সিরিয়ায় পতনের দ্বারপ্রান্তে আইএস

সিরিয়ায় দখলে থাকা সর্বশেষ এলাকা থেকে পালানোর সময় জঙ্গি সংগঠন ইসলামিক স্টেটের (আইএস) ৪০০ যোদ্ধাকে বন্দি করেছে যুক্তরাষ্ট্র-সমর্থিত কুর্দি বাহিনী। গত বুধবার সিরিয়ান ডেমোক্রেটিক ফোর্সেসের (এসডিএফ) জ্যেষ্ঠ এক কমান্ডার এ তথ্য জানিয়েছেন বলে আলজাজিরার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে।

ওই কমান্ডার বলেন, দেশটির পূর্বাঞ্চলীয় দেইর আজ জোর প্রদেশের বাঘুজ গ্রামে আইএসের সর্বশেষ ঘাঁটি থেকে আত্মসমর্পণ করেছে সংগঠনটির আরও কয়েকশ সদস্য। তিনি আরও বলেন, ‘ভেতরে আরও বিপুলসংখ্যক যোদ্ধা রয়েছে, যারা আত্মসমর্পণ করতে চায় না।’

গত বুধবার বাঘুজ ছেড়ে যাওয়া দুই হাজারের বেশি লোক আত্মসমর্পণ করে। এর মধ্যে আইএস যোদ্ধারাও রয়েছে। আত্মসমর্পণকারী এসব লোককে মরুভূমির একটি স্থানে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ ও তল্লাশি করা হয়েছে। পরে তাদের খাবার ও পানি সরবরাহ করা হয়।

ইউফ্রেতিস নদীর পূর্বদিকে বাঘুজে লোকজনকে নিরাপদে যাওয়ার সুযোগ করে দেয় যুক্তরাষ্ট্র-সমর্থিত বাহিনী। ওই সময় বাঘুজের ক্ষুব্ধ অনেক বেসামরিক লোককে বলতে শোনা যায়, ‘ইসলামিক স্টেট (আইএস) টিকে থাকবে।’ তাদের এ সেøাগানে বোঝা যাচ্ছে, পরাজয় দৃশ্যমান হওয়ার পরও আইএস যোদ্ধাদের প্রতি সমর্থন রয়েছে অনেকের।

মরুভূমির একটি এলাকায় জড়ো করা হলে একদল নারীকে হইচই ও ক্ষোভ প্রকাশ করতে দেখা যায়। তারা আইএসের প্রশংসা করে সাংবাদিকদের দিকে তেড়ে আসেন। ওই সময় ওই নারীরা ‘ইসলামিক স্টেট থাকবে, আল্লাহু আকবর, আকবর, ইসলামি স্টেট থাকবে’ স্লোগান দেন।

বাঘুজ দখলে নিতে পারলে আইএস হটাতে চার বছর ধরে আন্তর্জাতিক প্রচেষ্টার সমাপ্তি হবে। এ বিষয়ে এসডিএফকে সমর্থন দেওয়া যুক্তরাষ্ট্র নেতৃত্বাধীন জোটের মুখপাত্র মার্কিন কর্নেল শন রায়ান বলেন, আন্তর্জাতিক বাহিনী ‘শেষ যুদ্ধে কোনো সময়সীমা বেঁধে না দেওয়ার বিষয়টি জানতে পেরেছে’।

গত বুধবার আইএসের নিয়ন্ত্রণে থাকা প্রায় এক বর্গকিলোমিটার এলাকায় যুদ্ধের কোনো আলামত দেখা যায়নি। গত ২০ ফেব্রুয়ারি থেকে ১০ হাজারের বেশি লোক বাঘুজ উপত্যকা ছেড়েছে। সে সময় থেকে কালো বোরকা পরা নারী ও বিভিন্ন বয়সী শিশুদের ট্রাকে উঠে মরুতে যেতে দেখা যায়। পরবর্তী সময়ে তাদের তল্লাশি করা হয়। এরপর হাসাকাহ’স আল-হোল এলাকার উত্তরে বাস্তুচ্যুত লোকজনের জন্য তৈরি করা একটি শিবিরে রাখা হয় নারী ও শিশুদের। অন্যদিকে সন্দেহভাজন আইএস যোদ্ধাদের বন্দিশালায় আটক করা হয়।

জনাকীর্ণ আল-হোল শরণার্থী শিবিরে এখন ৫৫ হাজারের বেশি লোক রয়েছে। তাদের অনেকেই বাঘুজ থেকে আসা। তারা দুর্বল, ক্লান্ত ও ক্ষুধার্ত। সেইভ দ্য চিলড্রেনের মতো কিছু বেসরকারি সংগঠনের মতে, মানবিক সহায়তা প্রদানকারী সংগঠনগুলো এত লোককে সামলাতে হিমশিম খাচ্ছে।

মানবিক সহায়তা দানকারী সংস্থা ইন্টারন্যাশনাল রেসকিউ কমিটির ভাষ্য, গত বুধবার আল-হোলে আসে চার হাজার লোক। ডিসেম্বর থেকে শিবিরে আসার পথে ৯০ জনের মৃত্যু হয়েছে। এর মধ্যে দুই-তৃতীয়াংশ শিশু বা নবজাতক।