আইএস বধূ শামীমাকে বাংলাদেশের গ্রহণ করা উচিত বল মন্তব্য করেছেন আহমেদিয়া সম্প্রদায়ের নেতা মির্জা মাসরুর আহমেদ। বাংলাদেশ অবশ্য আগেই জানিয়ে দিয়েছে, শামীমা এ দেশের নাগরিক নন।
লন্ডনে শান্তি সমাবেশের আগে মসজিদে বসে মাসরুর আহমেদ বলেন, ‘ব্রিটিশ সরকার যদি তার নাগরিকত্ব কেড়ে নেয়, তাহলে যেকোনো মুসলিম দেশ তাকে নিতে পারে। যেহেতু তার মা-বাবা বাংলাদেশের, তাই বাংলাদেশের প্রথম দায়িত্ব তাকে গ্রহণ করা।’
২০১৫ সালের ফেব্রুয়ারিতে স্কুলপড়ুয়া তিন তরুণী যুক্তরাজ্য থেকে পালিয়ে সিরিয়ায় আইএসের সঙ্গে যোগ দেন। এদের মধ্যে শামীমা বেগম (১৯) এবং খাদিজা সুলতানা (২০) ছিলেন বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত। তারা পূর্ব লন্ডনের বাংলাদেশি-অধ্যুষিত বেথনাল গ্রিন একাডেমি নামের একটি স্কুলের ছাত্রী ছিলেন।
সম্প্রতি শামীমার ছেলে সন্তান মারা গেছে। তাকে বাঁচাতে তিনি ব্রিটেনে ফিরতে চাওয়ার কথা বলেন। কিন্তু ব্রিটিশ সরকার তার নাগরিকত্ব কেড়ে নেয়।
বাংলাদেশে শামীমাদের বাড়ি সুনামগঞ্জে। তার বাবা আহমেদ আলীর দুই বিয়ে। দুই সংসারে তার চার মেয়ে। শামীমার মায়ের নাম আসমা। মেয়েরা শুধু যুক্তরাজ্যে থাকলেও আহমেদ আলী মাঝে মাঝে বাংলাদেশে আসেন।
বাংলাদেশি আইনে বলা আছে, ‘প্রবাসীদের দ্বৈত নাগরিকত্বের ক্ষেত্রে সন্তান জন্মের দুই বছরের মধ্যে সংশ্লিষ্ট দূতাবাস বা মিশনের কার্যালয়ে নাম নিবন্ধন করাতে হবে। তা না হলে সেই সন্তান বাংলাদেশের নাগরিক বলে বিবেচিত হবে না।’
বাংলাদেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বলছে, ‘শামীমা জন্মসূত্রে ব্রিটিশ নাগরিক এবং কখনো বাংলাদেশের নাগরিকত্বের জন্য আবেদন করেননি।’
অর্থাৎ জন্মের দুই বছরের মধ্যে শামীমার মা-বাবা তার নাম নিবন্ধন করেননি। তাই তিনি বাংলাদেশে ঢুকতে পারবেন না।
মির্জা মাসরুর আহমেদ বলছেন, ‘সহানুভূতির খাতিরে বাংলাদেশের তাকে গ্রহণ করা উচিত।’