রবিউলে উড়ল বিজয়কেতন

দীর্ঘ ৫ মাস পর খেলতে নেমেই জয়। আর সেটা যদি হয় বিদেশের মাটিতে ফিফা র‌্যাংকিং-এ ২০ ধাপ এগিয়ে থাকা প্রতিপক্ষের বিপক্ষে, তবে তো কথাই নেই। গতকাল তেমনই এক জয়ে মেতেছে বাংলাদেশ জাতীয় ফুটবল দল। কম্বোডিয়ার মাটিতে স্বাগতিকদের তারা হারিয়েছে ১-০ গোলে। ৬৫ মিনিটে বদলি হিসেবে খেলতে নেমে দারুণ এক ফিনিশে ২ ম্যাচ পর দেশকে জয়ে ফিরিয়েছেন তরুণ মিডফিল্ডার রবিউল হাসান। এই জয় থেকে পাওয়া আত্মবিশ্বাস সঙ্গী করে বাংলাদেশ অনূর্ধ্ব-২৩ দল আজ রাতে দেশে ফেরার কয়েক ঘণ্টা পরই চড়ে বসবে কাতারের বিমানে। এই মাসের শেষে এএফসি অনূর্ধ্ব-২৩ চ্যাম্পিয়নশিপের বাছাইপর্বের প্রস্তুতিপর্ব চলবে সেখানে। আন্তর্জাতিক প্রীতি ম্যাচ হলেও এই ম্যাচের গুরুত্ব একটু বেশিই বাংলাদেশের জন্য। ম্যাচের আগেই দলের কোচ জেমি ডে জানিয়েছিলেন ম্যাচটিকে তিনি দেখছেন র‌্যাংকিং-এ উন্নতির মঞ্চ হিসেবে। ১৭২-এ থাকা কম্বোডিয়ার কোচ অবশ্য তার অনূর্ধ্ব-২৩ দলকে পরখ করে নিতে এই ম্যাচে বিশ্রামে রেখেছিলেন দলের কয়েকজন সিনিয়র সদস্যকে। বাংলাদেশ কোচও রেখেছেন তারুণ্যে আস্থা। তাই তো অনূর্ধ্ব-২৩ দলের ৭ জন খেলোয়াড়কে দিয়ে শুরু করেছেন। এরপর বদলি হিসেবেও তিনজন নামিয়েছেন তরুণ ফুটবলার। আর এই বদলেই এসেছে সাফল্য। দুই বদলির দারুণ কম্বিনেশনে ৮৩ মিনিটে এসেছে আকাক্সিক্ষত গোল। সিনিয়র নাবিব নেওয়াজ জীবনের জায়গায় নামা মাহবুবুর রহমান সুফিল সতীর্থের লম্বা বল বুক দিয়ে নামিয়ে বাম দিক দিয়ে বক্সে ঢুকে মাপা কাট ব্যাক ফেলেন গোলমুখে। চলতি বলে ৬৫ মিনিটে বিপলু আহমেদের বদলি হয়ে নামা রবিউল বাঁ পায়ের প্লেসিং-এ বল জালে জড়িয়ে দেন। এই গোলই গড়ে দিয়েছে ব্যবধান। ফিলিপাইন ও ফিলিস্তিনের কাছে বঙ্গবন্ধু গোল্ডকাপে হারার পর ফের জয়মাল্য বাংলাদেশের গলায়।

ম্যাচটা শুরু থেকেই নিয়ন্ত্রণে রেখে খেলছিল বাংলাদেশ। প্রথমার্ধে গোল না হলেও বেশ ক’টি আক্রমণে প্রতিপক্ষের রক্ষণে ফাটল ধরায় বাংলাদেশ। স্বাগতিক দলও প্রতি আক্রমণে গোলের সুযোগ তৈরি করেছিল। তবে বলের নিয়ন্ত্রণ বেশিরভাগই ছিল বাংলাদেশের পায়ে। দ্বিতীয়ার্ধে অবশ্য আরও গোছালো ফুটবল খেলতে দেখা গেছে বাংলাদেশকে। তিনটি পরিবর্তনে খেলায় গতি বেড়েছে লাল-সবুজের। শুরু করা দুই ফরোয়ার্ড নাবিব নেওয়াজ জীবন ও মতিন মিয়া এবং মিডফিল্ডার বিপলু আহমেদকে তুলে নিয়ে জেমি মাঠে নামান রবিউল, মোহাম্মদ ইব্রাহিম এবং সুফিলকে। ৫৪ মিনিটে এগিয়ে যাওয়ার ভালো একটি সুযোগ নষ্ট হয় বাংলাদেশের। মতিন মিয়ার পাস ধরে ডি-বক্সের বাইরে থেকে অধিনায়ক জামাল ভূইয়ার জোরালো শট ঝাঁপিয়ে পড়ে রুখে দেন কম্বোডিয়ার গোলকিপার হুল কিমহুই। চার মিনিট পর সাথ রসিবের ফ্রি কিক বাংলাদেশের এক ডিফেন্ডারের মাথায় লেগে নিজেদের জালে প্রবেশের আগ মুহূর্তে গোলকিপার আশরাফুল ইসলাম রানা কর্নারের বিনিময়ে রক্ষা করেন। এরপর বেশ ক’টি সুযোগ হাতছাড়া হওয়ার পর ৮২ মিনিটে আসে জয়সূচক গোল। ভাগ্য খারাপ ছিল বলে গত বছর সাফের মূল দলে সুযোগ পেয়েও শেষ মুহূর্তে ছিটকে যেতে হয়েছিল রবিউলকে। কিন্তু ঘরোয়া লিগে পারফর্ম করে এই দলে সুযোগ করে নেন তরুণ এই মিডফিল্ডার। এরপর বদলি নামার সুযোগটা গোলের রঙে রাঙিয়ে আন্তর্জাতিক গোলের অভিষেকটাও করে ফেললেন আরামবাগের অধিনায়ক।

‘এই অনুভূতি ভাষায় প্রকাশ করা যাবে না। শেষ মুহূর্তে যে আমার গোলে দল জিতবে এটা আমি কখনোই ভাবিনি। বিশেষ ধন্যবাদ জানাই সুফিলকে, ওর পাসেই গোলটা করেছি’ এভাবেই দল জেতানোর অনুভূতি ব্যক্ত করেন রবিউল। জেমি ডে’র হাত ধরে এই রবিউলরাই পাল্টে দেবেন দেশের ফুটবল, এখন প্রত্যাশা এটাই।