সিরিয়ার শরণার্থীশিবিরে থাকা আইএস বধূ শামীমা বেগমের তৃতীয় সন্তান মারা যাওয়ায় যুক্তরাজ্যের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সাজিদ জাভিদ সমালোচনার মুখে পড়েছেন।
দেশটির বিরোধী দল থেকে এই মৃত্যুকে ‘অহংকারী এবং অমানবিক’ সিদ্ধান্তের বলি বলে মন্তব্য করা হয়েছে।
বৃহস্পতিবার শামীমার ছেলে সন্তান জারাহ নিউমোনিয়ায় আক্রান্ত হয়ে মারা যায়। শুক্রবার তাদের পারিবারিক আইনজীবী এই খবর দেন।
মেট্রোপলিটন পুলিশের সাবেক প্রধান সুপারিনটেনডেন্ট ডাল বাবু বিবিসিকে বলেন, ‘দেশ হিসেবে একটি শিশুকে রক্ষা করতে আমরা ব্যর্থ।’
২০১৫ সালের ফেব্রুয়ারিতে স্কুলপড়ুয়া তিন তরুণী যুক্তরাজ্য থেকে পালিয়ে সিরিয়ায় আইএসের সঙ্গে যোগ দেন। এদের মধ্যে শামীমা বেগম (১৯) এবং খাদিজা সুলতানা (২০) ছিলেন বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত। তারা পূর্ব লন্ডনের বাংলাদেশি-অধ্যুষিত বেথনাল গ্রিন একাডেমি নামের একটি স্কুলের ছাত্রী ছিলেন।
শামীমা, খাদিজার মতো অন্য তরুণী আমিরা আব্বাসও বিদেশি আইএস যোদ্ধাকে বিয়ে করেন। ২০১৬ সালের এক অভিযানে খাদিজা মারা যান। আমিরা এখনো বেঁচে আছেন।
এর আগে শামীমার এক বছরের মেয়ে এবং তিন মাসের আরেকটি ছেলে মারা যায়। তৃতীয় সন্তানকে বাঁচাতে তিনি ব্রিটেনে ফিরতে চাওয়ার ইচ্ছা প্রকাশ করেন। কিন্তু ব্রিটিশ সরকার তার নাগরিকত্ব কেড়ে নেয়।
শামীমার পরিবার স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জাভিদের কাছে আবেদন করে নাগরিকত্ব ফিরিয়ে দেওয়ার। কিন্তু তিনি রাজি হননি।
বিরোধী দলের নেত্রী এবং ছায়া স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ডিয়ানি অ্যাবট বলেন, ‘কাউকে দেশছাড়া করা আন্তর্জাতিক আইনের পরিপন্থী। একজন ব্রিটিশ নারী তার নাগরিকত্ব হারানোর কারণে তার নিষ্পাপ ছেলেকে হারালেন। এটা অমানবিক।’