বৃহত্তর চট্টগ্রামে গ্যাসের দাম বৃদ্ধির প্রস্তাবে উদ্বেগ জানিয়েছেন ব্যবসায়ী ও শিল্পোদ্যোক্তারা। নগরীতে গ্যাস সরবরাহকারী কর্ণফুলী গ্যাস ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানির (কেজিডিসিএল) প্রস্তাব অযৌক্তিক ও আত্মাঘাতী আখ্যা দিয়ে চট্টগ্রামের শিল্পোদ্যোক্তা ও ভোক্তা প্রতিনিধিরা বলেছেন, ক্রমবর্ধমান ব্যয় বৃদ্ধির কারণে ব্যবসা করা বেশ কঠিন হয়ে পড়েছে। এর মধ্যেই গ্যাসের দাম বৃদ্ধি সাধারণ গ্রাহকের পাশাপাশি দেশের আমদানি-রপ্তানি ও কর্মসংস্থানে বিরূপ প্রভাব ফেলবে।
গতকাল বৃহস্পতিবার রাজধানীর টিসিবি মিলনায়তনে গণশুনানির শেষ দিনে সব ধরনের গ্রাহকদের জন্য গ্যাসের দাম ১০৩ শতাংশ বাড়ানোর প্রস্তাব দিয়েছে কর্ণফুলী গ্যাস ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি। গত ১১ মার্চ বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশনের (বিইআরসি) গণশুনানি শুরু হয়। গতকাল শেষ দিনে কেজিডিসিএল বিদ্যুৎ, ক্যাপটিভ পাওয়ার, সার, শিল্প, চা-বাগান, বাণিজ্যিক ও গৃহস্থালি খাতে পৃথক হারে দাম বৃদ্ধির প্রস্তাব দিয়েছে। এতে সব ধরনের গ্রাহকের জন্য গড়ে ১০৩ শতাংশ দাম বাড়ানোর প্রস্তাব এসেছে।
বর্তমান পরিস্থিতিতে চট্টগ্রামে গ্যাসের দাম বাড়ানো কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয় মন্তব্য করে চট্টগ্রাম চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিজের সভাপতি মাহবুবুল আলম দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘ব্যয় বৃদ্ধি পাওয়ায় এমনিতে ব্যবসা ও শিল্প পরিচালনা কঠিন হয়ে পড়েছে। এ অবস্থায় নতুন করে গ্যাসের দাম বাড়ানো হলে ‘মড়ার উপর খাঁড়ার ঘা’-এর মতো অবস্থা হবে।’ চট্টগ্রামের ব্যবসায়ীদের এই শীর্ষ নেতা বলেন, ‘আমদানীকৃত এলএনজির (তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস) দাম বেশি হলেও ভর্তুকি দিয়ে ব্যবসায়ীদের টিকিয়ে রাখতে হবে। অন্যথায় দেশের আমদানি-রপ্তানি ও কর্মসংস্থানে বিরূপ প্রভাব পড়বে।’
গ্যাসের দাম বৃদ্ধি তৈরি পোশাকশিল্পকে ব্যাপক ক্ষতিগ্রস্ত করবে বলে আশঙ্কা ব্যক্ত করেছেন বাংলাদেশ গার্মেন্টস ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যান্ড এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশন (বিজিএমইএ)-এর সাবেক প্রথম সহসভাপতি ও ইস্টার্ন গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক নাসির উদ্দিন চৌধুরী। তিনি দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘নানা প্রতিকূল পরিস্থিতি মোকাবিলা করে গার্মেন্ট সেক্টর সামনে এগুচ্ছে। ব্যয় সামলাতে ব্যবসায়ীদের হিমশিম খেতে হচ্ছে। এই মুহূর্তে গ্যাসের দাম বাড়ানোর প্রস্তাব কোনোভাবেই সমর্থনযোগ্য নয়।’
লাভজনক প্রতিষ্ঠান হিসেবে কেজিডিসিএলের গ্যাসের দাম বাড়ানোর বিরোধিতা করে কনজ্যুমার অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ক্যাব)-এর কেন্দ্রীয় সহসভাপতি এস এম নাজের হোসাইন বলেন, ‘প্রিপেইড মিটারে দেখা গেছে একটি পরিবার ৫০০ টাকা রিচার্জ করে তিন মাস গ্যাস ব্যবহার করতে পারছে। সেই হিসাবে বর্তমানে লাইনে সরবরাহকৃত গ্যাসের প্রকৃত ব্যবহার অনেক কম। গ্যাস কোম্পানিগুলি জনগণের কাছ থেকে বেশি টাকা আদায় করে যাচ্ছে। এ অবস্থায় দাম বাড়ানো হলে গ্যাসভিত্তিক শিল্প, যানবাহন ও অন্যান্য ক্ষেত্রে ব্যয় বৃদ্ধি পাবে, যা মানুষের জীবন-জীবিকায় বিরূপ প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করবে।’
জানতে চাইলে কেজিডিসিএলের ব্যবস্থাপনা পরিচালক প্রকৌশলী খায়েজ আহমদ বলেন, ‘গ্যাসের চাহিদা মেটাতে সরকার এলএনজি আমদানি করছে। এ অবস্থায় দাম না বাড়িয়ে অতিরিক্ত দামে কেনা এলএনজি গ্রাহকদের কাছে সরবরাহ করলে বড় ধরনের লোকসানের মুখে পড়তে হবে।’