পক্ষাঘাতগ্রস্ত স্বামীকে বাঁচাতে গিয়ে নিহত হন পারভীন

হোসনে আরা পারভীনের (৪২) স্বামী ফরিদ উদ্দিন বেশ কিছুদিন ধরে পক্ষাঘাতগ্রস্ত। শুক্রবার জুমআর নামাজ আদায় করতে স্বামীকে হুইল চেয়ারে বসিয়ে নিউজিল্যান্ডের ক্রাইস্টচার্চের মসজিদে নিয়ে যান তিনি।

স্বামীকে মসজিদের ভেতরে রেখে পাশে নারীদের জন্য নির্মিত আলাদা মসজিদে চলে যান পারভীন। নামাজ শুরুর কিছুক্ষণ পর মুহুর্মুহু গুলির শব্দ শুনে পারভীন দৌড়ে যান তার অসুস্থ স্বামীকে বাঁচাতে। আর সেখানেই তিনি সন্ত্রাসীর ছোড়া গুলিতে প্রাণ হারান। তবে ভাগ্যক্রমে বেঁচে গেছেন পারভীনের স্বামী ফরিদ উদ্দিন।

নিউজিল্যান্ড প্রবাসী ফরিদ উদ্দিন ও হোসনে আরা পারভীন দম্পতির বাড়ি সিলেটে। ফরিদ উদ্দিনের বাড়ি সিলেটের বিশ্বনাথ উপজেলার চকগ্রামে। আর পারভীনের বাবার বাড়ি সিলেটের গোলাপগঞ্জ উপজেলার জাঙ্গালহাটা গ্রামে। ওই গ্রামের মৃত নুর উদ্দিনের মেয়ে তিনি।

ফরিদ উদ্দিন ও পারভীন দম্পতির একমাত্র মেয়েও নিউজিল্যান্ডে থাকেন। নিহত পারভীনের আত্মীয়-স্বজনের সঙ্গে কথা বলে এসব তথ্য পাওয়া গেছে।

নিউজিল্যান্ডে সন্ত্রাসী হামলায় পারভীন নিহত হওয়ার খবর ইতিমধ্যে নিউজিল্যান্ডে বাংলাদেশের অনারারি কনসাল শফিকুর রহমান ভূঁইয়াও বাংলাদেশকে নিশ্চিত করেছেন।

হোসনে আরা পারভীনের আত্মীয় মাহফুজ চৌধুরী জানান, ১৯৯৪ সালে ফরিদ উদ্দিনের সঙ্গে হোসনে আরা পারভীনের বিয়ে হয়। বিয়ের পর তারা নিউজিল্যান্ডে চলে যান। সেখানে তারা ক্রাইস্টচার্চ শহরে বসবাস করেন। তাদের একটি মেয়ে সন্তান রয়েছে। পারভীনের স্বামী কিছুদিন ধরে অসুস্থ (প্যারালাইজড)। তিনি হুইল চেয়ারে চলাফেরা করেন।

মাহফুজ চৌধুরী জানান, সন্ত্রাসী হামলায় হোসনে আরা পারভীন নিহত হওয়ার বিষয়টি ইতিমধ্যে নিউজিল্যান্ড পুলিশ সে দেশে অবস্থানরত তাদের আত্মীয়দের জানিয়েছে।

তিনি আরো জানান, নিহত পারভীনের ভাবি হিমা বেগমও নিউজিল্যান্ডে থাকেন। ঘটনার পর হিমা বেগম টেলিফোনে সিলেটে তাদের আত্মীয়-স্বজনের সঙ্গে কথা বলেন।       

নিহত হোসনে আরা পারভীনের চাচাতো ভাই শাকিল আহমদ জানান, পারভীন নিহত হওয়ার খবর তারা নিউজিল্যান্ডে বসবাসকারী অন্য আত্মীয়দের কাছ থেকে জানতে পেরেছেন। এ ঘটনায় দেশ-বিদেশে অবস্থানরত তাদের সকল আত্মীয় মানসিকভাবে ভেঙে পড়েছেন।

শাকিল আরো জানান, ফরিদ উদ্দিন ও হোসনে আরা পারভীন দম্পতি সর্বশেষ ২০০৯ সালে বাংলাদেশে বেড়াতে এসেছিলেন।