গ্যাসের মূল্য বৃদ্ধির প্রস্তাব অযৌক্তিক ও বেআইনি উল্লেখ করে বিএনপির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী বলেছেন, গ্যাসের দাম বৃদ্ধির প্রস্তাব কার্যকর করা হলে আন্দোলনের কর্মসূচি দেওয়া হবে।
শুক্রবার নয়াপল্টনে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ কথা বলেন। এর আগে গত বুধবার রাতে বিএনপি চেয়ারপারসনের গুলশানের রাজনৈতিক কার্যালয়ে দলটির স্থায়ী কমিটির বৈঠকে গ্যাসের মূল্যবৃদ্ধি নিয়ে আলোচনা হয়। সেখানে সিদ্ধান্ত হয় সরকারের গ্যাসের দাম বাড়ালে বিএনপির পক্ষ থেকে কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে। এছাড়া জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের আহ্বায়ক ও গণফোরাম সভাপতি ড. কামাল হোসেন ইতিমধ্যেই সরকারকে হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছেন, গ্যাসের মূল্য বৃদ্ধি করা হলে কর্মসূচি দেওয়া হবে।
রিজভী অভিযোগ করে বলেন, সাধারণ মানুষের পেটে ছুরি মারতে সরকার আবারও গ্যাসের মূল্য বৃদ্ধির পাঁয়তারা করছে। শুধুমাত্র লুটপাটের জন্য বেআইনিভাবে গ্যাসের মূল্য শতকরা ১০৩ ভাগ বৃদ্ধির প্রস্তাব করা হয়েছে। সরকারের এই উদ্যোগ বেআইনি ও মনুষ্যত্বহীন পদক্ষেপ।
সরকারের উদ্দেশ্যে তিনি বলে, গ্যাসের মূল্য বৃদ্ধির গণবিরোধী সিদ্ধান্ত থেকে সরকারকে দূরে সরে আসতে হবে। অন্যথায় রাজপথে তীব্র আন্দোলন গড়ে তোলা হবে।
গত ১০ বছরে গ্যাসের দাম ছয়বার বাড়ানো হয়েছে দাবি করে রিজভী বলেন, বিইআরসি আইন অনুযায়ী কোনো অর্থবছরে একবারের বেশি ট্যারিফ পরিবর্তন করার সুযোগ নেই। কিন্তু তিন মাসের ব্যবধানে আবার পাইকারি গ্যাসসহ সঞ্চালন ও বিতরণ সেবার মূল্যহার পরিবর্তনের প্রস্তাব করা হয়েছে।
তিনি বলেন, গ্যাসের মূল্য বৃদ্ধি করা হলে মাশুল দিতে হবে সাধারণ মানুষকে। এর ফলে কল কারাখানার বিকাশ বাধাগ্রস্ত হবে, বেকারত্ব বাড়বে। পরিবহন ব্যবসায়ী বাড়াবে ভাড়া। সব মিলিয়ে বাড়বে জীবনযাত্রার ব্যয়।
সংবাদ সম্মেলনে রিজভী অবিলম্বে খালেদা জিয়ার নিঃশর্ত মুক্তির দাবি জানিয়ে বলেন, বৃহস্পতিবার মার্কিন স্টেট ডিপার্টমেন্টের বাৎসরিক মানবাধিকার বিষয়ক প্রতিবেদনে যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেছেন, খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে বাংলাদেশের সরকার দুর্নীতির শক্ত প্রমাণ উপস্থাপন করতে ব্যর্থ হয়েছে। শুধুমাত্র রাজনৈতিক কারণে বন্দী করে রাখা হয়েছে বিএনপির চেয়ারপারসনকে।
তিনি বলেন, প্রতিবেদনে প্রমাণিত হলো, শেখ হাসিনার নির্দেশেই বিএনপি চেয়ারপারসনকে মিথ্যা মামলায় সাজা দেওয়া হয়েছে। তার জামিন নিয়ে টালবাহানা করছে, তাকে চিকিৎসা সেবা থেকে বঞ্চিত করা হচ্ছে। এমনকি খালেদা জিয়ার সঙ্গে পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করতেও দেওয়া হচ্ছে না।
সংবাদ সম্মেলনে অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন, চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা কাউন্সিলের সদস্য আব্দুস সালাম, কেন্দ্রীয় নেতা শামসুজ্জোহা খান, মোস্তাক মিয়া প্রমুখ।