ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রোকেয়া হলে বুধবার রাতেও বিক্ষোভ করছেন ছাত্রীরা। তারা চার দফা দাবিতে আমরণ অনশনের বসেন বুধবার রাত সাড়ে ৯টার দিকে। এ পর্যন্ত পাঁচ ছাত্রী অনশনে বসেন।
হলগেটের বাইরে তারা অনশনে বসেন।
হলটির আবাসিক ছাত্রী ও ইসলামের ইতিহাস বিভাগের মাস্টার্সের শিক্ষার্থী মুনিরা দিলশাদ জানান, দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত তাদের এ অনশন চলবে।
রোকেয়া হলের প্রাধ্যক্ষ জিনাত হুদার পদত্যাগসহ সোমবার ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ নির্বাচন (ডাকসু) নির্বাচনে হলের ঘটনায় করা মামলা প্রত্যাহার, ডাকসু নির্বাচন পুনরায় আয়োজন ও আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তার দাবিতে তারা আমরণ অনশনে বসেন বলে জানান ছাত্রীরা।
এর আগে মঙ্গলবার বিশ্ববিদ্যালয়ের রাজু ভাস্কর্যে আট শিক্ষার্থী সন্ধ্যা ৬টা থেকে আমরণ অনশন শুরু করেন। এদের একজন অনিন্দ্য মন্ডল ৪টার দিকে অসুস্থ হয়ে পড়লে তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করান হয়।
অন্য শিক্ষার্থীরা হলেন, মাঈনুদ্দিন, শোয়েব মাহমুদ, রবিউল ইসলাম, তাওহিদ তানজিম ও মিম আরাফাত মানব, মাহমুদ তাহা এবং রাফিয়া তামান্না।
অনশনকারী রবিউল ইসলাম দেশ রূপান্তরকে বুধবার রাতে বলেন, উপাচার্যসহ নির্বাচন সংশ্লিষ্টদের প্রকাশ্যে ক্ষমা চাওয়া, নির্বাচনে অনিয়মে জড়িতদের পদত্যাগসহ ডাকসু নির্বাচনের পুনঃতফসিলের ঘোষণা না হওয়া পর্যন্ত তারা অনশন চালিয়ে যাবেন।
মিম আরাফাত মানব বলেন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মতো জায়গায় এমন প্রহসনের নির্বাচন নিয়ে যারা চরমভাবে হতাশ, তারাই এই অনশন কর্মসূচি পালন করছেন।
অপরদিকে নির্বাচনে অনিয়মের অভিযোগে ১১ মার্চ কোটা আন্দোলনের ভিপি প্রার্থী নুরুল হক, বামজোটের প্রার্থী লিটন নন্দীসহ বেশ কয়েকজন রোকেয়া হলের একটি কক্ষের তালা ভেঙে সিলগালা করা ট্রাংক থেকে পাওয়া সাদা ব্যালট পেপার বের করে ছড়িয়ে ছিটিয়ে দেন।
ঘটনায় তাৎক্ষণিকভাবে ছাত্রলীগের কর্মীদের আক্রমণের শিকার হন নুর। পরে প্রাধ্যক্ষ জিনাত হুদাকে লাঞ্ছিত করার অভিযোগে নুর, লিটন নন্দী, উম্মে হাবিবা বেনজিরসহ পাঁচজনের বিরুদ্ধে শাহবাগ থানায় মামলা করেন রোকেয়া হলের আবাসিক ছাত্রী মারজুকা রায়না।
এর প্রতিবাদে মঙ্গলবার রাতে বিক্ষোভে ফেটে পড়েন রোকেয়া হলের সাধারণ শিক্ষার্থীরা। তাদের দাবি ছাত্রলীগের ইন্ধনে এ মামলা করা হয়েছে। এ জন্য রোকেয়া হলের প্রাধ্যক্ষ জিনাত হুদার পদত্যাগ চেয়ে এ হলে নতুন করে নির্বাচন দেওয়ার দাবি করেন শিক্ষার্থীরা। এ ছাড়া নুরসহ পাঁচজনের মামলা প্রত্যাহার চেয়েছেন তারা।
এরপর বুধবার রাতে তারা আমরণ অনশনে বসেন।