রং মিস্ত্রি সেজে বিদেশি মুদ্রা বিক্রির অভিনব প্রতারণা, আটক ৭

বিভিন্ন বাড়িতে রং মিস্ত্রি সেজে কাজের আড়ালে বিদেশি মুদ্রা (ডলার, রিয়াল) বাংলাদেশি টাকায় বিক্রির কথা বলে সহজ সরল মানুষদের সঙ্গে দীর্ঘদিন ধরে প্রতারণা করে আসছিল একটি চক্র। চক্রটি কখনো বাসায় ঢুকে বয়স্ক ব্যক্তিদের টার্গেট করত। কখনো আবার রাস্তায় দামি গাড়ির যাত্রীদেরও টার্গেট করত। তারা রিয়াল দেখিয়ে কম মূল্যে বিক্রির কথা বলে প্রলোভন দেখাত।

টার্গেট ব্যক্তির কাছে গিয়ে কখনো ডলার, কখনো রিয়াল না চেনার ভান করে চক্রটি জানতে চাইত, এগুলো কোন দেশের টাকা? এরপর জানতে চাইত, কীভাবে বিদেশি মুদ্রাগুলো বাংলাদেশি টাকায় ভাঙানো যাবে। এভাবে সাধারণ মানুষের দৃষ্টি আকর্ষণ করে কম টাকাতে হলেও বিদেশি মুদ্রাগুলো ভাঙাতে চাইত তারা। আর লাভের আশায় প্রলোভনের ফাঁদে পড়ে কম দামে মুদ্রাগুলো কিনে নিজেই বোকা বনে যান ভুক্তভোগীরা। কারণ বান্ডিলে দু-একটি ডলার, রিয়াল নোট মিললেও ভেতরে সবই থাকে কাগজ।

রাজধানীর ভাটারা থানার কুড়িল বিশ্বরোড এলাকায় অভিযান চালিয়ে গত বৃহস্পতিবার রাত সাড়ে ১০টার দিকে এই প্রতারক চক্রের ৭ সদস্যকে আটক করে র‌্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র‌্যাব-১)। তাদের কাছ থেকে ১ হাজার ৫০০ রিয়াল, ৩ হাজার ৮২২ টাকা ও ১০টি মোবাইল ফোন উদ্ধার করা হয়।

আটককৃতরা হলেন, আবু শেখ (৩৮), শাহিন মাতব্বর (৩৭), মহসিন মিয়া (৪৫), আবুল বাশার (৪০), কামরুল শেখ (৩৫), ইশারত মোল্লা (২৭) ও আবদুর রহমান মোল্লা (৪০)। চক্রটি বিভিন্নভাবে সাধারণ মানুষকে ফাঁদে ফেলে প্রতারণা করত। প্রতারকদের সবাই পেশায় রং মিস্ত্রি।

র‌্যাব-১ এর অধিনায়ক (সিও) লে. কর্নেল সারওয়ার বিন কাশেম বলেন, ‘প্রতারক চক্রটি রিয়েল দেখিয়ে কম মূল্যে বিক্রির কথা বলে প্রলোভন দেখাত। ব্যক্তি রাজি হলেই, টাকার বিনিময়ে ওপরে কয়েকটি রিয়েল নোট আর ভেতরে কাগজ দিয়ে বানানো বান্ডিল দিয়ে কেটে পড়ত’।

তিনি আরও বলেন, ‘গুলশান-বনানীর মতো অভিজাত এলাকায় যানজটে আটকে থাকা প্রাইভেটকারের যাত্রীরা এই চক্রের টার্গেট। তারা গাড়ির বাইরে থেকে রিয়েলের নোট দেখাত এবং অনেক নোট আছে বলে জানাতো। এ সময় কম দামে কিনতে আগ্রহী সেজে প্রতারক চক্রের অন্য সদস্যরা দর-কষাকষি করতে আসত। তখন টার্গেটকৃত ব্যক্তি কেনার ফাঁদে পা দিলে, টাকার বিনিময়ে রিয়েল ভর্তি ব্যাগ দিয়ে পুলিশ দেখে ফেলবে বলে দ্রুত কেটে পড়ত তারা। কিছু বুঝে ওঠার আগেই কাগজ বা কাপড় দিয়ে মোড়ানো ভুয়া বান্ডিল নিয়ে প্রতারণার শিকার হতো টার্গেট ব্যক্তি। ইজতেমা ময়দান ও হজ ক্যাম্পেও একই কৌশলে চক্রটি প্রতারণা চালিয়ে আসছিল। সেখানে গ্রাম থেকে আসা লোকদের ফাঁদে ফেলে এ পর্যন্ত কয়েক লাখ টাকা হাতিয়ে নিয়েছে তারা। চক্রটি রিয়েল হস্তান্তরের জন্য বিভিন্ন শপিংমল কিংবা জনবহুল জায়গা ঠিক করত, যেন টাকা নিয়ে দ্রুত কেটে পড়তে পারে।

সারওয়ার বিন কাশেম আরও বলেন, আবু শেখ এই চক্রের মূল হোতা। তার নেতৃত্বে দীর্ঘদিন ধরে চক্রটি অভিনব পন্থায় প্রতারণা চালিয়ে আসছিল।