এলএনজি আমদানির ঘাটতি পূরণে সব ধরনের গ্যাসের দাম বাড়ানোর পক্ষে যুক্তি দিয়েছে পেট্রোবাংলা। রাজধানীর কারওয়ান বাজারে সোমবার গ্যাসের মূল্য বৃদ্ধি প্রসঙ্গে বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশনের (বিইআরসি) গণশুনানিতে এসব যুক্তি তুলে ধরেন পেট্রোবাংলার চেয়ারম্যান রুহুল আমিন।
পেট্রোবাংলার চেয়ারম্যান বলেন, প্রতিদিন ১ হাজার মিলিয়ন (একশ কোটি ঘনফুট) গ্যাস আমদানি করলে ২৪ হাজার ৫৪০ কোটি টাকা ঘাটতিতে পড়বে জ্বালানি খাত। এ ঘাটতি মোকাবিলায় গ্যাসের মূল্য বাড়ানো উচিত।
এলএনজি আমদানিতে অর্থ সংকট আছে জানিয়ে তিনি বলেন, ২০১৮-১৯ অর্থবছরে তিন হাজার ৬৬০ কোটি টাকা দরকার ছিল। কিন্তু অর্থ বিভাগ পেট্রোবাংলাকে কোনও অনুদান দেয়নি। ডলারের দাম বেড়ে যাওয়া, বাণিজ্যিক ব্যাংকে পর্যাপ্ত ডলার না থাকায় বেসরকারি ব্যাংককে সম্পৃক্ত করার পাশাপাশি আন্তর্জাতিক সংস্থা থেকে বৈদেশিক মুদ্রা সংগ্রহের উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে। এভাবে অর্থায়ন করলে আরও ৫ ভাগ খরচ বাড়বে বলে মনে করেন তিনি।
গণশুনানি গ্রহণকালে উপস্থিত ছিলেন বিইআরসি’র চেয়ারম্যান মনোয়ার ইসলাম, সদস্য আব্দুল আজিজ, মিজানুর রহমান, রহমান মুরশেদ, মাহমুদউল হক ভূঁইয়া। মনোয়ার ইসলাম বলেন, আগামী এপ্রিল থেকে আরও ৫০০ মিলিয়ন ঘনফুট এলএনজি জাতীয় গ্রিডে যুক্ত হচ্ছে। ফলে গ্যাসের দাম সমন্বয় করা দরকার।
শুনানিতে পেট্রোবাংলার উপস্থাপিত লিখিত আবেদনে দেখা গেছে, বর্তমানে দেশের কোম্পানি বাখরাবাদ গ্যাসক্ষেত্রের কাছ থেকে ৭০ পয়সা হারে (ঘনমিটার), বাপেক্সের কাছ থেকে ৩ টাকা ৪ পয়সা হারে, সিলেট গ্যাসক্ষেত্র থেকে ২০ পয়সা হারে, আইওসির কাছ থেকে ২ দশমিক ৫৫ টাকা হারে গ্যাস কেনা হচ্ছে। যার ইউনিট প্রতি দাম পড়ছে গড়ে প্রায় সাড়ে ৬ টাকার মতো। আর আমদানি করা এলএনজির দাম পড়ছে ৩৯ দশমিক ৮২ টাকা। বর্তমানে গড়ে প্রতি ঘনমিটার গ্যাস ৭ দশমিক ১৭ টাকা দরে বিক্রি করছে। এর সঙ্গে এলএনজি চার্জ ৯ দশমিক ৫৫ টাকা হারে নির্ধারণ করার প্রস্তাব করেছে পেট্রোবাংলা।