‘আমি দোয়া করছিলাম কখন তার গুলি ফুরাবে’

নিউজিল্যান্ডের ক্রাইস্টচার্চে একটি মসজিদে অতর্কিতে সন্ত্রাসী হামলায় তিনি বেঁচে যান। তার গায়ে তখনো রক্তের দাগ। মুখে-চোখে ভীতি। আবার বেঁচে থাকতে পারার স্বস্তিও আছে সেখানে।

তিনি বিবরণ দিচ্ছিলেন শুক্রবারের বীভৎস, পরিকল্পিত এ হত্যাযজ্ঞের। নাম প্রকাশ না করে তিনি বলেন, ‘আমি শুধু ভাবছিলাম কখন তার গুলি ফুরিয়ে যাবে।‘

‘আমি আসলে যা করেছি তা হলো, অপেক্ষা করছিলাম আর দোয়া করছিলাম, আল্লা তার বন্দুক খালি করে দাও।‘

ওই বন্দুকধারী প্রথমে পুরুষদের নামাজ পড়ার কক্ষে হামলা চালায়, এরপর সে যায় নারীদের নামাজ পড়ার কক্ষে।

শুক্রবার নিউ জিল্যান্ডের ক্রাইস্টচার্চে দুটি মসজিদে সন্ত্রাসী হামলার ঘটনায় দুই বাংলাদেশিসহ কমপক্ষে ৪৯ জন নিহত হয়েছেন। গুরুতর আহত হয়েছেন আরও ৪৮ জন।

সন্ত্রাসী হামলায় তিন বাংলাদেশি নিহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। অস্ট্রেলিয়া ও নিউজিল্যান্ডে বাংলাদেশ হাইকমিশনার শফিকুর রহমান ভূঁইয়া এ তথ্য জানান।

তিনি জানান, এ আরও দুইজন গুরুতর আহত এবং নিখোঁজ রয়েছেন আরও বাংলাদেশি।

হাইকমিশনার জানান, নিহতরা হলেন কৃষি অর্থনীতিবিদ ও লিংকন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক ড. মো. আবদুস সামাদ এবং তার স্ত্রী, আরেকজন হলেন মিসেস হোসনে আরা ফরিদ।

ওই মসজিদে তারা নামাজ পড়ছিলেন।

ওই প্রত্যক্ষদর্শী বিবিসিকে আরো জানান, ‘সে প্রথমে একদিকে গেল এবং সেদিকে গুলি করল, তারপর আরেক রুমে যেখানে নারীরা ছিল সেখানে গেল এবং তাদের গুলি করল। আমি শুনতে পেলার এক নারী মারা যাচ্ছেন।‘

‘আমার ভাইও সেখানে ছিল, কিন্তু আমি জানি না সে নিরাপদে আছে না নাই।‘

ফরিদ আহমেদ নামে হুইল চেয়ারে বসা আরেক ব্যক্তি বলেন, ‘আমি করিডর থেকে দেখলাম, যে কক্ষে আমি বসেছিলাম, সেখানে এক ব্যক্তি ঢোকার চেষ্টা করছে, এরপর তাকে পেছন থেকে গুলি করা হলো এবং সেখানেই সে মরে পড়ে থাকল।‘

‘মেঝেতে আমি পড়ে থাকতে দেখলাম অজস্র বুলেটের খোসা।‘