ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (ডাকসু) নবনির্বাচিত সহসভাপতি (ভিপি) নুরুল হক নুরকে নিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে নুরুকে ভয় ভেঙে সত্যটা প্রকাশ করার ইঙ্গিত দিয়ে স্ট্যাটাস দিয়েছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের হাজী মুহম্মদ মুহসিন হলের সাবেক সভাপতি ও ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় কমিটির সাবেক সহ সভাপতি মাকসুদ রানা মিঠু। আজ বিকেল ৫ টার দিকে নিজ ফেসবুকে আইডিতে তিনি স্ট্যাটাসটি দেন। তার নিজের ফেসবুকে দেওয়া সেই স্ট্যাটাস হুবহু তুলে ধরা হলো।
নুরুল হক নুরু, ছাত্রলীগের কর্মী থেকে তোমাকে যারা নিজ স্বার্থে ছাত্র অধিকার আন্দোলনের নেতা বানিয়ে পল্টি দিয়ে শিবির নেতা বানালো তাদের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানানোর মত অবস্থান এবং সাহস তোমার কাছ থেকে প্রত্যাশা করি। ছাত্রলীগ তার যত কর্মীকে মিথ্যা অপবাদ দিয়ে শিবির বানিয়েছে আমি বিশ্বাস করি তুমি তাদেরই একজন। ছাত্রশিবির করার মত যোগ্য তোমাকে দেখে যেমন কখনো মনে হয়নি তেমনি ছাত্রশিবিরকে প্রেস রিলিজ দিয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে কারও জন্য ভোট চাওয়ার মত নির্বোধও মনে হয় না। ভয়ও সংকীর্ণতা ভেঙে সত্যটা প্রকাশ কর ব্রাদার। সারা দেশকে জানিয়ে দে তোকে কোটা আন্দোলনের নেতা কারা বানিয়েছিল। বাংলাদেশ ছাত্রলীগ ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক কোন দুই প্রভাবশালী নেতা তোকে নিয়ে বৈঠকে বসেছিল। কোন নেতারা সেদিন সামনে ছাত্রলীগের সম্মেলন যাতে না হয় তার জন্য কোটা আন্দোলনের মাধ্যমে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করছিল। নুরু তোকে আজ বলতে হবে ৭এপ্রিল ২০১৮ কোন দুই বড় নেতা তোকে ১২০০০ হাজার টাকা দিয়া আন্দোলনে খরচ করতে বলেছে। আন্দোলনের নেতৃত্ব যাতে হাসান আল মামুন আর তোর হাতে থাকে কে বলেছে সেটা তুই লাইভে এসে বলবি। তোকে নিয়ে ছাত্রলীগের কোন নেতারা বিভিন্ন সময় বৈঠকে বসেছে সেটা সবাইকে জানিয়ে দে।
কোটা আন্দোলন নির্মূল করার জন্য ছাত্রলীগের যে বৈঠক হয় সেখানে শুধুমাত্র তৎকালীন ৩জন নেতা কেন উপস্থিত ছিল সেটাও ছাত্র সমাজ জানতে চায়।কোটা আন্দোলন,ছাত্রলীগের সম্মেলন,ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার ভবনের ৬০০কোটি টাকার কাজ ,এগুলোর সম্পর্কটা কি এটাও সবাইকে জানতে হবে।
নিজেদের স্বার্থ সিদ্ধির জন্য নুরুকে যারা ব্যবহার করেছে তারা হলো ইতিহাসের সবচেয়ে বড় শিবির।
এর কিছুক্ষণ পর আরেকটি স্ট্যাটাসে তিনি বলেন, প্রশ্ন আসেনা নুরুকে কে ভোট দিল ? কোন চার পাঁচ হাজার ছাত্রলীগ কর্মী নুরকে ভোট দিল..? সোহাগ-নাজমুল,শরীফ-মেহেদী কমিটির সময়ে কেন কোটা আন্দোলন মহীরুপ ধারণ করতে পারলোনা, কেন পরের কমিটিতে পারলো..! তখনতো সবাই মধু খাইতে চাচ্ছিলেন নুরুদের দিয়ে। আজ নুরু মধুর বাসা নিয়ে যাওয়াতে প্রশ্ন আসলো নুরুকে পোস্ট দিল কিডা!!
চাটতে চাটতে জিব্বাহর ছাল উঠে গেছে তাই আবলতাবল না বকে ওষুধ লাগান। বিরোধী দল থেকে ছাত্রদলের গেস্টরুমে নির্যাতন সহ্য করার ইতিহাস আছে আমাদের। বড় ভাই ছাত্রদল নেতার বন্ধু বলে প্রথম বর্ষে বড় ভাইয়ের রুমে থেকে ছাত্রদল করার আপনার ইতিহাস সবাই জানে। আর আমরা গনরুমে ২বছর থেকে ছাত্রদলের মার খাওয়া ছেলে। যারা কোনদিন গনরুমে থাকে নাই ছাত্রদলের রুমে থেকেছে তারা আবার কিসের ছাত্রলীগ নেতা?
যারা নুরুকে কোটা আন্দোলনের নেতা বানিয়েছে সে সমস্ত মুখোশধারী ছাত্রনেতাদের মুখোশ জাতির সামনে উন্মোচন করা হউক।তাদের বিচার করা এখন ছাত্রলীগের প্রত্যেকটি কর্মীর প্রাণের দাবি।