বিয়ের দিনক্ষণ ও অনুষ্ঠান সব ঠিকঠাক, এর মধ্যেই ঘটে গেল অঘটন। দুর্বৃত্তের গুলিতে নিহত হন মোহাম্মদ শারিফি। হবু স্বামীকে হারিয়ে পাগলপ্রায় বাগদত্তা সারা বেলুচ তার কবরে ঢেকে দিলেন বিয়ের পোশাক।
ডেইলি মেইল জানায়, যুক্তরাষ্ট্রের দক্ষিণ-পশ্চিম অঙ্গরাজ্য টেনেসির রাজধানী নেশভিলের বাসিন্দা মোহাম্মদ শারিফি। শনিবার অনুষ্ঠানের মধ্যদিয়ে হবু স্ত্রী সারাকে ঘরে তুলে নেওয়ার কথা ছিল তার। বিয়ের জন্য সারা বানিয়েছিলেন জমকালো পোশাকও। কিন্তু ভাগ্যের নির্মম পরিহাস, ১৯ ফেব্রুয়ারি দুর্বৃত্তের গুলিতে নিহত হন শারিফি।
২৪ বছর বয়সী শারিফি এবং ২২ বছর বয়সী সারা দুজনেই ছিলেন ইউনিভার্সিটি অব টেনেসির শিক্ষার্থী। পরস্পরকে ভালোবেসে বিয়ের সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন তারা।
ভালোবাসার মানুষকে হারিয়ে পাগলপ্রায় সারা রবিবার ছুটে গিয়েছিলেন শারিফির কবরে। বিয়ের জন্য দীর্ঘদিন ধরে বানানো বিয়ের পোশাকে কবর ঢেকে দিলেন। পাশে রাখেন মুসলমানদের ধর্মগ্রন্থ কোরআন। একপাশে বাঁধাই করা শারিফির ছবি ও ফুল রেখে বসে বসে কাঁদছিলেন তিনি।
এসময় সারা বলছিলেন, “আমি দুঃখিত মোহাম্মদ। আমরা নিশ্চয় একদিন মিলিত হব।”
টাইমস ফ্রি প্রেসকে এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, “হাসপাতালে তার মৃত্যুর সংবাদ আমার বিশ্বাস হচ্ছিল না। মনে হচ্ছিল আমি স্বপ্ন দেখছি। সে আমার সঙ্গেই আছে। আগের রাতেও তার সঙ্গে আমার দেখা হয়েছিল। সে সবসময় আমার নিরাপত্তা নিয়ে ভাবতো। আমি তাকে রক্ষা করতে পারিনি।”
সারার পাশে ছিলেন তার বাবা মাকসুদ বেলুচ এবং শারিফির বাবা মহসিন শারিফি। ছিলেন অন্যান্য স্বজন ও বন্ধুবান্ধবরা। অথচ একদিন আগে ছেলে-মেয়ের বিয়ের অনুষ্ঠানে মেতে থাকার কথা ছিল দুই পরিবারের। কিন্তু দুর্বৃত্তের গুলি শেষ করে দিল তা।
এদিকে শারিফিকে হত্যার দায়ে এক কৃষ্ণাঙ্গ যুবককে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। ডিমারকাস হোয়াইট নামে ২০ বছর বয়সী এ যুবকের বিরুদ্ধে ফৌজদারি মামলা করা হয়েছে।