২৪ নভেম্বর, ২০১৮। সকালটা কোনোদিন ভুলতে পারবেন না সোহেল রানা। এদিন এক মর্মান্তিক সড়ক দুর্ঘটনায় তিনি হারিয়েছিলেন প্রিয়তমা স্ত্রী তাসলিমা আফরিন ও তিন বছরের ছেলে আবদুল্লাহ আল আফরানকে। প্রিয় মানুষ দুজনকে হারিয়ে তার জীবনে নেমে আসে অমানিশার আঁধার। সেই আঁধার কাটিয়ে সোহেল রানা গতকাল চড়ে বসেছেন কম্বোডিয়াগামী বিমানে। মৃত্যুশোক ভুলে মাঠে নিজেকে প্রমাণ করে এই মিডফিল্ডার প্রথমবারের মতো জাতীয় দলের জার্সি গায়ে চড়ানোর অপেক্ষায়। ৯ মার্চ কম্বোডিয়ার বিপক্ষে হয়ে যেতে পারে তার জাতীয় দলে অভিষেক।
ছুটি কাটিয়ে শেখ রাসেল ক্রীড়া চক্রের ক্যাম্পে যোগ দিতে স্ত্রী ও একমাত্র ছেলেকে নিয়ে গ্রামের বাড়ি মানিকগঞ্জ থেকে মোটরসাইকেল চালিয়ে রওনা দেন সোহেল রানা। পথে একটি মাইক্রোবাস পেছন থেকে ধাক্কা দিলে তার নিচে পড়ে যায় সোহেলের স্ত্রী ও ছেলে। স্থানীয় হাসপাতালে নিতে নিতেই সব শেষ। খানিকটা আহত হলেও সেরে উঠতে সময় নেননি সোহেল। কিন্তু মনে যে ক্ষত তৈরি হয়েছে তা কী করে সারবে? একটা সময় মনেই হচ্ছিল আর স্বাভাবিক জীবনে ফিরতে পারবেন না সোহেল। কিন্তু মাঠের লড়াকু মনোভাবটাই তাকে নতুন করে বাঁচতে শিখিয়েছে। প্রিয়জন হারানোর শোক বুকে নিয়ে তিনি ফিরে আসেন ক্লাবে। শুরু করেন খেলা। চলতি প্রিমিয়ার লিগে নৈপুণ্য দেখিয়ে চোখে পড়েন জাতীয় দলের ইংলিশ কোচ জেমি ডের। কম্বোডিয়ার বিপক্ষে ম্যাচের জন্য মূল দলে সুযোগ পেয়ে যান তিনি। গতকাল বিমানে চড়ার আগে বললেন, ‘জাতীয় দলে খেলার আশাটা আমার চেয়ে আমার স্ত্রীই বেশি করতেন। আজ আমি জাতীয় দলে। অথচ আমার স্ত্রী সেটা দেখে যেতে পারল না। ও বেঁচে থাকলে আজকের দিনে ওই সবচেয়ে বেশি খুশি হতো।’ শোক কাটিয়ে এত অল্প সময়ে জাতীয় দলে ডাক পাওয়া নিয়ে তিনি বলেন, ‘দুর্ঘটনার পর মন শক্ত করে খেলেছি। ওদের দিকে তাকিয়ে খেলেছি যেন জাতীয় দলে সুযোগ পাই।’
শোককে শক্তিতে পরিণত করা সোহেলের এখন লক্ষ্য ভালো খেলে জাতীয় দলে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করা। তা দেখে ওই দূর আকাশ থেকে প্রশান্তির হাসি হাসবেন আফরিন ও আফরান।