যুক্তরাষ্ট্রের সিনেটরের জবানবন্দি

বিমানবাহিনীর জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তার হাতে ধর্ষণের শিকার হয়েছি

বিমানবাহিনীতে কর্মরত অবস্থায় জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তার ধর্ষণের শিকার হওয়ার কথা জানিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের এক নারী সিনেটর। স্থানীয় সময় বুধবার দেশটির সামরিক বাহিনীতে যৌন হেনস্তা নিয়ে এক শুনানিতে তিনি এ কথা বলেন।

বিবিসির প্রতিবেদনে জানানো হয়, মার্থা ম্যাকস্যালি নামের ওই সিনেটর যুক্তরাষ্ট্রের জঙ্গিবিমান চালানো প্রথম নারী পাইলট। দেশটির অ্যারিজোনা অঙ্গরাজ্যের রিপাবলিকান পার্টির সিনেটর তিনি। তার ভাষ্য, এতদিন লজ্জা, সংশয় ও প্রচলিত ব্যবস্থার প্রতি অবিশ্বাসের কারণে এ নিয়ে মুখ খোলেননি।

২০১৭ সালে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনীতে যৌন হেনস্তার ছয় হাজার ৮০০ ঘটনা ঘটে। সে বছরে আগের বছরের তুলনায় এ ধরনের ঘটনা ছিল ১০ শতাংশ বেশি।

৫২ বছর বয়সী ম্যাকস্যালি যৌন হেনস্তা নিয়ে মার্কিন কংগ্রেসের উচ্চকক্ষ সিনেটের আর্মড সার্ভিসেস সাব-কমিটির শুনানিতে অংশ নিয়ে ব্যক্তিগত বিষয়টি প্রকাশ করেন। শুনানিতে অন্য অনেকের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘আপনাদের মতো, আমিও সামরিক বাহিনীর যৌন হেনস্তার ভুক্তভোগী। তবে সাহসী অনেক ভুক্তভোগীর মতো আমি যৌন হেনস্তার শিকার হওয়ার কথা জানাইনি। অনেক নারী ও পুরুষের মতো আমিও ওই সময় ব্যবস্থার ওপর আস্থা রাখতে পারিনি।’

ম্যাকস্যালি বলেন, ‘আমি নিজেকেই দায়ী করি। আমি লজ্জিত ও সংশয়ে ছিলাম।’ তিনি বলেন, ‘(অপরাধ) সংঘটনকারীরা ব্যাপকভাবে তাদের ক্ষমতা খাটিয়েছেন। একটি ঘটনার শিকার হয়েছি আমি এবং আমি জ্যেষ্ঠ এক কর্মকর্তার ধর্ষণের শিকার হয়েছি।’ রিপাবলিকান সিনেটরের ভাষ্য, তিনি ঘটনাটি জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তাদের জানানোর চেষ্টা করেছিলেন। কিন্তু ‘পুরোপুরি অসঙ্গত প্রতিক্রিয়া’ দেখিয়েছেন তারা।

একজন আইনপ্রণেতার মুখ থেকে এ ধরনের বক্তব্য শুনে বিস্মিত হয়েছেন নিউ ইয়র্কের সিনেটর ক্রিস্টেন গিলিব্র্যান্ড। তিনি সিনেটের আর্মড সার্ভিসেস সাব-কমিটির ডেমোক্রেটিক পার্টির শীর্ষ পর্যায়ের সদস্য। ‘এ সাক্ষ্যে গভীরভাবে আবেগতাড়িত হওয়ার’ কথা জানিয়েছেন ক্রিস্টেন।

ম্যাকস্যালি যুক্তরাষ্ট্রের বিমানবাহিনীতে ২৬ বছর চাকরি করেন। তিনি সর্বশেষ কর্নেল পদমর্যাদায় উন্নীত হয়েছিলেন। ২০১০ সালে তিনি অবসরে যান।