সাংবাদিক জামাল খাশোগি হত্যাকাণ্ড নিয়ে সৌদি বাদশাহ সালমান বিন আবদুল আজিজ আল সৌদের সঙ্গে তার উত্তরসূরি যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমানের (এমবিএস) মধ্যে সম্পর্কে ফাটল ধরেছে বলে গুঞ্জন ওঠেছে। রাজপরিবারের ঘনিষ্ঠ একটি সূত্র দ্য গার্ডিয়ানকে এ তথ্য জানিয়েছে।
ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যমটি জানায়, তুরস্কের ইস্তাম্বুলে কনস্যুলেটে ভিন্ন মতাবলম্বী সৌদি সাংবাদিক জামাল খাশোগি হত্যার পর থেকেই বাপ-বেটার মধ্যে অস্বস্তি শুরু হয়। যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা সংস্থার (সিআইএ) চূড়ান্ত মূল্যায়ন হলো, সৌদি যুবরাজের প্রত্যক্ষ নির্দেশেই খাশোগি এ হত্যাকাণ্ড ঘটেছে।
সৌদি যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমানের কড়া সমালোচক হিসেবে পরিচিত ছিলেন জামাল খাশোগি। গত ২ অক্টোবর তুরস্কের ইস্তাম্বুলে সৌদি কনস্যুলেটে প্রবেশের পর নিখোঁজ হন ওয়াশিংটন পোস্টের এই কলামিস্ট।
রাজপরিবার ঘনিষ্ঠ ওই সূত্রের বিশদ বিবরণ অনুযায়ী, এমবিএসের সঙ্গে সৌদি বাদশাহর দূরত্ব নাটকীয় রূপ নেয় ফেব্রুয়ারির শেষের দিকে। সে সময় মিসর সফরের সময় ৮৩ বছর বয়সী বাদশাহকে তার উপদেষ্টারা সতর্ক করে বলেন, তিনি বিদ্রোহের ঝুঁকিতে আছেন। বাদশাহর ঘনিষ্ঠরা এতটাই সতর্ক ছিলেন যে, সম্ভাব্য পরিস্থিতি ঠেকাতে তারা সৌদি স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে বাছাই করে ৩০ জনের একটি দলকে বিমানে করে মিসরে নিয়ে যায়। সৌদি থেকে মিসরে নিরাপত্তাকর্মী নেওয়ার ঘটনা তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়ার অংশ বলে জানায় সূত্রটি।
এটি আরও জানায়, বাদশাহর সঙ্গে যাওয়া নিরাপত্তাকর্মীদের কয়েকজন যুবরাজের অনুগত থাকার ধারণা থেকেও এমনটি করা হয়েছে। এ ছাড়া বাদশাহর সঙ্গে থাকা মিসরীয় নিরাপত্তাকর্মীদেরও সরিয়ে দিয়েছিলেন উপদেষ্টারা।
ঘনিষ্ঠ ওই সূত্রটির মতে, মিসর থেকে বাদশাহর সৌদিতে ফেরার পর বিমানবন্দরে তাকে স্বাগত জানাতে যে ব্যক্তিদের তালিকা করা হয়, তাতে ছিলেন না যুবরাজ। সৌদির আনুষ্ঠানিক এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে থাকা তালিকায় নাম ছিল না এমবিএসের। এর মধ্য দিয়ে সালমান তার ছেলেকে মৃদু শাসন করতে চেয়েছেন বলে মনে করা হচ্ছে।
বাদশাহর মিসর সফরের সময় প্রথা হিসেবে ‘উপ-বাদশাহ’ হিসেবে দেশের দায়িত্বে ছিলেন যুবরাজ। সে সময় এমবিএস তার বাবার অনুপস্থিতিতে ব্যক্তিগত পছন্দের দুটি নিয়োগে স্বাক্ষর করেন। এর একটি প্রিন্সেস রিমা বিনতে বন্দর বিন সুলতানকে প্রথম কোনো নারী দূত হিসেবে যুক্তরাষ্ট্রে নিয়োগ। অপরটি সহোদর খালিদ বিন সালমানকে প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব প্রদান।
এ পরিবর্তনগুলো নিয়ে অনেক দিন ধরে তর্ক-বিতর্ক চললেও সূত্রটির মতে, বাদশাহর অজান্তেই নিয়োগের ঘোষণা দেওয়া হয়েছে। এ নিয়ে ক্ষুব্ধ বাদশাহ মনে করছেন, প্রিন্স খালিদকে এত বড় পদ দেওয়া কাঁচা কাজ।