মধ্য ভারত মহাসাগরের দ্বীপ দিয়েগো গার্সিয়া যেন স্বাধীন এক ঘোড়া। প্রথম পর্তুগিজরা এই দ্বীপটি আবিষ্কার ও এর নামকরণ করে। ১৯৭০ সাল পর্যন্ত দ্বীপটি ফরাসি কলোনির নিয়ন্ত্রণে ছিল। কিন্তু এরপর নেপোলিয়নের হারের পর ব্রিটিশ পতাকাতলে চলে যায় দ্বীপটি। ১৯৭৩ সালের দিকে যুক্তরাজ্যের কাছ থেকে দ্বীপের নিয়ন্ত্রণ নেয় যুক্তরাষ্ট্র এবং গড়ে তোলে এক গোপন সামরিক ঘাঁটি। কিন্তু ইতিহাসের নির্মমতা, দ্বীপটির ওপর থেকে যুক্তরাষ্ট্রও তার নিয়ন্ত্রণ হারাচ্ছে।
যুক্তরাষ্ট্রের এই সামরিক ঘাঁটির নাম ‘ফুটপ্রিন্ট অব ফ্রিডম’ বা ‘স্বাধীনতার পায়ের ছাপ’। ১৯৬৫ সালের শীতল যুদ্ধের সময় গোপনে যুক্তরাজ্যের সঙ্গে একটি চুক্তি করেছিল যুক্তরাষ্ট্র। ওই চুক্তিমাফিক ভারত মহাসাগরে ব্রিটিশ অধীনে থাকা ৬০টি দ্বীপের মধ্যে দিয়েগো গার্সিয়ার লিজ নেয় যুক্তরাষ্ট্র। গোপনে চুক্তি করার কারণ ছিল মরিশাস ও তদসংলগ্ন দ্বীপগুলোতে স্বাধীনতার দাবির বিষয়টি। কিন্তু ওই দ্বীপগুলো কখনোই স্বাধীনতা পায়নি। ২০১৯ সালে জাতিসংঘের সর্বোচ্চ আদালত ওই দ্বীপগুলোর স্বাধীনতার প্রশ্নে একটি রায় জারি করে জানায়, গার্সিয়াকে মরিশাসের কাছে ফিরিয়ে দিতে হবে। ফলে ব্রিটেন এখন ওই অঞ্চল থেকে তার কলোনি সরিয়ে নেওয়ার প্রক্রিয়া শুরু করেছে। আর এতে সমস্যায় পড়েছে যুক্তরাষ্ট্রের গোপন সামরিক ঘাঁটি।
দ্বীপটিতে এখন যুক্তরাষ্ট্রের নৌবাহিনীর এক হাজার সদস্য, বিমানবাহিনী এবং নাসার আঞ্চলিক দপ্তর রয়েছে। দিয়েগো গার্সিয়া থেকেই ইরাকে অভিযান চালায় যুক্তরাষ্ট্র। গোটা এশিয়াকে অভিযান পরিচালনায় এই দ্বীপটি যুক্তরাষ্ট্রের জন্য অনেক গুরুত্বপূর্ণ।
যুক্তরাজ্যের লেবার পার্টি নেতা জেরেমি করবিন ছাড়াও অনেক নেতাই যুক্তরাজ্যকে চাপ দিচ্ছে মরিশাসের কাছে গার্সিয়াকে হস্তান্তর করতে। আর এ নিয়ে এখন চলছে দেনদরবার ও আলোচনা। যদিও ব্রিটিশ সরকারের পক্ষ থেকে বলা হচ্ছে, ওই দ্বীপগুলোতে মোতায়েন করা সামরিক শক্তি যুক্তরাজ্যের জনগণকে সুরক্ষিত করছে।
সিঙ্গাপুর থেকে জিবুতি এবং বাহরাইন থেকে ব্রাজিল পর্যন্ত এলাকায় যুক্তরাষ্ট্রের এখন ৮০০ সামরিক ঘাঁটি রয়েছে। নর্থওয়েস্টার্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিহাস বিভাগের অধ্যাপক দানিয়েল ইমেরওহার বলেন, ‘দেশগুলো তাদের দ্বীপগুলোর দাবি করতে শুরু করলে যুক্তরাষ্ট্রের ৩০টির বেশি ঘাঁটি থাকবে না।’ সূত্র : সিএনএন