রমজান-নির্বাচন নিয়ে আলোচনা অযৌক্তিক: জাভেদ আখতার

রোজার মাসে নির্বাচন পড়ায় তৃণমূল, আম আদমি পার্টিসহ একাধিক রাজনৈতিক দলের সমালোচনার মুখে পড়েছে ভারতের জাতীয় নির্বাচন কমিশন।

ভারতীয় জনতা পার্টি-বিজেপিকে সুবিধা করে দিতেই নির্বাচনের এমন সময় ঘোষণা করা হয়েছে বলে অভিযোগে উঠেছে।

সংবাদ প্রতিদিন জানায়, প্রচণ্ড গরমে রোজা রেখে নির্বাচনে অংশগ্রহণ করতে অসুবিধা হবে মুসলিমদের এমনটাই দাবি করছে রাজনৈতিক দলগুলো। তবে তাদের এই অভিযোগ সম্পূর্ণ খারিজ করে দিলেন প্রখ্যাত গীতিকার জাভেদ আখতার।

তিনি বলেন, “রাজনৈতিক দলগুলোর এই অযৌক্তিক দাবি শোনার কমিশনের কোনো প্রয়োজন নেই৷ নিজেদের নিয়মেই তাদের কাজ করা উচিত।”

তিনি বলেন, “রমজান ও নির্বাচন নিয়ে কোনো আলোচনা হওয়াই অযৌক্তিক। এটা এক ধরনের বিকৃত ধর্মনিরপেক্ষতা যা আমাকে বারবার বিরক্ত, বিদ্রোহী এবং অসহায় করে তোলে।”

এদিকে এ বিষয়ে মুখ খোলেন অল ইন্ডিয়া মজলিশ-এ-ইত্তেহাদুল মুসলিমিন (এআইএমআইএম) প্রধান আসাদউদ্দিন ওয়েইসি। তিনি বলেন, “রমজান মাসে ভোট দিতে মুসলমানদের কোনো সমস্যা হবে না। সব রাজনৈতিক দলকে আমি অনুরোধ করব, তারা যেন নিজ স্বার্থে মুসলিম ও রমজানকে ব্যবহার না করেন।”

তিনি বলেন, “মুসলিম ভাইয়েরা অবশ্যই রমজানে রোজা রাখবেন। রোজা থেকে তারা অফিসে যাবেন এবং সাধারণ জীবনযাপনই করবেন। কাজেই ভোট দিতে যেতেও তাদের অসুবিধা হবে না।’’

মূলত প্রথম এ আপত্তি তোলেন তৃণমূলের মন্ত্রী ও কলকাতার মেয়র ফিরহাদ হাকিম। তিনি জানান, রমজান মাসে নির্বাচন হলে একটা বিশেষ সম্প্রদায়ের মানুষ অসুবিধার মুখে পড়বেন। তার মতোই অসন্তোষ প্রকাশ করেন আম আদমি পার্টির নেতা আমানাতুল্লাহ খানও।

একইভাবে কমিশনের বিরুদ্ধে সরব হন লক্ষ্ণৌয়ের মুসলিম নেতা খালিদ রশিদ ফিরিঙ্গিও। নির্বাচনের শেষ তিন দফার রমজানের মধ্যে পড়েছে বলে কমিশনের কাছে সেই তারিখ পরিবর্তনের দাবি জানান তিনি।

ফিরিঙ্গি বলেন, “রোজা রেখে প্রচণ্ড রোদের মধ্যে মুসলিমদের ভোটে অংশগ্রহণ করা সম্ভব নাও হতে পারে।”

রোববার ভারতের সপ্তদশ লোকসভা নির্বাচনের তারিখ ঘোষণা করে দেশটির নির্বাচন কমিশন। ১১ এপ্রিল থেকে শুরু হয়ে ১২ মে পর্যন্ত সাত দফায় এ ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে। ২৩ মে নির্বাচনের ফল ঘোষণা করা হবে।

লোকসভায় সাতটি জাতীয় রাজধানী অঞ্চল ও কেন্দ্র শাসিত অঞ্চলসহ দেশটির ৩৬টি রাজ্যের মোট আসন সংখ্যা ৫৪৫ হলেও নির্বাচন হয় ৫৪৩টি আসনে। বাকি দুটি আসন ভারতের অ্যাংলো-ইন্ডিয়ান সম্প্রদায়ের জন্য সংরক্ষিত। রাষ্ট্রপতি ঠিক করে দেন তাদের দুই প্রতিনিধি কে হবেন।