ ছবিতে দেখা যায়, উত্তর কোরিয়ার টেকনিশিয়ানরা চলমান একটি কাঠামো পুনঃস্থাপন করেছেন। ছবিতে রকেট ইঞ্জিন পরীক্ষার স্ট্যান্ডও দেখা গেছে, যার মধ্য দিয়ে ক্ষেত্রটি পুনর্নির্মাণের ইঙ্গিত পাওয়া গেছে।

উপগ্রহ ছবি প্রকাশ করা দ্য বিয়ন্ড প্যারালাল নামের ওয়েবসাইটের খবরে বলা হয়, ‘এই ক্ষেত্রটি ২০১৮ সালের আগস্ট থেকে পতিত ছিল। এর ফলে বর্তমান কর্মকাণ্ড ইচ্ছাকৃত ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত হওয়ার ইঙ্গিত মেলে।’

বিশ্লেষকদের মতে, পুনর্নির্মাণ মানেই এটা নয় যে, ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষা আসন্ন। সুহাইয়ে এর আগে উপগ্রহ পরীক্ষা করা হয়েছে। এতে আন্তঃমহাদেশীয় ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্রের পরীক্ষা চালানো হয়নি।